লাল সালাম অ্যাবিমায়েল গুজম্যান

 

দীর্ঘ ত্রিশ বছর কারাগারে বন্দী থাকাবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ  করেন পেরুর শাইনিং পাথ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা ও প্রতিষ্ঠাতা অ্যাবিমায়েল গুজম্যান।

- Advertisement -

দর্শনশাস্ত্রের সাবেক এই অধ্যাপক ১৯৯২ সাল থেকে  যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করে আসছিলেন।

গত জুলাই মাসে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

মাওবাদী এই গেরিলা সংগঠন  এবং পেরুর  সেনাবাহিনীর মধ্যে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ মারা গেছে বা নিখোঁজ হয়েছে।

অ্যাবিমায়েল গুজম্যান পেরুর দক্ষিণ উপকূলের মোলেন্দো শহরের কাছে ১৯৩৪ সালের ডিসেম্বরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এক ধনী ব্যবসায়ী পরিবারে। ধনী পরিবারের সন্তান হওয়ায় প্রথম জীবনে এই বিপ্লবী নেতা বেশ স্বচ্ছল জীবন যাপন করেছেন। তিনি একটি প্রাইভেট ক্যাথলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবং পরে আরেকুইপা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন, যেখানে তার একটি গবেষণাপত্র ছিল জার্মান দার্শনিক ইম্মানুয়েল কান্টের ওপর। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি মার্ক্সবাদে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ১৯৬২ সালের মধ্যে তিনি কেন্দ্রীয় শহর আয়াকুচোর হুয়ামাঙ্গা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সান ক্রিস্টাবল-এ দর্শনের অধ্যাপক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৬৫ সালে চীন ভ্রমণের সময় গুজম্যান কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুংকে দেখে বেশ অনুপ্রাণিত হন এবং পেরুতে ফিরে আসার পর তিনি আইয়াকুচো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমমনা শিক্ষাবিদদের তার সঙ্গে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিলেন।

১৯৬৯ সালে তিনি এবং অন্য ১১ জন মিলে শাইনিং পাথ, স্পেনিশ ভাষায় সেন্ডেরো লুমিনোসো নামের একটি বিপ্লবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পেরুর কমিউনিস্ট জোসে কার্লোস মারিয়েতেগুইয়ের স্মরণে এই নামটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, যিনি বলেছিলেন, ‘মার্কসবাদ-লেনিনবাদ হল ভবিষ্যতের উজ্জ্বল পথ’।

মাওবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে এই গেরিলা গোষ্ঠী পেরুর ‘বুর্জোয়া গণতন্ত্র’কে উৎখাত করতে এবং কমিউনিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রাখে।

পেরুর রাস্ট্রক্ষমতায় আসীন সেনাবাহিনী ১৯৮০ সালে যখন গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় তখন শাইনিং পাথ শুধু নির্বাচনই বর্জন করেনি বরং আয়াকুচোতে ব্যালট বাক্স জ্বালিয়ে সক্রিয়ভাবে নির্বাচন প্রতিহত করেছে।

১৯৯২ সালের সালের সেপ্টেম্বরে পেরুর গোয়েন্দারা অবশেষে লিমাতে একটি নাচের স্টুডিওর উপর থেকে গুজম্যানকে গ্রেপ্তার করে।

দীর্ঘ ৩০ বছর কারাগারে অন্তরীন থাকাবস্থায় পেরুর অবিসংবাদিত মাওবাদী নেতা গুজম্যান ৮৬ বছর বয়সে আজ মৃত্যুবরণ করেন।

আমৃত্যু সমাজতন্ত্রের প্রতি আস্থা, বুর্জোয়া নিপীড়নের বিরুদ্ধে আপনার দৃঢ়তা ও আপোষহীন লড়াই শ্রমজীবি মানুষের শোষনহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করবে। লাল সালাম কমরেড।

মন্ট্রিয়ল, কানাডা

দর্শনশাস্ত্রের সাবেক এই অধ্যাপক ১৯৯২ সাল থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করে আসছিলেন
- Advertisement -

Read More

Recent