
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য নির্মাতা ক্রাফট হেইঞ্জ দুই দশক আগে একীভবনের মাধ্যমে বৈশ্বিক খাদ্যশিল্পে যে শক্ত অবস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়েছিল, তা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তে এসে এখন আবার দুটি কোম্পানিতে বিভক্ত হতে চলেছে। গত মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কৌশলগত পর্যালোচনা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় অবশেষে প্রকাশ্য হলো এ বিভক্তির পরিকল্পনা।
ক্রাফট হেইঞ্জের পুনর্গঠন শেষে তাদের ব্র্যান্ড পোর্টফোলিও দুই আলাদা কোম্পানিতে ভাগ হয়ে যাবে।
১. গ্লোবাল টেস্ট এলিভেশন কোম্পানি
এই কোম্পানির অধীনে থাকবে শেফ টেবিল মিলস, হেইঞ্জ, ফিলাডেলফিয়া ক্রিম চিজ এবং ক্রাফট ম্যাক অ্যান্ড চিজ। উচ্চমানের স্বাদ, আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত সম্প্রসারণ এবং প্রিমিয়াম পণ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে এই ইউনিটের মূল লক্ষ্য।
২. নর্থ আমেরিকান গ্রোসারি কোম্পানি
এই কোম্পানির অধীনে থাকবে অস্কার মেয়ার, ক্রাফট সিঙ্গেলস, লাঞ্চেবলস। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বৃহত্তর বাজারকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী গ্রোসারি পণ্যগুলোর উন্নয়ন ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনা করবে এই ইউনিট। উভয় কোম্পানির আনুষ্ঠানিক নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
ক্রাফট হেইঞ্জের নির্বাহী চেয়ার মিগুয়েল প্যাট্রিসিও জানিয়েছেন, “আমাদের ব্র্যান্ডগুলো নিঃসন্দেহে আইকনিক। কিন্তু বর্তমানে কোম্পানির কাঠামো এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে সঠিকভাবে পুঁজি বরাদ্দ, উদ্যোগগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সম্ভাবনাময় অঞ্চলে কার্যক্রম বিস্তার সবই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” অর্থাৎ, দীর্ঘদিনের জটিল সাংগঠনিক কাঠামো ব্যবসার গতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। এ কারণেই ব্র্যান্ডগুলিকে নতুন করে দুই দিকনির্দেশনায় ভাগ করে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্রাফট ও হেইঞ্জের যাত্রা এক হয় ২০১৩ সালে, যখন বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট এবং ব্রাজিলের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রিজি ক্যাপিটাল যৌথভাবে এইচ.জে. হাইঞ্জ কোম্পানিটি অধিগ্রহণ করেন। মোট ২৩ বিলিয়ন ডলারের সেই চুক্তি ছিল সেই সময় খাদ্যপণ্য শিল্পের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অধিগ্রহণগুলোর একটি। এরপর ক্রাফটের সঙ্গে একীভবনের মাধ্যমে তৈরি হয় বর্তমান দ্যা ক্রাফট হাইঞ্জ কোম্পানি, যা বৈশ্বিক খাদ্যশিল্পে দ্রুতই একটি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়।
এই পরিবর্তন কানাডার কর্মসংস্থানে কী প্রভাব ফেলতে পারে সেই প্রশ্নে গ্লোবাল নিউজ ক্রাফট হেইঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমন বড় ধরনের কর্পোরেট পুনর্গঠনের ফলে কর্মীসংখ্যা, উৎপাদন ইউনিট, বাজার কৌশলসহ একাধিক দিকেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে। বিশেষত কানাডায় যেহেতু কোম্পানিটির উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে, সেখানে কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এইচ. জে. হেইঞ্জ ১৮৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে প্রতিষ্ঠিত হয়। ছোট এক টমেটো-ভিত্তিক পণ্য ব্যবসা থেকে শুরু করে আজ বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ হেইঞ্জের পণ্য ব্যবহার করে। সেই প্রতিষ্ঠানই আজ আবার বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
