
ভালো ক্রেডিট স্কোর আজকের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রায় অপরিহার্য। ঋণ নেওয়া, বাড়ি কেনা কিংবা আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ক্রেডিট ইতিহাস ভোক্তাদের জন্য বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু সেই ক্রেডিট রিপোর্টে যদি ভুল তথ্য ঢুকে পড়ে, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে যার ফল ভোগ করতে হয় নির্দোষ গ্রাহকদেরই।
ঠিক এমনই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এলভিস ফার্নান্দেজ এবং তার স্ত্রী। সম্প্রতি তারা একটি বাড়ি কেনার জন্য মর্টগেজ প্রক্রিয়ায় গেলে বিষয়টি সামনে আসে। ফার্নান্দেজ জানান, তাদের মর্টগেজ বিশেষজ্ঞ হঠাৎই তার ক্রেডিট রিপোর্টে কিছু অসঙ্গতি দেখতে পান। তিনি বলেন, “আমার মর্টগেজ বিশেষজ্ঞ এসে আমাকে বলেন আপনি জানেন কী হয়েছে? আপনার ফাইলে এমন কিছু তথ্য আছে, যা আগে আপনার ক্রেডিট রিপোর্টে ছিল না।” পরবর্তীতে দেখা যায়, ফার্নান্দেজের ক্রেডিট রিপোর্টে একটি মর্টগেজ–সংক্রান্ত সমস্যা দেখানো হয়েছে, যা নাকি ‘ভোক্তা প্রস্তাব’ হিসেবে মীমাংসিত হয়েছে। এই তথ্যটি তার ক্রেডিট স্কোর উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। অথচ ফার্নান্দেজের দাবি, এমন কোনো বিষয় তার সঙ্গে ঘটেনি।
ঘটনার পর তিনি তার ব্যাংক ‘সিম্পলি ফাইন্যান্সিয়াল’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষও বিষয়টি পরীক্ষা করে জানায়, তথ্যটি আসলেই ভুল। ফার্নান্দেজের অভিযোগ, ভুলটি হয়েছে ক্রেডিট রিপোর্ট সংস্থা ইকুইফ্যাক্সের ডাটাবেসে। তিনি বলেন, “ওরা আমার ফাইল থেকে তথ্যটি সরিয়ে আমার স্ত্রীর ফাইলে যুক্ত করে দিয়েছে। এটা যে সম্পূর্ণ ভুল ব্যাংক সেটাও নিশ্চিত করেছে।”
ফার্নান্দেজ জানান, এই ঘটনার প্রায় চার মাস কেটে গেছে। তবুও সমস্যাটির সমাধান দ্রুত হয়নি। ইকুইফ্যাক্স তাকে জানিয়েছিল যে ভুল তথ্য সংশোধন করতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগবে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি বলেছি আপনারা তো ইতিমধ্যে ব্যাংক থেকে নিশ্চিত হয়েছেন যে তথ্যটি ভুল। তাহলে এটা ঠিক করতে চার সপ্তাহ কেন লাগবে? আপনার জন্য এটা পাঁচ মিনিটের কাজ হওয়া উচিত।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি ভোক্তাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক হয়ে ওঠে। কনজ্যুমার ক্রেডিট কাউন্সেলর মার্ক কালিনোভস্কি মনে করেন, ক্রেডিট স্কোর সংশোধনের প্রক্রিয়া অনেক সময় অত্যন্ত ধীরগতির হয় এবং ভোক্তাদের জন্য কার্যকর প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের হাতে খুব বেশি বিকল্প থাকে না। সংশোধনের জন্য তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।”
কালিনোভস্কি একটি পুরোনো ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে তার এক সাবেক গ্রাহক পরিচয়পত্র জালিয়াতির শিকার হয়েছিলেন। সেই ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে একাধিক আর্থিক লেনদেন করা হয়েছিল, যার প্রভাব পড়ে তার ক্রেডিট রিপোর্টে। সমস্যাটি সমাধানের জন্য তাকেও একই জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, ওই ব্যক্তিকে দেউলিয়াত্বের আবেদন করতে বাধ্য হতে হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রেডিট রিপোর্টে ভুল তথ্যের ঘটনা খুব বিরল নয়। অনেক সময় ডেটা আপডেটের ভুল, পরিচয় জালিয়াতি বা তথ্য বিনিময়ের ত্রুটির কারণে এমন সমস্যা দেখা দেয়। তবে এসব ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় ভোক্তারা আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বিশেষ করে যখন তারা বাড়ি কেনা বা বড় কোনো ঋণ নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে থাকেন।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোক্তাদের নিয়মিত নিজেদের ক্রেডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করা জরুরি। কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। একই সঙ্গে ক্রেডিট রিপোর্টিং সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ সংশোধন প্রক্রিয়া প্রত্যাশা করছেন ভোক্তা অধিকার কর্মীরা।
ফার্নান্দেজের মতো অনেক ভোক্তার অভিজ্ঞতা ইঙ্গিত দেয় ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় একটি ছোট ভুলও বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই ক্রেডিট তথ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ভুলতা ও দ্রুত সমাধান এখন সময়ের দাবি।
