
কানাডা ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার খবরে কানাডার রপ্তানি খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রবল আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে খনিজ, কৃষি ও প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, চুক্তি সফল হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কানাডার অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে।ফরেন মিনিস্টার মেলানি জোলি কানাডা-চীনের সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।
বর্তমানে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭% চীনে যায়, যা বছরে প্রায় ২৭ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের সমমূল্য। চীন কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং শুল্ক জটিলতার কারণে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ১২% হ্রাস পেয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হলে এই হ্রাসের ধারা বন্ধ হয়ে আবারও প্রবৃদ্ধির পথ সুগম হবে।
খনিজ শিল্পে কানাডার জন্য চীনের বাজার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালে কানাডা চীনে প্রায় ৫.৩ বিলিয়ন ডলারের খনিজ রপ্তানি করেছে। চীনের দ্রুত শিল্পায়নের সঙ্গে সঙ্গে নিকেল, তামা, লোহা এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় লিথিয়ামের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কানাডা বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ লিথিয়াম উৎপাদনকারী দেশগুলির মধ্যে একটি। এর ফলে চীনের বাজারে কানাডার খনিজ রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
কানাডার কৃষি খাতও চীনের বাজার থেকে বড় সুবিধা পেতে পারে। প্রতি বছর চীনে গরুর মাংসের আমদানি বাজারের মূল্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে কানাডা এই বাজারের মাত্র ৩% ভাগীদার। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে কানাডার শেয়ার দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে শস্য, তেলবীজ ও দুগ্ধজাত পণ্যের রপ্তানিতেও কানাডা বড় সুবিধা পেতে পারে।
কানাডার তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতও চীনের বাজার থেকে বড় সুযোগ পেতে পারে। বর্তমান বছরে এই খাতের বার্ষিক আয় প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার, যার একটি বড় অংশ রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। যদি চীন এই খাতে আমদানি শুল্ক কমায়, তবে কানাডার প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য বিশাল বাজার উন্মুক্ত হবে।
কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের অনুমান, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে রপ্তানি আয় অন্তত ১৫–২০ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০,০০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা দেশজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
যদিও রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভূরাজনৈতিক জটিলতা এখনো আলোচনার পথে বাধা হয়ে আছে, তবুও ব্যবসায়ীরা আশাবাদী যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থ ও বাজার চাহিদা চুক্তিকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কেবল রপ্তানি খাতেই নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কানাডার রপ্তানিকারীরা একে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত হিসেবে দেখছেন।
