
দুই শতের অধিক তারুন্য ঝরে গেছে। এত অল্প সময়ে এত প্রান ঝরে যাওয়া আমি আগে কখনো দেখি নি। এর মধ্যে বেশির ভাগ ছাত্র, তাদের দাবী ছিল অরাজনৈতিক। সেই দাবীগুলি যত্ন সহকারে শোনার কোন ঔদার্য দেখানো হলো না। বরং তাদের দাবী নিয়ে এক ধরনের ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা হলো।
জাতি অবাক বিস্ময়ে দেখলো, এত বিপুল হত্যার দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা অন্য কোন মন্ত্রী পদত্যাগ করলো না।
বরং আন্দোলনরত ছাত্রদের নিরাপত্তা দেওয়ার নাম করে ডিবি অফিসে নিয়ে গিয়ে তাদের কাছ থেকে বিবৃতি আদায় করা হলো। রক্তের দাগ যেখানে এখনো শুকায় নাই সেখানে ডিবি হারুনের ভাতের হোটেলে ছাত্রদের সাথে ডিনার করার ভিডিও প্রচার করে চরম ঔদ্ধত্য দেখালো হলো।
সরকার ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের কোন নিয়ম নীতির ধারে কাছে ছিল না,এখনো নেই। যেখানে প্রয়োজন ছিলো নমনীয় ভাষা ব্যবহার করে পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা, সেখানে দাম্ভিকতা দেখানো হলো।
এত মানুষ হত্যার পরেও তেমন কোন সত্যিকারের অনুতপ্ত হবার লক্ষন দেখা গেলো না। এখনো সেই একই ব্লেম গেম ভাংগা রেকর্ডের মতো ক্রমাগত বেজেই চলছে।
GenZ প্রজন্মকে বোকা ভাবা ঠিক নয়। তারা সবই বুঝে। তাদেরকে নয়ছয় বুঝিয়ে লাভ নেই। তারা আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সারা বিশ্বকে ধারন করে। তারা গ্লোবাল ভিউ দিয়ে বাংলাদেশকে দেখে। বাংলাদেশ ভিউ দিয়ে গ্লোবকে দেখে না। তারা দমননীতির ভাষা বোঝে। এই ভাষায় ভালোবাসা নেই, মমতা নেই, আছে ভয়ভিতী। আর এই দমননীতি, ভয়ভিতী দিয়ে ছাত্রদেরকে দমিয়ে রাখা যাবে না। আর GenZ প্রজন্মকে তো নয়ই।
ইতিহাস সাক্ষী দেয়, বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ যা চায় তাই হয়। শুধু পার্থক্য today or tomorrow, কিন্তু হবেই।
পিঠে ট্যাগ দেওয়া ঠিক নয়। আমরা বিভাজিত নই। আপনার ফেসবুকেই দেখুন কোন দিকে ঐক্য হচ্ছে। কোন দিকে জনমত সৃষ্টি হচ্ছে। আপনারা অন্ধ হলে তো প্রলয় থেমে থাকবে না।
প্রলয় হবে। সব ভেসে যাবে।
লালের মধ্যে শাসক দলের সমর্থকরাও আছে। তারা কি তবে রাজাকারদের পালে হাওয়া দিচ্ছে?
একদমই নয়। তারা অন্যায় বাদ দিয়ে ন্যায়ের পক্ষে। যে ভুলের কারনে অনেকগুলি প্রান ঝরে গিয়েছে, তারা তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে,তারা তার প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
চোখ খুলে দেখুন, কি হচ্ছে, কেন হচ্ছে?
অন্ধত্ব পরিহার করুন। সত্যকে বেছে নিন।
স্কারবোরো, কানাডা
