জিভানির ওয়াশিংটন সফর নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পয়লিয়েভর

এই মাসের শুরুতে জিভানি একক কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে ওয়াশিংটন সফর করেন

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজ দলের এক এমপির বিতর্কিত মন্তব্য থেকে স্পষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেছেন কানাডার কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভর। দলের এমপি জামিল জিভানি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানকে “স্বস্তা আমেরিকা-বিদ্বেষী আস্ফালন” বলে আখ্যা দেওয়ার পর বিষয়টি কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই মাসের শুরুতে জিভানি একক কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে ওয়াশিংটন সফর করেন। সফরের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতভাবে সেই বৈঠকের আপডেটও শেয়ার করেন। এমনকি তিনি ইঙ্গিত দেন যে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

- Advertisement -

তবে এই সফরটি ছিল কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রতিনিধিদলের অংশ নয়। ফলে কানাডার রাজধানী অটোয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে একজন বিরোধী দলের এমপি কেন এবং কী উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছেন। অনেকেই মনে করছেন, এতে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিভানি বলেন, “আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই আমেরিকা-বিদ্বেষী স্বস্তা আস্ফালন চালিয়ে যাই, তাহলে তা আমাদের নিজেদের পায়ে কুড়াল মারার মতো হবে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, এই কারণেই তিনি কানাডা সরকারের ভেতরে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। জিভানির বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি মনে করেন কানাডার রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কঠোর বা আবেগপ্রবণ অবস্থান নিচ্ছে, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

এমপির এই মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা পার্লামেন্ট হিলে কনজারভেটিভ নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভরের মতামত জানতে চাইলে তিনি সরাসরি বলেন, “না, আমি তার সঙ্গে একমত নই।” পয়লিয়েভর বলেন, কানাডিয়ানরা যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অন্যায্য শুল্ক এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক শীর্ষ নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “যেমন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পেকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপারও। তাই প্রেসিডেন্টের কথাবার্তা বা আচরণ আমাদের মধ্যে কী ধরনের আবেগ তৈরি করছে সেটার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া ঠিক হবে না।” পয়লিয়েভরের মতে, কানাডার উচিত আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল খোঁজা। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও তা হতে হবে কৌশলগত ও বাস্তববাদী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কানাডার বিরোধী রাজনীতির ভেতরেও মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে জিভানি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও নরম ও বাস্তববাদী অবস্থানের পক্ষে কথা বলছেন। অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনাকে সমর্থন করছে, যদিও তারা আবেগের পরিবর্তে কৌশলগত প্রতিক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হলেও বাণিজ্য নীতি, শুল্ক এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে মাঝেমধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বর্তমান পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়।

সব মিলিয়ে, জিভানির মন্তব্য এবং তার একক কূটনৈতিক সফর কানাডার রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। যদিও কনজারভেটিভ নেতা পয়লিয়েভর স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি নিজের দলের ওই এমপির মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন, তবুও ঘটনাটি কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

- Advertisement -

Read More

Recent