
কানাডার বৃহত্তম নগরী টরন্টোতে পানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরজুড়ে ব্যবহৃত প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার পানি সঞ্চালন (ট্রান্সমিশন) ইউনিট প্রতিস্থাপনের জন্য এপ্রিল থেকে তিন বছর মেয়াদি একটি কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সিটি কর্তৃপক্ষ।
এই উদ্যোগের মূল কারণ হলো পানির ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানোর ছোট ডিভাইসগুলো প্রত্যাশিত সময়ের আগেই বিকল হয়ে যাচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের প্রকৃত পানি ব্যবহারের তথ্য নিয়মিতভাবে সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। উল্লেখযোগ্যভাবে, এ ধরনের সমস্যা শুধু টরন্টোতেই নয়, পুরো উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন মিউনিসিপালিটিতেই দেখা যাচ্ছে।
টরন্টো শহরে বর্তমানে ব্যবহৃত ওয়াটার মিটারগুলো নিজ নিজ অবস্থানে সঠিকভাবে পানির ব্যবহার রেকর্ড করতে সক্ষম। তবে সমস্যা হচ্ছে সেই তথ্য শহর প্রশাসনের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে। ট্রান্সমিশন ইউনিট বিকল হয়ে গেলে ডেটা আর সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে যায় না। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন বাধ্য হয়ে পূর্ববর্তী ব্যবহারের ভিত্তিতে আনুমানিক বিল তৈরি করে গ্রাহকদের পাঠায়। ফলে প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে বিলের অমিল তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নতুন ইউনিট প্রতিস্থাপন না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
টরন্টোর রেভিনিউ সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক জন লঙ্গারিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের সময় নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য একটি বিশেষ দল কাজ করবে। তিনি বলেন, “প্রত্যেক গ্রাহকের প্রকৃত পানি ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। এই রূপান্তরকালীন সময়ে নাগরিকদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
এই বৃহৎ কর্মসূচির জন্য প্রায় ১০ কোটি ৩০ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে, যা নগরীর নিজস্ব বাজেট থেকেই আসবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৫ সালে স্বয়ংক্রিয় মিটার রিডিং ব্যবস্থা চালুর পর থেকে টরন্টো সিটি প্রশাসন ইতোমধ্যে ৩৫ কোটি ডলারেরও বেশি পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় করেছে। নতুন এই প্রতিস্থাপন প্রকল্প সেই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী করবে।
এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো – গ্রাহকদের কোনো অতিরিক্ত চার্জ বা ইনস্টলেশন ফি দিতে হবে না, পুরো সময়জুড়ে একটি নিবেদিত গ্রাহক সহায়তা দল কাজ করবে এবং বিলিং আরও নির্ভুল ও সময়োপযোগী হবে।
এপ্রিল থেকে ভৌগোলিক এলাকা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এই প্রতিস্থাপন কাজ শুরু হবে এবং ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কানাডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নেপচুন টেকনোলজি গ্রুপকে। নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ শুরুর আগে তারা সরাসরি গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করবে। গ্রাহকরা নিজেদের এলাকায় কখন মিটার প্রতিস্থাপন হবে, তা জানতে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্ভাব্য সময়সূচি দেখতে পারবেন।
এই উদ্যোগ টরন্টোর পানি ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আধুনিকায়ন পদক্ষেপ। প্রযুক্তিনির্ভর বিলিং ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। বিশেষ করে, ভুল বা অনুমাননির্ভর বিলিং দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহক অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। তাই আগাম প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সিটি কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতের বড় সমস্যাকে এড়ানোর চেষ্টা করছে।
একই সঙ্গে, এই প্রকল্প প্রমাণ করে যে স্মার্ট সিটি ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আপডেট কতটা জরুরি।
