
কানাডার কিছু প্রদেশে হারিকেন বেরিলের অবশিষ্ট প্রভাবে জুলাইয়ের ১০-১১ তারিখে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বর্ষণে অন্টারিও ও কুইবেকের বহু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বন্যার ফলে সড়ক, রেলপথ, বাড়িঘর এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। একই সময়ে নোভা স্কশিয়ায় আকস্মিক প্লাবনে অন্তত একজনের মৃত্যু ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও শোকাবহ করে তুলেছে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে কিছু এলাকায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী অটোয়া, টরন্টোর উপকণ্ঠ এবং মন্ট্রিয়লের আশপাশে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। হঠাৎ প্লাবনে বহু গাড়ি আটকা পড়ে, ডজন ডজন পরিবার গৃহহীন হয় এবং কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হয়।
অন্টারিওতে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় এক লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হন। কুইবেকের গ্রামীণ অঞ্চলে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় জরুরি সেবাদানকারীরা দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খেয়েছেন। স্কুল, হাসপাতাল ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
নোভা স্কশিয়ায় পরিস্থিতি সবচেয়ে মর্মান্তিক ছিল। সেখানে একটি ছোট নদীর পানি হঠাৎ ফুলে উঠলে দ্রুত বন্যার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় এক বাসিন্দা গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় পানির স্রোতে ভেসে যান এবং তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হারিকেন বেরিল মূলত ক্যারিবীয় অঞ্চলে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর দুর্বল হয়ে কানাডায় প্রবেশ করলেও তার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল অস্বাভাবিক। এতে শহরগুলোর অবকাঠামোগত দুর্বলতা প্রকট হয়ে ওঠে। বহু শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়, ফলে নগর প্লাবিত হয়।
অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছে, এই দুই দিনের বন্যার কারণে কানাডার ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ’ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামত, সড়ক ও সেতু পুনর্নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ লাইন ঠিক করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে। বীমা কোম্পানিগুলোও এই অভূতপূর্ব দাবির চাপ সামলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কানাডা নতুন ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। অতীতে ক্যারিবীয় ঘূর্ণিঝড় সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে প্রভাব ফেললেও বর্তমানে তা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে কানাডার পূর্ব ও মধ্য প্রদেশগুলোতে সরাসরি আঘাত হানছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে দেশটিকে জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
সব মিলিয়ে, হারিকেন বেরিলের অবশিষ্ট প্রভাব কানাডাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের জন্য প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
