কানাডিয়ান সৈন্যদের অবদান কখনো ভোলা যাবে না: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আফগানিস্তান ও ন্যাটো জোটের বিভিন্ন অভিযানে কানাডীয় সেনাদের আত্মত্যাগ কোনোদিন বিস্মৃত হবে না এমন মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিনটি

আফগানিস্তান ও ন্যাটো জোটের বিভিন্ন অভিযানে কানাডীয় সেনাদের আত্মত্যাগ কোনোদিন বিস্মৃত হবে না এমন মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিনটি। তবে ন্যাটো জোটে মিত্র দেশগুলোর অবদান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য তিনি ক্ষমা চাইবেন কি না, সে বিষয়ে ম্যাকগিনটি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তানে যেদিন আন্তর্জাতিক অভিযান শুরু হয়েছিল, সেদিন থেকেই কানাডা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা শুধু পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি জানাইনি, বরং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের সেনাবাহিনীর ১৫০ জনেরও বেশি সদস্য চূড়ান্ত আত্মত্যাগ করেছেন। কানাডা ও ন্যাটোর জন্য তারা যা করেছেন, তা কোনোদিন ভুলে যাওয়ার নয়।”

- Advertisement -

ম্যাকগিনটির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো জোটের মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা দেশগুলোর সেনাদের কখনোই প্রকৃত অর্থে প্রয়োজন হয়নি। তার ভাষায়, “আমরা তাদের কাছে কখনো কিছু চাইনি। তারা বলে যে তারা আফগানিস্তানে কিছু সৈন্য পাঠিয়েছে। হ্যাঁ, তারা পাঠিয়েছে, কিন্তু তারা পেছনে ছিল সম্মুখ সারিতে নয়।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্য ন্যাটো মিত্র দেশগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে কানাডায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে, কারণ আফগানিস্তান মিশনে দেশটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।

তবে ম্যাকগিনটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি। এ সময় তিনি জানান, লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্যরা হাউজ অব কমন্সের অধিবেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সে কারণেই তিনি বিষয়টি নিয়ে সীমিত মন্তব্য করছেন। সাংবাদিকরা জানতে চান, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জন্য তার ক্ষমা চাওয়া উচিত কি না। কিন্তু এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

এর পরিবর্তে তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে খোলাখুলি ও স্পষ্টভাবে বলতে চাই কানাডিয়ান সৈন্য, নাবিক ও এভিয়েটরদের অঙ্গীকার এবং আত্মত্যাগের সঙ্গে কারো তুলনা চলে না।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পর কানাডার ভূমিকার কথা। টুইন টাওয়ারে হামলার পরপরই কানাডা ‘অপারেশন ইয়েলো রিবন’ শুরু করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিমানে থাকা হাজারো যাত্রীকে নিজেদের দেশে আশ্রয় দেয়। একই সঙ্গে কোনো ধরনের বিলম্ব না করে কানাডীয় দমকলকর্মীরা নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের উদ্দেশে রওনা হন উদ্ধারকাজে অংশ নিতে।

ম্যাকগিনটি আরও জানান, ওই ভয়াবহ হামলার ঘটনায় ২৪ জন কানাডীয় নাগরিক প্রাণ হারান। তার মতে, এসব ঘটনাই প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক সংকটে কানাডা সবসময় তার মিত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দাঁড়াবে।

ন্যাটো জোটে মিত্র দেশগুলোর অবদান নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কানাডার এই অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কানাডীয় সেনাদের আত্মত্যাগ কোনো রাজনৈতিক বিতর্কে খাটো করা যাবে না, এবং সেই ত্যাগ জাতি হিসেবে কানাডা চিরদিন স্মরণ করবে।

- Advertisement -

Read More

Recent