
অন্টারিও প্রদেশের ইঙ্গারসোলে জেনারেল মোটরসের (জিএম) কারখানায় চাকরিচ্যুত কর্মীদের প্রাপ্ত এককালীন আর্থিক সুবিধাকে করমুক্ত করার দাবি নিয়ে ফেডারেল রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভর এ বিষয়ে সরাসরি ফেডারেল অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেইনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে লিবারেল সরকার সেই দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্টারিওর ইঙ্গারসোল এলাকায় অবস্থিত জিএমের ক্যামি অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অর্থনীতির একটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। তবে উৎপাদন কমে আসা ও কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বহু কর্মী ছাঁটাইয়ের মুখে পড়েছেন। এসব কর্মীকে কোম্পানির পক্ষ থেকে এককালীন আর্থিক সুবিধা বা সেভারেন্স প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে।
এই সেভারেন্স অর্থের ওপর নিয়ম অনুযায়ী কর আরোপ করা হবে এমন অবস্থান নিয়েছে ফেডারেল সরকার। কিন্তু বিরোধী কনজারভেটিভরা বলছেন, এমন কঠিন সময়ে কর্মীদের দেওয়া অর্থের ওপর কর আরোপ করা হলে তা হবে অন্যায্য।
কনজারভেটিভ নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভর রোববার অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে দাবি করেন, জিএমের দেওয়া এককালীন সুবিধার ওপর কর আরোপ করলে কর্মীরা বাস্তবে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ হারাবেন। তিনি এটিকে “মড়ার ওপর খাড়ার ঘা” বলে আখ্যা দেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মীরা বহু বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তুলেছেন। তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অন্তত এই দুঃসময়ে সরকার কর আরোপ থেকে বিরত থাকতে পারে। তিনি মনে করেন, সাময়িক কর অব্যাহতি কর্মীদের আর্থিক চাপে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।
পয়লিয়েভরের বক্তব্যে মানবিক দৃষ্টিকোণটি জোরালোভাবে উঠে আসে বিশেষ করে যখন চাকরি হারানোর পর পরিবার চালানো, ঋণ শোধ এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মতো বিষয় সামনে আসে।
অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেইনের কার্যালয় সোমবার এক বিবৃতিতে কনজারভেটিভদের এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে। অর্থমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি জন ফ্রাগোস বলেন, সব ধরনের আয় থেকে কর নেওয়া দীর্ঘদিনের নীতি। চাকরিচ্যুতির ফলে প্রাপ্ত এককালীন সুবিধাও আইনের দৃষ্টিতে আয় হিসেবে বিবেচিত।
সরকারের যুক্তি হলো নির্দিষ্ট একটি খাত বা গোষ্ঠীর জন্য কর অব্যাহতি দিলে ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে সরকারের নীতি প্রণয়নের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অর্থাৎ, একবার ব্যতিক্রম তৈরি হলে তা নজির হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
এছাড়া সরকার কনজারভেটিভদের বিরুদ্ধে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার অভিযোগও তুলেছে। তাদের মতে, এটি একটি দীর্ঘদিনের করনীতি, যা হঠাৎ পরিবর্তন করা সম্ভব নয় এবং তা পার্লামেন্টের বিস্তৃত আলোচনার বিষয়।
এই বিতর্ক কেবল করনীতির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; এটি কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে শ্রমিক ও শিল্পনীতি নিয়ে দলগুলোর অবস্থানও স্পষ্ট করে। কনজারভেটিভরা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে চাইছে, বিশেষত শিল্পাঞ্চলগুলোর ভোটারদের উদ্দেশে। অন্যদিকে, লিবারেল সরকার আর্থিক নীতির ধারাবাহিকতা ও সমতা বজায় রাখার যুক্তি তুলে ধরছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ইস্যু জনমত প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান সংকট বাড়তে থাকলে শ্রমিক-সমর্থনমূলক পদক্ষেপের দাবি আরও জোরালো হতে পারে।
ইঙ্গারসোলের জিএম কর্মীদের এককালীন সুবিধা করমুক্ত করা হবে কি না—এ নিয়ে আপাতত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট: বিদ্যমান করনীতি থেকে সরে আসার ইচ্ছা নেই। তবে বিরোধীদের চাপ এবং জনমতের প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে এই আলোচনাকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।
চাকরিচ্যুত কর্মীদের জন্য এই বিতর্ক কেবল রাজনৈতিক তর্ক নয় এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব আর্থিক সংকটের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই বিষয়টি আগামী দিনগুলোতে কানাডার জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠতে পারে।
