মিকমাক গ্রুপের অনুকূলে পুনরায় ফিশিং লাইসেন্স ইস্যু করছে অটোয়া

নুনাভাটের ইনুইট জনগোষ্ঠীর তীব্র আপত্তি ও আইনি লড়াই সত্ত্বেও আটলান্টিক কানাডার মিকম্যাক ফার্স্ট নেশন জোটের অনুকূলে পুনরায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ফিশিং লাইসেন্স ইস্যুর প্রস্তাব করছে কানাডার ফেডারেল সরকার

নুনাভাটের ইনুইট জনগোষ্ঠীর তীব্র আপত্তি ও আইনি লড়াই সত্ত্বেও আটলান্টিক কানাডার মিকম্যাক ফার্স্ট নেশন জোটের অনুকূলে পুনরায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ফিশিং লাইসেন্স ইস্যুর প্রস্তাব করছে কানাডার ফেডারেল সরকার। আদালতের রায়ে পূর্ববর্তী ইস্যুটি বাতিল হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্র–প্রাদেশিক সম্পর্ক, আদিবাসী অধিকার এবং সামুদ্রিক সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

২০২১ সালে নুনাভাট টানগাভিক ইনকর্পোরেশন এবং কিকিকটানি ইনুইট অ্যাসোসিয়েশন ফেডারেল আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। তারা যুক্তি দেয় যে, বাফিন আইল্যান্ড উপকূলবর্তী এলাকায় মাছ ধরার যেসব লাইসেন্স ক্লিয়ারওয়াটার ফুডসের কাছে ছিল, সেগুলো সাতটি মিকম্যাক ফার্স্ট নেশনের জোটকে পুনরায় ইস্যু করার সিদ্ধান্ত কানাডার মৎস্য ও মহাসাগর বিভাগ নুনাভাট চুক্তির শর্ত পূরণ না করেই নিয়েছে।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ক্লিয়ারওয়াটার ফুডসকে যৌথভাবে কিনে নেয় একটি ব্যবসায়ী অংশীদারিত্ব, যেখানে বড় অংশীদার ছিল মিকম্যাক ফার্স্ট নেশন জোট। কোম্পানি বিক্রির অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক মাছ ধরার লাইসেন্সগুলোর মালিকানা স্থানান্তরের পরিকল্পনা সামনে আসে। কিন্তু ইনুইট সংগঠনগুলো দাবি করে, নুনাভাটের ল্যান্ড ক্লেইমস এগ্রিমেন্ট–এ বাণিজ্যিক ফিশিং লাইসেন্স বরাদ্দে উত্তরাঞ্চলের ইনুইটদের স্বার্থকে “বিশেষ বিবেচনা” দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা আছে, তা লঙ্ঘন হয়েছে। আদালত পরবর্তীতে ইনুইটদের পক্ষে রায় দিয়ে লাইসেন্স বাতিল ঘোষণা করে।

মামলায় ইনুইট সংগঠনগুলো স্পষ্টভাবে জানায় যে নুনাভাট উপকূলে ধরা মাছের ক্ষেত্রে স্থানীয় ইনুইট মৎস্যজীবীরা মোট কোটা হিসেবে পাচ্ছে মাত্র ৫০ শতাংশের মতো যা তারা ‘অন্যায়ভাবে কম’ বলে অভিহিত করেছে। তুলনামূলকভাবে, আটলান্টিক প্রদেশগুলোর মৎস্যজীবীরা নিজেদের উপকূলে প্রায় ৯০ শতাংশ কোটা ভোগ করেন।

ট্রুডো সরকার এবং ফিশারিজ বিভাগও স্বীকার করেছে যে এই বৈষম্য দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। ইনুইটদের দাবি, বাণিজ্যিক লাইসেন্স বরাদ্দে সমতার ভিত্তিতে তাদের অংশ বৃদ্ধি করা উচিত, কারণ এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক টিকে থাকার সঙ্গে জড়িত।

ফেডারেল সরকারের বক্তব্য ভিন্ন। অটোয়া জানিয়েছে, ক্লিয়ারওয়াটার ক্রয়ের সুযোগ ইনুইট সংগঠনগুলোর সামনেও খোলা ছিল। এমনকি ক্রয়ের আমন্ত্রণও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। সরকারের দাবি, বাজার কাঠামোর মধ্যে থেকে সবচেয়ে সক্ষম এবং আগ্রহী অংশীদারিত্বই কোম্পানিটি কিনেছে, এবং সেই প্রক্রিয়ায় নুনাভাট চুক্তির বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করা হয়নি।

আদালতের রায়ের পরও ফেডারেল সরকার এখন লাইসেন্সটি আবারও মিকম্যাক ফার্স্ট নেশন জোটের পক্ষেই ইস্যু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকার বলছে, সংশোধিত প্রক্রিয়ায় এবার আইনি বাধ্যবাধকতাগুলো আরও সতর্কভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তবে ইনুইট নেতৃত্বের অভিযোগ “অটোয়া শুনছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে মানছে না।” তাদের মতে, লাইসেন্স ইস্যু নীতি পুনরায় সাজানো উচিত, যাতে নুনাভাট উপকূলে সম্পদের মালিক হিসেবে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ন্যায্য অংশ পায়।

এই ইস্যু এত গুরুত্বপূর্ণ তার কারণ হল – ১) অর্থনৈতিক স্বার্থ: বাফিন আইল্যান্ডের জলে বাণিজ্যিক মাছ ধরার মূল্য বছরে কোটি কোটি ডলার। ২) আদিবাসী অধিকার: জমি ও সম্পদের মালিকানা সংক্রান্ত আদিবাসী চুক্তি কানাডার আইন ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবং ৩) রাজনৈতিক সম্পর্ক: ইনুইট ও ফার্স্ট নেশনদের মধ্যে স্বার্থ–সংঘাত নতুন নয়, তবে এটি জাতীয় পর্যায়ে জটিলতা তৈরি করছে।

এই পরিস্থিতির প্রভাবে ইনুইটরা চাইছে আরও বেশি কোটা এবং ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। মিকম্যাক ফার্স্ট নেশন মনে করছে তারা বৈধভাবে একটি কোম্পানি কিনেছে, তাই লাইসেন্স পাওয়া তাদের অধিকার। ফেডারেল সরকারের উপর চাপ বাড়ছে দুই পক্ষের স্বার্থ সমন্বয় করার জন্য।

ফলাফল কী দাঁড়াবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে স্পষ্ট উত্তর কানাডার সামুদ্রিক সম্পদ বণ্টন নিয়ে বিতর্ক আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে, এবং এর প্রভাব রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent