গবেষণা কার্যক্রম ছোট করছে এগ্রিকালচার অ্যান্ড এগ্রি-ফুড কানাডা

ফেডারেল বিভাগটি জানিয়েছে অন্টারিওর গুয়েল্ফ কুইবেক সিটি এবং আলবার্টার লাকোম্বে অবস্থিত গবেষণা কেন্দ্রগুলো বন্ধের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে

কানাডার ফেডারেল সরকারের সরকারি সেবার আকার ছোট করে আনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এগ্রিকালচার অ্যান্ড এগ্রি-ফুড কানাডা (এএএএফসি) তাদের সাতটি গবেষণা কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির কৃষি ও খাদ্য গবেষণা খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফেডারেল বিভাগটি জানিয়েছে, অন্টারিওর গুয়েল্ফ, কুইবেক সিটি এবং আলবার্টার লাকোম্বে অবস্থিত গবেষণা কেন্দ্রগুলো বন্ধের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া নোভা স্কশিয়া, সাস্কেচুয়ান ও ম্যানিটোবার চারটি স্যাটেলাইট গবেষণা ফার্মও বন্ধ করে দেওয়া হবে। এসব কেন্দ্র ও ফার্ম দীর্ঘদিন ধরে কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু-উপযোগী কৃষি ব্যবস্থার ওপর গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।

- Advertisement -

কর্মী সংকোচনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিভাগটির প্রায় ৬৬৫টি পদ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় এক হাজার ৫০ জন কর্মী বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ছাঁটাইয়ের নোটিস পেয়েছেন। এই পদক্ষেপে বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা প্রভাবিত হচ্ছেন।

শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এএএএফসি জানিয়েছে, কোনো গবেষণা সাইট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হচ্ছে না। বিভাগটির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া হয় এবং একটি সাইট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ কারণে কর্মীবাহিনীর ওপর চূড়ান্ত প্রভাব কী হবে, তা এখনই নিরূপণ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।

বিভাগটি আরও বলেছে, অন্যান্য ফেডারেল বিভাগের মতোই তাদের ক্ষেত্রেও আগামী তিন বছরের জন্য অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণের পর এই কর্মী ছাঁটাই ও কাঠামোগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা তাদের ‘মূল দায়িত্ব ও অগ্রাধিকারের’ ওপর মনোযোগ ধরে রাখার কথা জানিয়েছে।

এ বিষয়ে শনিবার জানতে চাওয়া হলে গুয়েল্ফ, কুইবেক সিটি ও লাকোম্বের গবেষণা কেন্দ্রগুলো তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে লাকোম্ব কাউন্টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফেডারেল সরকারের এই সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, সরকারের লাকোম্ব গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষি খাতের জন্য ক্ষতিকর হবে। কাউন্টি কর্তৃপক্ষ অটোয়ার প্রতি এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, গুয়েল্ফ রিসার্চ সেন্টার তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত গবেষণা ও উন্নয়নে তাদের কাজ কানাডায় একটি লাভজনক ও টেকসই এগ্রি-ফুড খাত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। একইভাবে কুইবেক সিটির গবেষণা কেন্দ্রটি ঠান্ডা ও আর্দ্র জলবায়ুসহ প্রতিকূল পরিবেশে কৃষি খাতকে কীভাবে টেকসই রাখা যায়, সে বিষয়ে গবেষণায় বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়ে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলে নতুন কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কানাডা দীর্ঘমেয়াদে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে সরকার বলছে, বাজেট নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক সংস্কারের স্বার্থেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

- Advertisement -

Read More

Recent