
চাঁদাবাজি-সংশ্লিষ্ট অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় কানাডার অন্টারিও প্রদেশের ব্র্যাম্পটন সিটি ও আশপাশের পিল রিজিয়নে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রাদেশিক ও ফেডারেল সরকারের সহায়তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন ব্র্যাম্পটনের মেয়র প্যাট্রিক ব্রাউন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে। ক্যালেডনের বাসিন্দা রণবীর মান্দ ওমনি নিউজকে জানান, গভীর রাতে নিজের বাড়িতে গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তাঁর। তিনি বলেন, “কী ঘটছে সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমার সন্তানরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।”
এই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগেই পৃথক আরেকটি গুলির ঘটনায় মান্দের পারিবারিক রেস্তোরাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। মান্দের দৃঢ় বিশ্বাস, চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যেই তাঁর পরিবারকে টার্গেট করা হয়েছে। তিনি ওমনি নিউজকে দেখান একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা, যেখানে ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির ভাষা স্পষ্ট।
রণবীর মান্দ জানান, “প্রায় তিন মাস আগে তারা আমাদের কাছে ৩০ লাখ ডলার মুক্তিপণ দাবি করে। তখন তারা বলেছিল ‘আমরা জানি তোমার কাছে যথেষ্ট টাকা আছে। কীভাবে সেটা আদায় করতে হয়, আমরা জানি।’”
পিল রিজিয়নে চলতি বছর চাঁদাবাজি সংক্রান্ত মোট ৪৩৬টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে মান্দের ঘটনাটিও রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই অভিযোগগুলো জমা পড়ে। যদিও সংখ্যাটি ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম সেবার অভিযোগ ছিল ৪৯০টি তবে ২০২৩ সালের তুলনায় পরিস্থিতি অনেক বেশি উদ্বেগজনক। কারণ, ২০২৩ সালে চাঁদাবাজির ঘটনা ছিল ৩১৯টি, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এই অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, একই সময়ে পিল রিজিয়নে ৪৮১টি সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনাও রিপোর্ট হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ব্র্যাম্পটনের সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষে এককভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই প্রাদেশিক ও ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত সম্পদ, গোয়েন্দা সহায়তা এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংগঠিত অপরাধচক্রের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় চাঁদাবাজির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
