জাল আইডি তৈরির ল্যাব

কানাডার মন্ট্রিয়লে জাল পরিচয়পত্র ও ব্যাংকিং কার্ড তৈরির একটি সুসংগঠিত চক্রের সন্ধান পেয়েছে কুইবেক প্রভিন্সিয়াল পুলিশ এসকিউ

কানাডার মন্ট্রিয়লে জাল পরিচয়পত্র ও ব্যাংকিং কার্ড তৈরির একটি সুসংগঠিত চক্রের সন্ধান পেয়েছে কুইবেক প্রভিন্সিয়াল পুলিশ (এসকিউ)। প্রাদেশিক পুলিশের দাবি, এই চক্রটি একটি গোপন “ল্যাব” পরিচালনা করে অন্তত ২ হাজার ৪০০ মানুষের ব্যক্তিগত পরিচয় তথ্য চুরি করেছে এবং সেগুলো ব্যবহার করে উন্নতমানের ভুয়া নথি তৈরি করছিল। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ মন্ট্রিয়লের চাবানেল স্ট্রিটে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিনের নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার পর এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছে এসকিউ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল নথি ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে।

- Advertisement -

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ৪২ বছর বয়সী ইভান্স এমিলি, ৩৪ বছর বয়সী রাল্ফ-লাই লাবিডি এবং ২৭ বছর বয়সী আরেক সন্দেহভাজন। তাদেরকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জোলিয়েট কোর্টহাউজে হাজির করার কথা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া নথি তৈরি এবং পরিচয় শনাক্তকারী তথ্য চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযানে প্রায় এক হাজার জাল নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল – জাল ড্রাইভার’স লাইসেন্স, কানাডিয়ান রেসিডেন্স কার্ড, হেলথ ইন্স্যুরেরন্স (আরএএমকিউ) কার্ড, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্স কার্ড। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দ করা নথিগুলো এতটাই উন্নতমানের ছিল যে বিশেষায়িত যন্ত্র ছাড়া সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন। অর্থাৎ এগুলো সাধারণ চোখে প্রায় আসল নথির মতোই দেখাত।

তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি অন্তত ২ হাজার ৪০০ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করেছে। বিষয়টি জানিয়ে প্রায় ১ হাজার ৯০০ জনকে সতর্কতামূলক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সম্ভাব্য আর্থিক জালিয়াতি, ব্যাংক লেনদেন নজরদারি এবং ক্রেডিট রিপোর্ট পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিচয় চুরি এখন উত্তর আমেরিকায় দ্রুত বাড়তে থাকা একটি অপরাধ। চুরি হওয়া তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া ক্রেডিট কার্ড, ঋণ আবেদন কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা সবই সম্ভব। ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি জাল পরিচয়পত্র ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে বিক্রি করা হতো। তৈরি হওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সেগুলো বিক্রি হয়ে যেত। এটি ইঙ্গিত করে যে চাহিদা ছিল উল্লেখযোগ্য এবং একটি সক্রিয় বাজার এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, এই চক্রটি শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বরং বৃহত্তর অপরাধচক্রের সঙ্গেও সম্পৃক্ত থাকতে পারে। তবে তদন্ত এখনো চলমান।

কানাডার ফৌজদারি আইনে পরিচয় চুরি ও জাল নথি তৈরি গুরুতর অপরাধ। দোষী সাব্যস্ত হলে দীর্ঘ কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক পরিচয় ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে জালিয়াতি চালানোর ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে।

মন্ট্রিয়লে এই অভিযানের মাধ্যমে একটি বড়সড় জাল পরিচয়পত্র চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছে এসকিউ। তবে চুরি হওয়া হাজারো পরিচয়ের পূর্ণ প্রভাব এখনো সামনে আসেনি। ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের শুনানির পর এ ঘটনায় আরও তথ্য প্রকাশ পাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

- Advertisement -

Read More

Recent