
জুনের ১৭ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত কানাডার ইতিহাসে এক চরম তাপপ্রবাহের প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও এই তাপপ্রবাহ প্রকৃতিগতভাবে ঘটতে পারে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এর তীব্রতা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ১০ গুণ বেড়ে গেছে।
পরিবেশ কানাডার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তাপপ্রবাহের প্রভাব জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেও অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে অন্টারিও, কুইবেক ও ম্যানিটোবা প্রদেশে দিনের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। মন্ট্রিয়লের ১৯ জুনের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ওই অঞ্চলের শতবর্ষী রেকর্ড ভেঙে দেয়। টরন্টো ও অটোয়াতেও গরমের মাত্রা অস্বাভাবিক ছিল।
শহরের স্কুল, হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মূলত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল থাকার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দেখা দেয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এই তাপপ্রবাহ চলাকালীন অন্তত কয়েকশ’ মানুষ গরমজনিত অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অন্টারিও ও কুইবেক মিলিয়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু সরাসরি তীব্র গরমের কারণে ঘটেছে।
অর্থনীতিতেও এই তাপপ্রবাহ মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। কৃষিক্ষেত্রে ভুট্টা, সয়াবিন ও গমের ক্ষেতের ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির সংকটের কারণে পশুপালন খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, এমন তাপপ্রবাহ এখন আর ব্যতিক্রম নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই ধরনের ঘটনা ক্রমেই ঘন ঘন ঘটবে। কানাডা, যা মূলত শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত, এখন গ্রীষ্মকালে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের মতো তীব্র গরমের মুখোমুখি হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নগর এলাকায় আরও সবুজ এলাকা তৈরি করা হবে, শীতলকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সহায়তা বাড়ানো হবে।
