
টরন্টো সিটি করপোরেশন স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারণে উৎসাহ দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন অর্থনৈতিক প্রণোদনা কর্মসূচি “ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গ্রোথ ইন এমপ্লয়মেন্ট (এজ) ইনসেনটিভ প্রোগ্রাম”-এর আওতায় প্রথমবারের মতো একটি কোম্পানির জন্য তহবিল অনুমোদন করা হয়েছে। এই উদ্যোগটি ২০২৪ সালের শেষ দিকে চালু করা হয় এবং এটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মেয়র অলিভিয়া চাউ-এর প্রণীত অর্থনৈতিক অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় এই কর্মসূচির সূচনা। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে মার্কিন শুল্ক নীতির প্রভাব মোকাবিলায় টরন্টোর গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতগুলোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মেয়র চাউ জানিয়েছেন, এই প্রণোদনা কর্মসূচি ব্যবসাগুলোকে স্বনির্ভর করে তুলবে, যাতে তারা বিনিয়োগ বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাইরের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হয়।
এই কর্মসূচির প্রথম সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ন্যাশনাল ড্রাই বেভারেজ, যা ১৯৫৯ সাল থেকে নর্থ ইয়র্কে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। একটি স্বাধীন বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে কানাডার পানীয় বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের উৎপাদিত জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্লিয়ারলি কানাডিয়ান, ব্রাইয়ো এবং ফিজলার।
বর্তমানে কোম্পানিটি তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি বড় আকারের সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার বর্গফুট আয়তনের কারখানাটি আরও ৬২ হাজার বর্গফুট বাড়ানো হচ্ছে। এই সম্প্রসারণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ডলার। পাশাপাশি, নতুন করে ২০ জন পূর্ণকালীন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যা কোম্পানির স্থায়ী কর্মসংস্থান প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করবে।
কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাদের বর্তমান কার্যক্রম প্রায় দ্বিগুণ হবে। এর ফলে বাজারের বাড়তি চাহিদা পূরণ করা সহজ হবে এবং অন্টারিও অঞ্চলে নতুন ব্র্যান্ডের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে, কানাডিয়ান ব্র্যান্ডগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে বিস্তারের পথও সুগম হবে।
এই এজ ইনসেনটিভ প্রোগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর-প্রণোদনা। আগামী পাঁচ বছর ধরে কোম্পানির প্রবৃদ্ধির ফলে যে অতিরিক্ত সম্পত্তি কর তৈরি হবে, তা সিটি কর্তৃপক্ষ ফেরত দেবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
শুধু পানীয় শিল্প নয়, এই কর্মসূচির আওতায় আরও বিভিন্ন খাত সুবিধা পাবে। এর মধ্যে রয়েছে বায়োমেডিকেল অপারেশন, ফিল্ম স্টুডিও কমপ্লেক্স, ইনকিউবেটর, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উন্নয়ন এবং পর্যটন খাত। ফলে এটি টরন্টোর সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বহুমুখী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সামগ্রিকভাবে, টরন্টো সিটির এই উদ্যোগকে স্থানীয় শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং শহরটির অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ
