দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থা ভঙ্গুর ও টেকসই নয়

কানাডার ক্রীড়া ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এক প্রতিবেদন যা দেশটির খেলাধুলার কাঠামোকে নতুন করে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে

কানাডার ক্রীড়া ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এক প্রতিবেদন, যা দেশটির খেলাধুলার কাঠামোকে নতুন করে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ফিউচার অব স্পোর্ট ইন কানাডা কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থা বর্তমানে ভঙ্গুর ও টেকসই নয়, এবং এতে মৌলিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রতিবেদনটি ৯০ পৃষ্ঠাজুড়ে বিস্তৃত বিশ্লেষণ তুলে ধরে দেখিয়েছে, তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে অলিম্পিক স্তর পর্যন্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই গুরুতর ব্যর্থতা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ অ্যাথলেটদের জন্য ক্রীড়াঙ্গন অনেক সময় নিরাপদ বা সহায়ক পরিবেশ হয়ে উঠছে না; বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি নিপীড়ন ও অনিরাপত্তার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ব্যবস্থায় জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

- Advertisement -

এই প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম অ্যামেলিয়া ক্লাইন, যিনি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ অ্যাথলেটস এম্পাওয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কানাডার ক্রীড়া ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল জাতীয় ও অলিম্পিক পর্যায়ে পদক জয় এবং ফলাফল অর্জন। কিন্তু খেলাধুলা যে ব্যক্তিগত জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে, সেই দিকটি উপেক্ষিত থেকে গেছে।

ক্লাইন আরও জানান, বহু অ্যাথলেটের বাস্তব অভিজ্ঞতা যেখানে মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন ছিল সাধারণ ঘটনা এই প্রতিবেদনে যথাযথ স্বীকৃতি পেয়েছে। ৩৬ বছর বয়সী এই সাবেক এলিট জিমন্যাস্ট নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, তিনি খেলাধুলাকে ভালোবাসলেও ক্যারিয়ারের শেষ তিন বছরে এক নিপীড়নমূলক কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা এতটাই নেতিবাচক ছিল যে মাত্র ১৪ বছর বয়সেই তাকে খেলাধুলা থেকে সরে যেতে হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “যেকোনো মূল্যে জেতার” মানসিকতা এবং এর সঙ্গে জড়িত চাপ ও নির্যাতন বহু তরুণ প্রতিভাকে ক্রীড়াজগৎ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। ফলে শুধু প্রতিভার অপচয়ই হচ্ছে না, বরং খেলাধুলার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে কমিশন ৯৮টি সুপারিশ বা দাবি উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করা, এবং একটি কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সংস্থা গঠন করা, যা ক্রাউন কর্পোরেশন হিসেবে পরিচালিত হবে। এই সংস্থাটি দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং কার্যকর করার দায়িত্ব পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিবেদনটি কানাডার ক্রীড়া ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। যদি সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হয়, তবে খেলাধুলা কেবল পদক জয়ের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগত বিকাশ, মানসিক সুস্থতা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent