একজন নজরুল ও তার যুদ্ধকালীন স্মৃতি

একজন নজরুল ও তার যুদ্ধকালীন স্মৃতি

রাজাকারের তালিকা করাটাই কি উচিৎ ছিল না? করা হয়েছে মুক্তি যোদ্ধার তালিকা। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড়ো দুর্ভাগ্য। দিনের পর দিন অর্ধাহারে থাকা, অনাহারে থাকাটা কি যুদ্ধ নয়! নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে মাঠে, বিলে রাতের পর রাত কাটানটা কি যুদ্ধ না! একমাত্র রাজাকার ছাড়া তখন কে নিজ বাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পেরেছে? মৌলিক চাহিদার প্রথমেই যে খাদ্য, কে পেরেছে অন্তত একবেলা পেট ভরে খেতে! দেশের সবাই কোনো না কোনো ভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে; কেউ যুদ্ধের ময়দানে, আর কেউ প্রতিবেশিকে বাঁচাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের আশ্রয় দিয়ে; কেউবা আশ্রয় দিতে না পারার গ্লানি বুকে চেপে। তাহলে কেন তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা হবে না? এদেশে রাজাকার ব্যতীত বাকি সবাই ছিল মুক্তিযোদ্ধা, সবাই।

ষাটোর্ধ্ব নজরুল কথাগুলো বলতে বলতে ডাইনিং টেবিলে বসে থাকা থেকে দাঁড়িয়ে গেলেন ঝট করে। আদতে তিনি বেশ শান্ত স্বাভাবের। কোনো কারণে রেগে গেলে বা আবেগ প্রবণ হয়ে পড়লে তার চোখগুলো বড়ো হয়ে যায়। আজ চোখ বড়ো হবার সাথে রক্তিমও হয়ে উঠেছে। রাগান্বিত অবস্থায় তিনি কথা বাড়ান না, স্থান ত্যাগ করেন। আজও স্বভাব বিরুদ্ধ হলেন না, চলে গেলেন ড্রয়িং রুমে।

- Advertisement -

ঐ কথাগুলো শোনার এবং ঐ রুদ্রমুর্তি দেখার পরেই আমার আগ্রহ হলো যুদ্ধকালীন সময়ের তার স্মৃতিগুলো জানার।

আসুন আগে তার সাথে পরিচিত হয়ে নিই।

ডাক নাম নজরুল, পুরো নাম নজরুল ইসলাম, ওর সাথে বংশীয় পদবী যুক্ত হয়ে নামটা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম। তার বাবার ইচ্ছেতে পেশা হিসেবে আইন ব্যাবসা বেছে নেয়ায় পরবর্তিতে নাম দাঁড়ায় অ্যাডভোকেট কাজী নজরুল ইসলাম। আদি নিবাস গোপালগঞ্জ জেলার গোব্রা গ্রামের একেবারে মধুমতি নদীর তীরে। নদীর গুটিগুটি পায়ে অগ্রসরটাই ভংয়কর রূপ নিলে পৈতৃকভিটা টেকেনি। তাই পরবর্তিতে গোপালগঞ্জ শহরেই থিতু হন।

পেশাগত জীবনে তিনি সৎ এবং সরল। তার সরলতা প্রসঙ্গে একটি ঘটনা না বলে পারছি না। একদিন খুব ভোরে তার গ্রামের একজন ক্লায়েন্ট ফি বাবদ একটি পাকা তাল নিয়ে হাজির হলেন। কেননা ঐ ক্লায়েন্টের কাছে ফি দেবার মতো টাকা নেই। ঐ বুড়ো কষ্ট করে এই তালটা বহন করে এনেছেন উকিল সাহেব তাতেই খুশি। অবশ্য এই সরলতা তার অর্থনৈতিক জীবনকে খামচে ধরেনি, বরং আশির্বাদ স্বরূপ এগিয়েই দিয়েছে। বর্তমানে আদালত পাড়ায় তার বেশ নামডাক আছে।

’৭০ সনে তিনি ছিলেন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। ৭১ এর মার্চ মাসে পঞ্চম শ্রেণির স্কলারশীপ পরীক্ষা দেন বরিশালের ১০৫ দোহা প্রাইমরী স্কুল থেকে। বাবার চাকরীর সুবাদেই বরিশালে পড়া। অবশ্য পঞ্চম শ্রেণি শেষ হবার আগেই তার বাবার বদলি হয়ে যায় পিরোজপুরে। পরীক্ষার জন্যে থেকে যায় মায়ের সাথে বরিশাল; পরে চলেযান গ্রামের বাড়ি গোবরাতে। তার ভাষ্য মতে তারিখটা ২২/২৩ মার্চ হবে। তখনও দেশে যুদ্ধ শুরু হয়নি, তবে সর্বত্রই একটা থমথমে ভাব। ২৫ মার্চ গণহত্যার খবর জানতে পারেন যখন নজরুলের বাবা হাবিলদার আব্দুর রাজ্জাক, ব্যাচ নম্বর ১১২২, কর্মস্থল পিরোজপুর থেকে পালিয়ে সাইকেল চালিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। তিনি আসেন যুদ্ধে যাবার আগে স্ত্রী-সন্তানের সাথে দেখা করতে। তাঁর যুদ্ধে যাবার কথা শুনে ছোটো ভাইও বলেন, ‘আমিও যাব’। সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে রেখে না যাওয়ার পরামর্শ দিলেও শেষ পর্যন্ত দু জনই চলে গেলেন যুদ্ধে। ঘরে রইল বার/তের বছর বয়সের নজরুল, তার মা আর অপরূপ সন্দরী চাচী।

নিজের রূপও যে নিজের কাছে কতটা ভয়ের কারণ হতে পারে, এটা নজরুল দেখেছিলেন তার চাচীর চোখে-মুখে।

রাজাকারদের দাপট তখন চরম সীমায়। যার ঘরে অল্প বয়সী মেয়ে আছে, তারা রাতের আঁধারে গ্রাম ছেড়ে পাল্লাচ্ছে ওদের দাপটে। রাজাকারের দল বেশ কিছু ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে শুধু এই সন্দেহে, তাদের ছেলে যুদ্ধে গেছে। নজরুলের চাচা বাড়িতে নেই; এই খবর ওদের কাছে থাকলেও দুটি কারণে এ বাড়ির দিকে নজর দিতে সাহস করছিল না। এক, এরা বংশে কাজী। এদেরই পূর্বপুরুষ গ্রামের বিচার-শালিশ করতেন। শালিশ ব্যাবস্থার বদল হলেও সেই সম্মানটা তখনও ছিল। আর দুই, নজরুলের বাবা ছিলেন পুলিশ বিভাগে কর্মরত।

তবু আতঙ্ক তো ছিলই নজরুলদের বাড়িতে। কোনো ভাবে যদি রাজাকারেরা জেনে ফেলে, নজরুলের বাবা আর চাচা যুদ্ধে গেছেন, তাহলে ওদের আর রক্ষা থাকবে না। নজরুলের চাচী সারাক্ষণ ঘরের কোণে নিজেকে লুকিয়ে রাখতেন, ঘর থেকে বের হতেন না। ভয়ের তাপে চাচীর মুখটা যেন দিন দিন শুকিয়ে কালো হয়ে যাচ্ছিল। অন্যদিকে ঘরে নেই তেমন কোনো খাবার। আশেপাশের কাউকে বলাও যাচ্ছে না আর্থিক অবস্থার কথা। সবাই জানে হাবিলদার সাহেব না আসলেও তার বেতন, রেশন নিয়মিতই আসছে ঘরে। কাজেই আর্থিক সমস্যা থাকার কোনো কারণ নেই। তাই যদি কোনো ভাবে বাইরের কেউ অভাবের খবর টের পায়, প্রশ্ন উঠবে, হাবিলদার সাহেব কই; কই ছোটো ভাই রুস্তম কাজী?

এলাকায় রাজাকার বাহিনী ঘুরে ঘুরে খবর নিচ্ছে কেউ মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছে কি না! নজরুলদের বাড়িতে খোঁজ করতে আসে না, কেননা ওরা জানে রাজ্জাক সাহেব কর্মস্থলে আছেন, আর ছোটো ভাইকেও তিনি তার সাথে নিয়ে রেখেছেন।

নভেম্বর মাসের শেষের দিক। বিপদ ঘটল যখন রাজ্জাক সাহেবের কর্মস্থল পিরোজপুর থেকে খবর আসল, তাঁকে চাকরীতে যোগ দেবার কথা বলা হচ্ছে। কর্মস্থলে না থাকলে তিনি কোথায়? ছোটো ভাই রুস্তমইবা কোথায়? খবরটা রাজাকারদের কাছে পৌঁছতে সময় লাগল না। রাজাকাদের একটি দল এসে নজরুলদের বাসা লুট করল। ভাংচুর করল সমস্ত আসবাব। তিল তিল করে গড়া সংসার নিমেষেই শেষ হয়ে গেল চোখের সামনে। নজরুলের মা হঠাৎ খেয়াল করলেন রাজাকার বাহিনীর প্রধান দূরে দাঁড়িয়ে আছে। দৌড়ে গিয়ে তার পা জড়িয়ে ধরে বললেন, চাচা আমাদের বাঁচান। সে পা ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, আমরা এখনও নিশ্চিত না বলে কিছু করলাম না; তোমার স্বামী আর দেবর রুস্তম যদি পরশুদিনের মধ্যে ক্যাম্পে হাজির না হয়, সমস্ত ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হবে। নাবালক বলে তোমার ছেলেটাও রক্ষা পাবে বলে ভেবো না। আর রুস্তমের বউয়ের জন্যে কী ব্যাবস্থ তা তুমি ভালো করেই জানো। কাজেই খবর দেও তোমার স্বামী আর দেবরকে; আত্মসমর্পণ করতে বলো…। আমি চেষ্টা করব তোমাদের বংশীয় পরিচয় আর রাজ্জাকের চাকরীর কথা বলে ওদেরকে ক্যাম্প থেকে ছাড়িয়ে আনার। তবে হ্যাঁ, আত্মসমর্পণ না করার ফলটা স্মরণে রেখো বৌমা। কথাগুলো বলে লুঙ্গির খোট হাতে তুলে নিয়ে পান চিবাতে চিবাতে চলে গেলেন।

ঐ একই দিনে রাজাকারের ষাট/সত্তর জনের দল সুতের পুলের কাশেম ফকিরের বাড়ি আর মালো পাড়ার গান্ধি সরকারের বাড়ি লুট করে, সাথে আগুন জ্বালিয়ে দেয় ওদের ঘরে।

নজরুলের মা ঘরে ঢুকে দেখলেন ঘরে যতটুকু চাল, লবণ ছিল সব মাটিতে ছিটকে আছে। ভাতের পাতিলটা ছেড়া বুটের লাথিতে চ্যাপ্টা হয়ে আছে। ওদের বাপের দেয়া বুটজুতার সদ্ব্যবহার করে গেছে জানোয়ারগুলো। ঘরের এক কোণে রুস্তমের বউ বসে কাঁপছে, আঁচলের এক পাশ ছেঁড়া। বুঝতে বাকি রইল না, ওর শাড়ি ধরে টানা হেঁচড়া করেছে জালিমের দল। অসাহায়, নিরুপায় নজরুল দাঁড়িয়ে আছে উঠানে। যেসব লোকেরা আগে ঘরের পাশ দিয়ে যাবার সময় উচ্চ স্বরে কথা বলতে সাহস পেতো না, আজ তারা ঘরের মধ্যে ঢুকেছে, ভাংচুর করেছে; লুট করেছে ট্রাংকে রাখা সামন্য যা কিছু স্বর্ণ ছিল সেগুলও।

সেদিনের পর থেকে স্বামী দেবরের কোনো খবর নেই । সেই হতাশার সাথে নতুন করে যুক্ত হলো আজকের এই আতঙ্ক। নজরুলের মা খুব শক্ত মনের। সেই শক্ত মনও এখন আর স্থির রাখতে পারছেন না। কী করবেন বুঝতে পারছেন না তিনি।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে আসছে। এর পরেই রাত। এক সময় রাতে জুজুর ভয় ছিল এখন মানুষ রূপের ইবলিশগুলোর। পাশের বাড়ির রহিমাকেও ওরা রাতেই তুলে নিয়ে গেছে গত সাপ্তাহে। আজ রাতে কী তবে রুস্তমের বউকে…। কিছু ভাবতে পারছেন না নজরুলের মা। শুনেছেন কোনো বাড়ির পুরুষ তুলে নিয়ে গেলে ওরা নদীর কাছে লাইন দিয়ে দাঁড় করিয়ে গুলি মেরে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। দৃশ্যটা স্বচোখে না দেখলেও অনেক রাতে-ভোরে-সন্ধ্যায় গুলির শব্দ শুনেছেন তিনি। তবে কি আজ ওরা নজরুলকে তুলে নিয়ে ঐ লাইনে দাঁড় করাবে। নজরুলের মায়ের মনে আতঙ্ক, চোখে জল। এগার/বারো বছরের নজরুল এসব কিছুই বুঝতে পারছে না। শুধু দেখছে মা আর চাচী কেঁদেই চলেছেন।

সকালের একটু পান্তা ভাতের পরে নজরুলের পেটে আর কিছু পড়েনি। ঘরের পরিস্থিতে খাবার চাওয়ার সাহসও হয়নি। কিন্তু ক্ষুদার জ্বালা কতক্ষণ আর সহ্য করবে ঐ ছোট্টো জান। এক সময় এসে মাকে বলল, মা ক্ষুধা লাগছে। হতাশা আর আতঙ্কে ঘিরে থাকা নজরুলের মা চড় বসিয়ে দিলেন ছেলের গালে। নজরুল হতবম্ব। একমাত্র ছেলে হওয়ায় নজরুল এই দৃশ্যের সাথে পরিচিত না। নজরুল কাঁদল না; একটু দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ব্যাপারটা দূর থেকে খেয়াল করল রহিমার মা, যার মেয়েকে গত সপ্তাহে রাজাকারগুলো তুলে নিয়ে গেছে। সে ডাক দিলো নজরুলকে। ব্যাপারটা আশেপাশের আরো বাড়ির লোকজন যে খেয়াল করেনি তা নয়; কিন্তু কেউ সাহস করে এগোয়নি। এমন অবস্থা কেউ সাহয্যের হাত বাড়লে রাজাকারগুলো তাদের উপরেও হামলা চালায়। সেই হামলার ভয়কে উপেক্ষা করে এগিয়েছে রহিমার মা। আসলে যারা একবার বড়ো কিছু হারিয়ে ফেলে, তাদের আরকিছু হারানোর ভয়টাও হারিয়ে যায়।

নজরুল রহিমার মায়ের কাছে যেতেই তিনি বললেন, তোর বাবার রেশনের চাল তোর মা খেতে পারত না, আমাদের দিয়ে দিত। সেই চালের ভাত খেয়েই আমাদের অর্ধেক মাস কাটত। আর আজ তোরা না খেয়ে থাকবি, আর আমি দেখব; আল্লার গজব পড়বে আমার উপর। আয় বাবা আয়, দু’মুঠো খেয়ে নে। নজরুলকে ভাত আর ডাল দিয়ে তিনি আরেকটা প্লেটে আরো কিছু ভাত নিয়ে এগিয়ে গেলেন নজরুলের মা আর চাচীর দিকে। নজরুলের মা তাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। খেতে চাইলেন না, রহিমার জোর করে নিজ হাতে ভাতের লোকমা তুলে দিলেন তার মুখে; খাইয়ে দিলেন নজরুলের চাচীকেও।

সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে। মাগরিবের আজান তখনও দেয়নি। তবে আলো কমে এসেছে চারদিকে। নজরুলের মা ঘরের মধ্যে বাতি জ্বালালেন; দরজাটা এমন ভাবে ভেজালেন যেন বাইরে থেকে মনে হয় ভিতরে লোকজন আছে। পালিয়ে যাবার খবর রাজাকারগুলো যত দেরিতে বুঝতে পারবে, নজরুলের মা ততটাই ওদের সীমানা থেকে দূরে সরে যেতে পারবে, এই চিন্তা থেকেই ঘরে বাতি জ্বালিয়ে তারা গিয়ে আশ্রয় নিলেন রহিমার মায়ের ঘরে। অপেক্ষা আঁধারের।

মাগরিবের আজানের পরে পশ্চিম আকাশের লালিমা মুছে যেতেই নজরুল, তার মা আর চাচী বেরিয়ে পড়লেন নলিয়ার চর নজরুলের নানা বাড়ির উদ্দেশে। সেখানকার অবস্থা সম্বন্ধে তারা ভালো কিছু জানেন না। তবে এখন গোবরা গ্রাম ছাড়তে হবে, এটাই বড়ো কথা। দেশের এই পরিস্থিতিতে সাধারণত কেউ কাউকে আশ্রয় দেয় না। গোবরা গ্রামে এমন ঘটনা বহু আছে। গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে অন্য গ্রামে আ্ত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় মেলেনি। ফিরে আসতে হয়েছে বহু পরিবারকে। এই শঙ্কা নজরুলের মায়ের মনেও আছে। তবে বাবার বাড়িতে তার অবস্থান একটু ভিন্ন। তার কাথার উপরে কোনো ভাইই বাড়তি কথা কখনো বলে না। নজরুলের নানার মৃত্যুর পরে সেই অবস্থানটা আরও পাকা হয়েছে, যখন নজরুলের মা পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ ভাইদের ছেড়ে দিয়েছেন। কাজেই ভাইয়েরা দ্বিমত করবে না। অবশ্য প্রাণ নাশের ভয় সকলেরই আছে। আর পরিস্থিতি তেমন হলে কি কেরবেন, এই ভাবনাটা মাথায় নিতে পারছেন না নজরুলের মা। এখন শুধু একটাই ভাবনা, কীভাবে পৌঁছানো যায় ওখানে।

লোকালয়ের পথ ছেড়ে তারা ধরলেন আলপথ বেছে নিলেন। নজরুলের মায়ের সাপে খুব ভয়, আজ যেন তিনি ভুলেই গেছে এখানে সাপ থাকতে পারে। কোনো কোনো জমির ধান কেটে নিয়েছে কৃষক, সেখানে পড়ে আছে ধান গাছের মুল। মুলের উপর পা পড়তে ব্যথায় কেঁদে উঠছে নজরুল, মা কখনো আদর দিয়ে, কখনো ধমক দিয়ে বোঝানর চেষ্টা করছেন নজরুলকে, শব্দ করলে বিপদ হতে পারে।

চারদিকে ঘনকালো আঁধার, অচেনা এবরোথেবরো পথ, পেটে ক্ষুধার তীব্রতা, মনে মৃত্যুর ভয় আর যুদ্ধে যাওয়া পরিজনদের নিয়ে দুঃশ্চিন্তা; এসব নিয়েই তারা এগিয়ে চলছে বাঁচার আশায়, একটি স্বাধীন দেশ পাবার আশায়, মুক্ত কণ্ঠে কথা বলার আশায়…।
অ্যাডভোকেট কাজী নজরুল ইসলামের ভাষ্যমতে, এটা কি আমার জন্যে, আমার মায়ের জন্যে, আমার চাচীর জন্যে, ঐ রহিমার মায়ের জন্যে যুদ্ধ সমতুল্য ছিল না?

- Advertisement -

Read More

Recent