
ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে কানাডার আয়োজক শহরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর ভয়াবহ চাপ পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা। তাঁদের আশঙ্কা, খেলা চলাকালে হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে আগে থেকেই চাপে থাকা হাসপাতাল ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
টরন্টোর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ক্যাথেরিন ভারনার কানাডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আগামী জুন মাসে ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে তিন লাখেরও বেশি ফুটবল ভক্ত টরন্টো ও ভ্যানকুভার শহরে আসার আগেই স্বাস্থ্যব্যবস্থার এই দুর্বলতাগুলো সমাধান করা জরুরি।
যদিও উভয় শহরই অতীতে বড় পরিসরের আন্তর্জাতিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে, তবুও বর্তমান বাস্তবতায় পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় ও প্রাদেশিক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছেন। পাবলিক হেলথ অন্টারিও হাম, খাদ্যবাহিত রোগ এবং সম্ভাব্য কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশ্বকাপ চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দ্রুত শনাক্ত করার লক্ষ্যে টরন্টো ও ভ্যানকুভারে ওয়েস্টওয়াটার সার্ভিল্যান্স বা বর্জ্য পানির মাধ্যমে রোগ নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপুল জনসমাগমের ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ডা. ভারনার জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এমএলবি ওয়ার্ল্ড সিরিজের গেম ১ ও গেম ৭ চলাকালে তিনি জরুরি বিভাগে ট্রমা, অ্যালকোহল ও মাদক-সংক্রান্ত অসুস্থতায় রোগীর সংখ্যা বেড়ে যেতে দেখেছেন। তাঁর ভাষায়, “এটি অপ্রত্যাশিত নয় এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ নথিভুক্ত রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক রোগীর জন্য হাসপাতালের শয্যা নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও জানান, ওই ধরনের একটি বড় খেলার রাতে তাঁর কর্মরত হাসপাতালে মাত্র একটি আইসিইউ শয্যা খালি ছিল। যদি সে সময় কোনো বড় সংকট তৈরি হতো, তাহলে রোগীদের কোথায় পাঠানো যেত সে প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর তাঁর কাছে ছিল না।
সম্ভাব্য ঝুঁকির উদাহরণ হিসেবে ডা. ভারনার সুইজারল্যান্ডে নববর্ষের প্রাক্কালে সংঘটিত এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। ওই ঘটনায় নিকটবর্তী হাসপাতালটি অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় এবং মারাত্মকভাবে দগ্ধ কয়েক ডজন মানুষকে একসঙ্গে জরুরি চিকিৎসা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা চরম চাপে পড়ে।
চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফিফা বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনের আগে হাসপাতালের শয্যা, জরুরি সেবা, জনবল ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সমন্বিত প্রস্তুতি না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এখনই কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ না করা হলে, উৎসবের আনন্দ স্বাস্থ্যখাতে বড় সংকটে রূপ নিতে পারে বলে তাঁরা সতর্ক করেছেন।
