
কানাডার বৃহৎ এয়ারলাইনগুলো যাত্রী অধিকার সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিষয়টি ঘিরে দেশটির আদালতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে কানাডিয়ান ট্রান্সপোর্টেশন এজেন্সি (সিটিএ) যাত্রীদের অভিযোগের ওপর যে রায় দেয়, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে কি না।
এই মামলায় হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে এয়ার কানাডা, ওয়েস্টজেট, এয়ার ট্রানসাট এবং জ্যাজ এভিয়েশনসহ একাধিক বড় এয়ারলাইনের প্রতিনিধিত্বকারী শিল্প সংগঠন চলতি সপ্তাহে আদালতে নথি দাখিল করেছে। অন্যদিকে, যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিটিএর সিদ্ধান্ত ও অভিযোগের ফলাফল জনসাধারণের জানার অধিকার রয়েছে।
২০২৩ সাল থেকে কানাডায় একটি নতুন অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া কার্যকর রয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব, ভ্রমণ সুবিধা না পাওয়া কিংবা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়। তবে এই নিয়ম অনুযায়ী, অভিযোগের ফলাফল বা রায় জনসমক্ষে প্রকাশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যাত্রী ও এয়ারলাইন উভয় পক্ষ একসঙ্গে গোপনীয়তা প্রত্যাহারে সম্মত না হলে এসব তথ্য প্রকাশ করা যায় না।
যাত্রী অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এই গোপনীয়তা যাত্রীদের স্বার্থের পরিপন্থী। তাদের মতে, রায়গুলো প্রকাশ না হলে অন্য যাত্রীরা জানতে পারেন না কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে, ফলে একটি নজিরভিত্তিক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে না।
এয়ারলাইনগুলো আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলেছে, অভিযোগ সংক্রান্ত মামলাগুলোতে প্রায়ই সংবেদনশীল তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। এসব তথ্য প্রকাশ পেলে ক্যারিয়ারদের বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে যাত্রী ও কর্মীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এয়ারলাইন শিল্পের প্রতিনিধিদের আশঙ্কা, যদি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত যোগাযোগ বা পরিচালনমূলক মূল্যায়ন জনসমক্ষে চলে আসে, তাহলে কর্মীরা ভবিষ্যতে সমস্যা বা ত্রুটি রিপোর্ট করতে দ্বিধাগ্রস্ত হতে পারেন। এতে স্বতঃপ্রণোদিত রিপোর্টিং সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিমান নিরাপত্তার জন্যও নেতিবাচক হতে পারে।
ন্যাশনাল এয়ারলাইন্স কাউন্সিল অব কানাডার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেফ মরিসন এক ইমেইল বিবৃতিতে বলেন, “এয়ারলাইন্সের গোপন ও সংবেদনশীল তথ্য সামনে না এলে সিটিএর সিদ্ধান্ত প্রকাশে আমাদের আপত্তি নেই।” তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, এয়ারলাইনগুলো পুরোপুরি স্বচ্ছতার বিরোধিতা করছে না; বরং তারা এমন একটি সীমারেখা চায় যেখানে সিদ্ধান্তের সারমর্ম জানা যাবে, কিন্তু বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য সুরক্ষিত থাকবে।
এই মামলার রায় কানাডার বিমান যাত্রী অধিকার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। আদালত যদি যাত্রী সংগঠনগুলোর পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে সিটিএর রায় ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ফলাফল ভবিষ্যতে আরও বেশি স্বচ্ছভাবে প্রকাশিত হতে পারে। আর যদি এয়ারলাইনগুলোর যুক্তি গ্রহণ করা হয়, তাহলে গোপনীয়তার বর্তমান কাঠামোই বহাল থাকবে।যাত্রী অধিকার, স্বচ্ছতা এবং এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ এই তিনের ভারসাম্য কোথায় দাঁড়াবে, সেটিই এখন কানাডার আদালতের সামনে মূল প্রশ্ন।
