টরন্টো কাউন্সিলরের আচরণবিধি লঙ্ঘন

টরন্টো সিটি হলে একটি বাজেট টাউনহল বৈঠক শেষে কাউন্সিলর ক্রিস ময়েসের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান ড্যানিয়েল টেট যিনি একদিকে যেমন একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক অন্যদিকে ময়েসের নির্বাচনী এলাকার একজন বাসিন্দাও

ডাউনটাউন টরন্টোর এক সিটি কাউন্সিলরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মোড় নিয়েছে। নগরীর ইন্টিগ্রিটি কমিশনারের তদন্তে তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও, বিস্ময়করভাবে কোনো শাস্তির সুপারিশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজে প্রশ্ন উঠেছে আচরণবিধি ভঙ্গের প্রমাণ মিললেও কেন শাস্তি নয়?

২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি সংঘটিত একটি ঘটনার জেরে এই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই দিন সন্ধ্যায় টরন্টো সিটি হলে একটি বাজেট টাউনহল বৈঠক শেষে কাউন্সিলর ক্রিস ময়েসের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান ড্যানিয়েল টেট যিনি একদিকে যেমন একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক, অন্যদিকে ময়েসের নির্বাচনী এলাকার একজন বাসিন্দাও।

- Advertisement -

আলোচনার মূল বিষয় ছিল শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্থান ইয়ং-ডানডাস স্কয়ারের নাম পরিবর্তন করে ‘স্যানকোফা স্কয়ার’ রাখার সিদ্ধান্ত। এই নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করে আসছিলেন টেট এবং তিনি এ বিষয়ে কাউন্সিলরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে কথোপকথন দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। টেটের প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলর ময়েস তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমি জানি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি আমার থেকে আলাদা। আমি জানি আপনার হোয়াইট সুপ্রিমেসি দৃষ্টিভঙ্গি আছে। আমি তা সমর্থন করি না।”

এই মন্তব্যে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে টেট পাল্টা প্রশ্ন করেন, একজন নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাকে এভাবে ‘হোয়াইট সুপ্রিমেসিস্ট’ বলা কতটা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত না হয়ে আরও তীব্র হয়। ময়েস তখন বলেন, টেট দীর্ঘদিন ধরে তাকে এবং তার কর্মীদের হেনস্থা করে আসছেন। এমনকি টেট ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানালেও, কাউন্সিলর স্পষ্টভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন। ঘটনার কয়েকদিন পর টেট ইন্টিগ্রিটি কমিশনারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। পরে আরও একটি পক্ষ থেকেও অভিযোগ জমা পড়ে। এই দুই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেন ইন্টিগ্রিটি কমিশনার পল মালডুন।

তদন্ত শেষে তিনি তার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, কাউন্সিলর ময়েস আচরণবিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কাউন্সিলরের কাছ থেকে শালীনতা ও সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশিত। কিন্তু ময়েস একজন ব্যক্তির প্রতি অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা স্পষ্টভাবে এই বিধির পরিপন্থী।

তবে এখানেই আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত দিকটি। কমিশনার মালডুন তার প্রতিবেদনে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করেননি। যদিও তিনি লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবুও কেন শাস্তি দেওয়া হলো না তা নিয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে সমালোচকরা অভিযোগ করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, যেখানে আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রমাণিত হলেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া নাও হতে পারে। অন্যদিকে, কিছু মহল মনে করছে ঘটনাটি ব্যক্তিগত উত্তেজনার মুহূর্তে ঘটেছিল এবং সেটি বিবেচনায় নিয়েই হয়তো কমিশনার নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন।

এই ঘটনায় শহরের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে শালীনতা, জবাবদিহিতা এবং জন-প্রতিনিধিদের আচরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি কীভাবে নাগরিকদের সঙ্গে আচরণ করবেন, সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলেও শাস্তির অনুপস্থিতি এই ঘটনাকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে যার প্রভাব টরন্টোর রাজনীতিতে কিছুদিন পর্যন্ত থাকবেই বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

- Advertisement -

Read More

Recent