মার্কিন অ্যালকোহল এলসিবিওর তাকের বাইরেই থাকবে: ফোর্ড

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন ট্রাম্পের মন্তব্য সত্ত্বেও প্রাদেশিক মদ বিক্রয় সংস্থা এলসিবিও এর তাক থেকে আমেরিকান লিকার সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসবেন না

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে কানাডা–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য সত্ত্বেও প্রাদেশিক মদ বিক্রয় সংস্থা এলসিবিও-এর তাক থেকে আমেরিকান লিকার সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসবেন না। বরং তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

মঙ্গলবার কুইন’স পার্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফোর্ড বলেন, “এটা অবশ্যই কাজ করছে। এটা উস্কানিমূলক। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটা কাজ করতে পারেন তিনি কানাডিয়ানদের ওপর আরোপিত অন্যায্য শুল্ক তুলে নিতে পারেন।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট, এই সিদ্ধান্তকে তিনি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং কৌশলগত অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছেন।

- Advertisement -

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র কানাডিয়ান পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করলে অন্টারিও সরকার তার জবাবে এলসিবিও থেকে আমেরিকান অ্যালকোহল সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। এলসিবিও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালকোহল ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ফলে এর তাক থেকে মার্কিন লিকার সরিয়ে দেওয়া প্রতীকী পদক্ষেপের চেয়ে বেশি এটি অর্থনৈতিক বার্তাও বহন করে। ফোর্ডের যুক্তি, অন্টারিওর বাজার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হলে তা ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। “আমরা সারা বিশ্বের মধ্যে অ্যালকোহলের অন্যতম বড় ক্রেতা। এটা আমাদের দর-কষাকষির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা,” বলেন তিনি।

এদিকে, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে অন্টারিওর পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, অন্টারিও এমনকি তাদের দোকানে মার্কিন স্পিরিট, বেভারেজ এবং অন্যান্য অ্যালকোহল পণ্য পর্যন্ত রাখেনি যা তার ভাষায় “অন্যায্য”। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের “পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ” না পাওয়া পর্যন্ত অন্টারিওর উইন্ডসর ও যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটের মধ্যে সংযোগকারী গোর্ডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সেতুর অন্তত অর্ধেক মালিকানা থাকা উচিত, কারণ মার্কিন বাজার থেকে যে বিপুল রাজস্ব সৃষ্টি হবে, তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রকেই উপকৃত করবে। “যুক্তরাষ্ট্র কী পাচ্ছে? কিছুই না,” এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে চাপ সৃষ্টির কৌশল দেখা গেলেও ফোর্ডের অবস্থান দৃঢ়। তাকে প্রশ্ন করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের পর তিনি কি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবেন? জবাবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তিনি পিছু হটবেন না। “আমি লোকজনকে পিছু না হটার জন্য উৎসাহিত করব,” বলেন ফোর্ড।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ভেতরে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে সীমান্ত অবকাঠামো যেমন গোর্ডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ কে আলোচনার টেবিলে টেনে আনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। এই সেতু দুই দেশের বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন হয়।

ফোর্ডের পদক্ষেপ মূলত একটি প্রতীকী বার্তা হলেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। এলসিবিওর মতো বৃহৎ ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের বাজার হারানো মার্কিন অ্যালকোহল শিল্পের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সেতু বন্ধের হুমকি বাস্তবায়িত হলে তা দুই দেশের অর্থনীতিতেই বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত পর্যায়ে থাকলেও উভয় পক্ষের বক্তব্যে এক ধরনের দর-কষাকষির ইঙ্গিত স্পষ্ট। ফোর্ড যেখানে শুল্ক প্রত্যাহারকে সমাধানের পথ হিসেবে দেখছেন, সেখানে ট্রাম্প ক্ষতিপূরণ ও মালিকানা ইস্যু সামনে এনে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন।

কানাডা–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ হলেও বাণিজ্যিক স্বার্থের সংঘাতে তা মাঝেমধ্যেই টানাপোড়েনে পড়ে। এলসিবিও বিতর্ক এবং গোর্ডি হাউ ব্রিজ ইস্যু সেই দীর্ঘ ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায় হয়ে উঠছে কিনা এখন সেটিই দেখার বিষয়।

- Advertisement -

Read More

Recent