
আন্তর্জাতিক ভ্রমণকে আরও দ্রুত, সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে কানাডা সরকার। দেশের তিনটি বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টরন্টো, ভ্যানকুভার এবং মন্ট্রিয়লে চালু করা হয়েছে ‘ফ্রি ফ্লো ইন্টারন্যাশনাল-টু-ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজিট’ নামে নতুন একটি ব্যবস্থা। এর ফলে যেসব আন্তর্জাতিক যাত্রী কানাডার এই বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার করে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাবেন, তাদের আর আগের মতো সশরীরে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থিত হয়ে বর্ডার বা কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে না। নতুন এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক ট্রানজিট যাত্রীদের কানেক্টিং ফ্লাইট ধরার সময় কমিয়ে আনা, বিমানবন্দরের ভিড় কমানো এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও নির্বিঘ্ন করা। বিশেষ করে যেসব যাত্রীর কানেক্টিং ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষার সময় সীমিত থাকে, তাদের জন্য এই ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য সুবিধা নিয়ে আসবে।
এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ট্রানজিট যাত্রীদের অনেক ক্ষেত্রেই বিমান থেকে নেমে নির্দিষ্ট কিয়োস্কে গিয়ে চেক-ইন করতে হতো এবং প্রয়োজনে বর্ডার সার্ভিসেস কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় সেই ধাপটি অনেকটাই বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের প্রয়োজনীয় ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য আগেই কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির কাছে পাঠাবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন হবে। ফলে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ট্রানজিট যাত্রী সরাসরি তাদের পরবর্তী গেটের দিকে যেতে পারবেন এবং অতিরিক্ত বর্ডার চেকের জন্য সময় নষ্ট করতে হবে না।
সিবিএসএ জানিয়েছে, নতুন এই প্রক্রিয়া শুধু যাত্রীদের সুবিধাই বাড়াবে না, একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তাও অক্ষুণ্ণ থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্যভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীদের তথ্য আগে থেকেই বিশ্লেষণ করা হবে। প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট যাত্রীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হবে। অর্থাৎ নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস না করেই দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির ট্রাভেলার শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট রব চেম্বারস এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার লক্ষ্যে সিবিএসএ ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন আধুনিক উদ্যোগ গ্রহণ করছে এবং ‘ফ্রি ফ্লো ইন্টারন্যাশনাল-টু-ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজিট’ সেই প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যাত্রীরা অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই দ্রুত তাদের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠতে পারবেন। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তার মানও বজায় থাকবে। রব চেম্বারস আরও বলেন, ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা হচ্ছে। উন্নত টুলস, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিমানবন্দর অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য আরও কার্যকর ও সহজ একটি ভ্রমণব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
নতুন এই ব্যবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক ট্রানজিট যাত্রীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাবেন। যেমন : কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে কম সময় লাগবে। কাস্টমস বা বর্ডার চেকের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন কমবে। বিমানবন্দরের ভিড় ও অপেক্ষার সময় হ্রাস পাবে। সীমিত ট্রানজিট সময় থাকা যাত্রীদের ফ্লাইট মিস করার ঝুঁকি কমবে। পুরো আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্রক্রিয়া হবে আরও দ্রুত, সহজ এবং ঝামেলামুক্ত।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের অনেক দেশ এখন সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ও অটোমেশন ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। কানাডার এই উদ্যোগও সেই বৈশ্বিক প্রবণতার অংশ। তথ্যনির্ভর ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আগাম যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীসেবা উন্নত করার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছে দেশটি।
টরন্টো, ভ্যানকুভার ও মন্ট্রিয়ল এই তিনটি বিমানবন্দর কানাডার সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার। ফলে নতুন এই ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে প্রতিবছর লাখ লাখ আন্তর্জাতিক ট্রানজিট যাত্রী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ সফল হলে কানাডার অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
