পূর্ণাঙ্গ কমিশন পরিশোধের দাবিতে রিয়েলটরদের সমাবেশ

কমিশন পাওনা থাকা কয়েক ডজন রিয়েলটর মঙ্গলবার অন্টারিওর আইনসভা ভবন কুইনস পার্কে জড়ো হন

কমিশন পাওনা থাকা কয়েক ডজন রিয়েলটর মঙ্গলবার অন্টারিওর আইনসভা ভবন কুইন’স পার্কে জড়ো হন। অন্টারিওর অন্যতম বৃহৎ রিয়েল এস্টেট ব্রোকারেজ আইপ্রো রিয়েলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নিজেদের ন্যায্য কমিশন আদায়ের আশায় তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এ সমাবেশে অংশ নেন।

গত বছরের আগস্টে আইপ্রো রিয়েলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়, যখন কোম্পানির ট্রাস্ট অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের ঘাটতি ধরা পড়ে। এই ট্রাস্ট অ্যাকাউন্টে সাধারণত ক্রেতা-বিক্রেতার জমাকৃত অর্থের পাশাপাশি এজেন্টদের কমিশনের অর্থও সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু বিপুল অর্থের অনিয়ম প্রকাশ্যে আসার পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হলেও, হাজার হাজার রিয়েলটর আজও তাদের প্রাপ্য কমিশন পাননি।

- Advertisement -

ব্রোকার জিমি ঘিমেরি জানান, তিনি একাই ২ লাখ ডলারের বেশি অর্থ হারিয়েছেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী কে? আমার পরিবার। আমি এভাবে একটি বছর শুরু করতে চাইনি।”

এই ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের সম্মিলিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩ কোটি ডলার। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক রিয়েলটর সিটিনিউজকে জানিয়েছেন, তারা নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন শুধু ব্রোকারেজের দ্বারা নয়, বরং খাতটির নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারাও।

রিয়েলটরদের অভিযোগ, অন্টারিওর রিয়েল এস্টেট খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা রিয়েল এস্টেট কাউন্সিল অব অন্টারিও (রেকো) তাদের সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। নিয়মিত তদারকি ও আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হলে এমন বিপর্যয় এড়ানো যেত বলে তাদের দাবি।

হাম্বার রিভার–ব্ল্যাক ক্রিক এলাকার প্রাদেশিক সংসদ সদস্য টম পাকোসেভিচ বলেন, “এ ধরনের ঘটনা যেন কখনোই না ঘটে, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থার। কিন্তু তা সত্ত্বেও এসব ঘটেছে সরকারের চোখের সামনেই।”

এদিকে, এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রদেশের আবাসন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে গুরুতর সমস্যার কথা উঠে আসার পর ফোর্ড সরকার রেকোর ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। নিরীক্ষায় আইপ্রো রিয়েলটির বিষয়টি যথাযথভাবে সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হয়।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত মে মাসেই আইপ্রো রিয়েলটির ট্রাস্ট অ্যাকাউন্টে প্রায় ১ কোটি ডলারের ঘাটতি ধরা পড়েছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, রেজিস্ট্রার প্রায় তিন মাস ধরে কোম্পানির অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করেননি কিংবা কঠোর তদারকির আওতায় আনেননি। এই বিলম্বই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুইন’স পার্কে সমবেত রিয়েলটরদের দাবি, সরকারকে এখনই হস্তক্ষেপ করে তাদের পূর্ণ কমিশন পরিশোধের পথ তৈরি করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থায় কঠোর সংস্কার আনতে হবে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এটি শুধু আর্থিক ক্ষতির প্রশ্ন নয় বরং পুরো রিয়েল এস্টেট খাতের ওপর আস্থার সংকটের বিষয়।

- Advertisement -

Read More

Recent