পরিবর্তন কোথায় হলো?

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচারে বিএনপি বাধা দিয়েছে কিংবা ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচারে যারা বাধা দিয়েছে তাদেরকে সরকার থেকে নিবৃত করা হয়নি তার মানে এটাই দাঁড়ায় যেএই সবের ক্ষেত্রে বিএনপি মব হতে দেবে

অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেছিল। বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সেই একই অধ্যাদেশের বলেই আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের দিন বিএনপির মনোভাব আঁচ করা গেছে এবং তারা যে ডক্টর ইউনুসের দেখিয়ে দেওয়া পথই অনুসরণ করবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

- Advertisement -

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচারে বিএনপি বাধা দিয়েছে কিংবা ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচারে যারা বাধা দিয়েছে তাদেরকে সরকার থেকে নিবৃত করা হয়নি। তার মানে এটাই দাঁড়ায় যে,এই সবের ক্ষেত্রে  বিএনপি মব হতে দেবে।

অধ্যাদেশে বলা আছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ; অর্থাৎ আওয়ামী লীগ কোনো কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ করতে পারবে না।

কিন্তু ৭ই মার্চ অনেকেই আওয়ামী লীগ থেকে নয়, বরং ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৭ই মার্চ প্রচার/পালন করতে চেয়েছিল। তাহলে প্রশ্ন, কোন অধ্যাদেশের বলে তাদেরকে বাধা দেওয়া হলো? তারা তো আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি পালন করেনি। তারা ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে বলেই পালন করতে চেয়েছিল।

বিগত ডাকসু নির্বাচনের প্রার্থী ইমি তো আওয়ামী লীগ করেন না। যতদূর জানি তিনি জুলাই আন্দোলনে বেশ সক্রিয় ছিলেন এবং বাম ধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত।

ইমি কয়েকজনসহ মাইকযোগে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচার করছিল। সেখানে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা তার উপর আক্রমণ চালায়। পরে তাকে পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করে থানাহাজতে পাঠিয়ে দেয়।

এর থেকে কী বোঝা গেল?

বিএনপি ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচার করতে দেবে না কিংবা ৭ই মার্চ কেউ পালন করতে চাইলে তাকে কেউ বাধা দিলে, আক্রমণ করলে দেশের আইন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে না; বরং যারা ৭ই মার্চ পালন করবে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে।

এর থেকে বিএনপির মনোভাব আঁচ করা যায়। তার মানে ডক্টর ইউনুসের করা অধ্যাদেশের মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগকে দমন করবে এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো ঐতিহাসিক দিবস তারা পালন করতে দেবে না। এসবে যদি মব বাধা দেয়, সেখানে সরকার কিছুই করবে না।

অন্তর্বর্তী সরকারের করা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের নির্বাহী আদেশটি বিএনপি রেখে দেবে।

এই অধ্যাদেশটি থেকে গেলে নির্বাচনের সময় প্রতিবার আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হবে, ঠিক যেমনটি অন্তর্বর্তী সরকার করেছিল।

উদ্দেশ্য হচ্ছে, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রেখে বিএনপি–জামায়াত ভাগে-যোগে দেশ চালাবে।

তাহলে বিএনপি নির্বাচনের সময় যে সব কথা বলেছিল, সেগুলো শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের ভোট এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ভোটগুলো পাওয়ার জন্য।

পরিবর্তনটা তাহলে কোথায় হলো?

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent