উপসাগরীয় দেশগুলোকে রক্ষায় আলোচনায় মিত্ররা

তবে সম্ভাব্য সহায়তার ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি জেনারেল কারিগনান

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা নিয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে কানাডা। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল জেনি কারিগনান জানিয়েছেন, ইরানের সম্ভাব্য বোমা হামলার ঝুঁকি থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি এখন মিত্র দেশগুলোর আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

অটোয়ায় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক নিরাপত্তা সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেনারেল কারিগনান বলেন, এই বিষয়ে শুক্রবার মিত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনী তাদের মূল্যায়ন ও সুপারিশ কানাডা সরকারের কাছে তুলে ধরবে।

- Advertisement -

তিনি ফরাসি ভাষায় বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকেও তাদের প্রকৃত চাহিদা পরিষ্কারভাবে জানানো জরুরি। কোন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, সেই বিষয়টি জানতে কানাডা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তার ভাষায়, “যদি তারা আমাদের প্রয়োজন অনুভব না করে, তাহলে সহায়তা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাই তাদের প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বোঝা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

তবে সম্ভাব্য সহায়তার ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি জেনারেল কারিগনান। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বোমা হামলার সঙ্গে কানাডা সরাসরি যুক্ত নয়। “আমরা ‘এপিক ফিউরি’ মিশনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কথা বলছি না এবং এই মুহূর্তে সেই মিশনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনা করছি না,” বলেন তিনি।

তার মতে, কানাডার মূল বিবেচ্য বিষয় হলো উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যদি পরিস্থিতি তা দাবি করে, তাহলে সামরিক সহায়তার বিকল্পগুলো নিয়ে ভাবা হতে পারে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কানাডার সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকা নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। কোনো ধরনের কানাডিয়ান সৈন্য মোতায়েনের আগে সংসদে বিস্তারিত বিতর্কের দাবি তুলেছে বিরোধী কনজার্ভেটিভ পার্টি।

অন্যদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সামরিক অংশগ্রহণের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “কানাডার ভবিষ্যৎ ভূমিকা এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত নয়। তবে আমাদের মিত্ররা যদি সহায়তা চায়, তাহলে আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করব।”

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের পাশাপাশি কানাডাও পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। যদিও সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে কানাডা এখনো সংযত অবস্থান বজায় রেখেছে, তবু মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ইস্যুতে কানাডার সম্ভাব্য ভূমিকা এখনো অনিশ্চিত হলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে অটোয়ায়।

- Advertisement -

Read More

Recent