২০ লাখ নথি যাচাইয়ে অ্যামাজনের ১০০ আইনজীবী নিয়োগের দরকার ছিল

কানাডার ফেডারেল কোর্ট অ্যামাজন কানাডার বিরুদ্ধে চলমান সম্ভাব্য প্রতিযোগিতাবিরোধী কার্যক্রম সম্পর্কিত তদন্তের প্রক্রিয়ায় সময়সীমা পরিপালন না হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে

কানাডার ফেডারেল কোর্ট অ্যামাজন কানাডার বিরুদ্ধে চলমান সম্ভাব্য প্রতিযোগিতাবিরোধী কার্যক্রম সম্পর্কিত তদন্তের প্রক্রিয়ায় সময়সীমা পরিপালন না-হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা পূরণ করতে হলে অ্যামাজনের কমপক্ষে ১০০ জন আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে নথি পর্যালোচনার কাজ পরিচালনা করা উচিত ছিল।

ফেডারেল কোর্টের প্রধান বিচারপতি পল ক্র্যাম্পটন তার রুলিংয়ে উল্লেখ করেন, তদন্তে অ্যামাজনকে মোট ২২ লাখ ৫০ হাজার নথি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হতো যা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত শ্রমসাধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। বিচারপতির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন আইনজীবী যদি সপ্তাহে পাঁচ দিন, প্রতিদিন দশ ঘণ্টা কাজ করেন এবং প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৩০টি নথি পর্যালোচনা করতে পারেন, তাহলে সর্বোচ্চ ২২,৫০০ নথি তিনি হাতে নিতে সক্ষম হবেন। এই হিসাব অনুযায়ী, ১০০ জন আইনজীবী একসঙ্গে কাজ করলেও অন্তত ১৫ সপ্তাহ সময় লাগত পুরো নথি বিশ্লেষণ শেষ করতে। বিচারপতি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ৯০ বা ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয়।”

- Advertisement -

রুলিংয়ে বিচারপতি ক্র্যাম্পটন অ্যামাজনের পক্ষ থেকে নথি উপস্থাপনের সময় বাড়ানোর আবেদনও বিবেচনা করেন এবং গণনাভিত্তিক বাস্তবতা বিবেচনায় সময়সীমা বৃদ্ধি অনুমোদন করেন। তিনি মন্তব্য করেন, আদালতের পূর্ববর্তী সময়সীমা এত বিশাল ডকুমেন্টারি কাজের ক্ষেত্রে যথার্থ ছিল না।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কানাডার কম্পিটিশন ব্যুরো অ্যামাজনের ‘মার্কেটপ্লেস ফেয়ার প্রাইসিং পলিসি’ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়। ব্যুরোর অভিযোগ নীতিটি ভোক্তাদের উচ্চমূল্যে পণ্য কিনতে বাধ্য করছে কি না, এবং কম দামে পণ্য বিক্রি করা বিক্রেতাদের বাজারে প্রবেশ বা টিকে থাকার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে কি না তা খতিয়ে দেখতে চায় তারা। ব্যুরো মনে করে, অ্যামাজনের মূল্যনীতির কারণে প্রতিযোগিতার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা বাজারব্যবস্থা ও ভোক্তা স্বার্থের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ধরনের বড় আকারের মার্কেট ইকোসিস্টেমে কাজ করা প্রযুক্তি কোম্পানির নীতি পরীক্ষা করতে গিয়ে বিপুল ডকুমেন্ট জোগাড় এবং যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়ে। এই তদন্তে অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নীতি, অ্যালগরিদমের ব্যবহার, মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি এবং তৃতীয় পক্ষ বিক্রেতাদের সঙ্গে শর্তাদিসহ বিস্তৃত ডেটা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ফলে নথি পর্যালোচনার দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবে অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে বলে আদালতও ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিচারপতি ক্র্যাম্পটন তার রুলিংয়ে বিবেচনা করেন যে অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি মন্তব্য করেন প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনজীবী নিয়োগ করলে নথিপর্যালোচনা দ্রুতই সম্পন্ন করা সম্ভব হতো।

ফেয়ার প্রাইসিং নীতির মাধ্যমে অ্যামাজন প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণ করেছে কি না সে বিষয়ে তদন্ত এগিয়ে চলেছে। আদালতের নতুন সময়সীমা অনুযায়ী নথি পর্যালোচনা ও উপস্থাপন সম্পন্ন হলে তদন্তের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।

- Advertisement -

Read More

Recent