
মন্ট্রিয়লের বাসিন্দা অলিভিয়া কোলেটে তার বাইকটি কেনেন ২০১৬ সালে এবং এরপর আর পিছনে ফিরে তাকান নি। মধ্য মন্ট্রিয়লে বসবাসকারী যোগাযোগ পরামর্শক কোলেটে বলেন, বাইসাইকেল চালানো, কার-শেয়ারিং অথবা ট্রানজিট কেবল তার অর্থ সাশ্রয়ই করছে না, একই সঙ্গে তা আনন্দদায়কও। রোদ ও গরমের দিনে এটা সত্যিই খুব আরামদায়ক।
ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া মন্ট্রিয়লে যাতায়াত করা খুব একটা কঠিন নয়। তবে কানাডার অন্যান্য শহরেও এটা এতোটা সহজ কিনা নিশ্চিত নন কোলেটে। তবে গ্যাসোলিন ও নতুন গাড়ি উচ্চমূল্যের কারণে নগর গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইকেলের সংস্কৃতিকে কীভাবে উন্নত কনরা যায় সে ব্যাপারে মন্ট্রিয়লের কাছ থেকে শিখতে পারে কানাডার বাকি অংশ।
প্যারিসভিত্তিক সাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র স্টেইন ভ্যান উস্টারেন বলেন, জনগণ যেভাবে যাতায়াত করে থাকে তাতে পরিবর্তন আনতে কানাডিয়ান শহরগুলোর জন্য এটা উপযুক্ত সময়। ফ্রান্সে আসার আগে নেদারল্যান্ডসে বড় হয়েছেন ভ্যান উস্টারেন। তিনি বলেন, উভয় দেশেই সাইকেলের চল বেড়েছে কার্যত গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে। ১৯৭০ এর দশকে নেদারল্যান্ডস ছিল আজকে কানাডা যেমন সেরকম। অর্থাৎ কারকেন্দ্রিক শহর, কারই ছিল যাতায়াতের ভিত্তি এবং সাইকেলে চেপে যাতায়াত ছিল খুবই বিপজ্জনক।
নিরাপদ সড়কের প্রচারণা ও ১৯৭৩ সালে তেল সংকটের কারণে গ্যাসের স্বল্পতার ফলে এতে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ওই প্রচারণার শুরু হয় কারের ধাক্কায় ৬ বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে। ভ্যান উস্টার বলেন, যারা বাসযোগ্য শহর চান তাদের চাপে এবং গ্যাস স্বল্পতার সমস্যার কারণে সরকার বাইককে উৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফ্রান্সে বাইসাইকেল জনপ্রিয় হতে শুরু করে ২০১৮ সাল থেকে, কর বৃদ্ধির কারণে গ্যাসের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ৩ ডলারে পৌঁছে যায়। কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর দিকে জনগণকে বাইরে বেরোনোর সুযোগ দিতে স্থানীয় সরকার দ্রুত সাময়িক বাইসাইকেলের লেন তৈরি করে, যা প্যারিসে সাইকেলের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এসব সাইকেল লেনের অনেকগুলোই পুরো স্থায়ী করা হয়।
