
আগামী সপ্তাহে সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার প্রাক্কালে কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কনজারভেটিভ নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভর। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এই অধিবেশন থেকে বাস্তব ও দৃশ্যমান ফলাফল আসে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে কনজারভেটিভরা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
চিঠিতে পয়লিয়েভর বলেন, লিবারেল সরকার যদি আইন প্রণয়ন ও নীতিগত সংস্কারে এগোতে চায়, তবে কনজারভেটিভরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ বা দ্রুত প্রক্রিয়া গ্রহণে তিনি সহায়তার প্রস্তাব দেন। তাঁর ভাষায়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে কানাডার জন্য নতুন বাজার ও বাণিজ্য অংশীদার অত্যন্ত জরুরি।
শুধু বাণিজ্য নয়, অভ্যন্তরীণ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কনজারভেটিভ নেতা। এর মধ্যে রয়েছে গ্রোসারি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, জামিন ব্যবস্থার সংস্কার এবং বৃহৎ অবকাঠামো ও শিল্প প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদন। পয়লিয়েভর উল্লেখ করেন, এসব বিষয়ে অচলাবস্থা কাটাতে সরকার চাইলে বিরোধী দল গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, দ্বিদলীয় প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে কনজারভেটিভ ককাসের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য সম্ভাব্য বাণিজ্য অংশীদার দেশে সফর করতে প্রস্তুত। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া কানাডার অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব নয়।
তবে সহযোগিতার প্রস্তাবের পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনাও করেছেন পয়লিয়েভর। চিঠির শুরুতেই তিনি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া নিজের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করেন, যা সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভাষণে তিনি বলেন, যে দেশ নিজে খাদ্যের সংস্থান করতে পারে না, জ্বালানি জোগান দিতে পারে না বা নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না তাদের সামনে বিকল্প খুবই সীমিত।
এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই পয়লিয়েভর দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী কার্নির কথাবার্তা বা রেটরিকের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তাঁর অভিযোগ, খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে, জ্বালানি-বিরোধী নীতির ফলে গ্যাসের দাম বেড়েছে এবং কানাডার সামরিক বাহিনী সদস্য সংকট ও প্রয়োজনীয় সম্পদের অভাবে ভুগছে।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে পয়লিয়েভর লেখেন, “আপনি বলেছেন, আপনি এমন গতিতে এগোবেন যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেখা যায়নি। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি ঘাটতি দ্বিগুণ হয়েছে, অথচ প্রকৃত পরিবর্তন খুব সামান্য।” তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ শুধু ভাষণ বা প্রতিশ্রুতি চায় না তারা কাজ চায়। তাঁর ভাষায়, “ভাষণ দিয়ে জনগণকে খাওয়ানো যায় না, ছবি তুলে অপরাধীদের থামানো যায় না। পাইপলাইন বানাতে অনুমতি লাগে, আর উন্নয়নের জন্য দরকার বাস্তব সিদ্ধান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান বা লাল ফিতা নয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চিঠি একদিকে যেমন সরকারকে চাপে রাখার কৌশল, তেমনি অন্যদিকে নিজেদের ‘দায়িত্বশীল বিরোধী দল’ হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা। সংসদ অধিবেশন শুরু হলে লিবারেল ও কনজারভেটিভদের মধ্যে বাস্তব সহযোগিতা হয় নাকি রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয় সেদিকেই এখন নজর কানাডাবাসীর।
