
অন্টারিও কোভিড-১৯ মহামারির ষষ্ঠ ঢেউ থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ। ২০ মার্চের পর সোমবার প্রদেশে কোভিড-১৯ শনাক্তের হার সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।
অন্টারিওতে সোমবার শনাক্তের হার দাঁড়ায় ১২ শতাংশে। ওইদিন পরীক্ষা করা হয় মোট ৭ হাজার ৭০২টি নমুনা, ২৮ মার্চের পর ২৪ ঘণ্টায় এটাই সর্বনিম্ন পরীক্ষা। সোমবার নতুন করে কারো মৃত্যু হয়নি। গত ৩০ দিনে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মৃত্যুহীন দিন দেখলো অন্টারিও।
ইউনিভার্সিটি হেলথ নেটওয়ার্কের (ইউএইচএন) সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আইজ্যাক বোগোচ বলেন, সব উপাত্তই ষষ্ঠ ঢেউয়ের চুড়া থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটা বলা শক্ত। কারণ, আগের মতো এক মাত্রার কমিউনিটি পর্যায়ে পরীক্ষা হচ্ছে না। কিন্তু আপনি যদি ওয়েস্টওয়াটার ইঙ্গিত ও শনাক্তের হারের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন সবকিছুই সঠিক পথে আছে। তবে কিছুটা সময় লাগবে যেটা থেকে বেরিয়ে আসতে তা হলো হাসপাতালে ভর্তি ও নিবিড় পচিচর্যা কেন্দ্রে কোভিড রোগী ভর্তি।
ওয়েস্টওয়াটার ডেটার বরাত দিয়ে অন্টারিও কোভিড-১৯ সায়েন্স অ্যাডভাইজরি টেবিল জানিয়েছে, প্রদেশকে যে ছয়টি উপ-অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে তার সবকটিতেই সংক্রমণ কমে এসেছে। সবেেচয় বেশি কমেছে উত্তর ও পূর্ব অন্টারিও এবং জিটিএর পূর্বে মধ্য অন্টারিওতে।
বোগোচ বলেন, অন্টারিওর প্রত্যেক অঞ্চলের প্রত্যেক জনস্বাস্থ্য ইউনিটে পরিস্থতি উন্নতির দিকে রয়েছে অথবা উন্নতি হয়েছে। তার মানে এই নয় যে, আমরা সবকিছু ঠিক করে ফেলেছি।
সোমবার পিসিআর পরীক্ষায় যে হাজার ২০৬ জন কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ১৬৭ জন রয়েছেন ভ্যাকসিনেশনের বাইরে অথবা আংশিক ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এছাড়া ২৯ জন দুই ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। আর ৭৭৭ জন তৃতীয় ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন এবং বাকিদের ভ্যাকসিন গ্রহণ সক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাসাপাতালে ভর্তি সংক্রান্ত যে তথ্য সোমবারের মধ্যে প্রদেশের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে তা পূর্ণাঙ্গ নয়। তবে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে কোভিড রোগী ভর্তি ছিলেন ২০১ জন। সংখ্যাটি রোববারের সংখ্যার চেয়ে ৬ জন এবং আগের সপ্তাহের তুলনায় ১০ জন কম। সোমবার ভেন্টিলেশনে ছিলেন ৮৭ জন, যা রোববারের তুলনায় তিনজন এবং এক সপ্তাহ আগের তুলনায় একজন কম।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, রোববার প্রদেশে ৬ হাজার ১৯ ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ডোজ ৩৭১টি, দ্বিতীয় ডোজ ৪৫৭টি, তৃতীয় ডোজ ৮৮৩টি এবং চতুর্থ ডোজ ৪ হাজার ৩০৮টি। সব বয়সীদের মধ্যে অন্টারিওর ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ অন্তত এক ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছেন। দুই ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছেন ৮১ দশমিক ৪ এবং তৃতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪৯ শতাংশ।
