
একবার ভাবি বাংলাদেশ নিয়ে আর কোন লেখালেখি করবো না। অনেক তো হলো। এখন একটু ক্ষান্ত দেই।এই লেখালেখি করে কি লাভ? যেটা হবার সেটা তো হবেই কিন্তু এমন ভাবাই শুধু সার, লেখা বন্ধ হয় না। মাথায় পোকার মতো অনেক চিন্তা কিলবিল করতে থাকে। সেই চিন্তাগুলি লেখার মাধ্যমে বের হয়ে আসতে চায়। এই যে এখন একটা চিন্তা মাথায় ঘুরছে।
সেই চিন্তাটা হচ্ছে, ড.ইউনুস সাহেবের নেতৃত্বাধীন এই অন্তবর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের জন্য মন্দের ভালো। চিন্তা করুন, এখন যদি বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় চলে আসতো তাহলে আওয়ামী লীগের উপর কি তান্ডবলীলাটাই না চলাতো।বিএনপি-জামাতের হাতে সব আওয়ামী লীগ কচু কাটা হতো কিংবা এখন যদি এই নতুন সরকার তিন মাসের মাথায় নির্বাচন দেয় তবে নির্ঘাত নিরংকুশ ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় চলে আসবে। এরা ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগের উপর আরেক দফা তান্ডব চালাবে। ১৫ বছরের পুঞ্জীভূত যত ক্ষোভ আছে সব আওয়ামী লীগের উপর তারা ঝাড়বে। আওয়ামী লীগের ঝাড়বংশ কচুকাটা করবে।
সেই হিসেবে ড.ইউনুসের সরকার আওয়ামী লীগের জন্য শাপে বর। এই সরকার যতদিন থাকবে তত দিন অন্তত বিএনপি-জামাতের ক্ষমতাসীন হবার চেয়ে তারা ভালো থাকবে।
ড.ইউনুস সাহেব প্রতিহিংসাপরায়ন ব্যক্তি নন। আওয়ামী লীগ তার উপর অনেক অবিচার, অন্যায় করেছে, সেই হিসাবে তিনি ইচ্ছে করলে অনেক প্রতিশোধ নিতে পারতেন। সেটি তিনি নেননি। আওয়ামী লীগের উপর দিয়ে যে ঝড় এই পর্যন্ত বয়ে গিয়েছে তা অল্পের মধ্য দিয়ে গেছে। বিএনপি-জামাত ক্ষমতা পেলে আওয়ামী লীগের উপর এই ঝড় আরও ১০ গুন বেশি গতিতে বইতো।
সেই দিক থেকে চিন্তা করলে ড. ইউনুস সাহেবকে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে ধন্যবাদ জানানো উচিত।
যত বেশি দিন ইউনুস সাহেব থাকবেন তত দিন আওয়ামী লীগের জন্য মংগল।
আর এই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পেছনে ড.ইউনুস সাহেবের তেমন কোন ভুমিকা ছিল না, তিনি এই আন্দোলন সংগঠিত করেননি এবং নেতৃত্বও দেননি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে ড. ইউনুসের নাম প্রস্তাব করা হয়। তিনি ইচ্ছে করলে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে পারতেন। তিনি তা করেননি। তিনি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতায় চলে এসেছেন।
তাই আওয়ামী লীগের তরক থেকে ড.ইউনুস সাহেবকে খুব একটা দোষারোপ করার সুযোগ নেই।
তবে আওয়ামী লীগ এই সময় কতটুকু পাবে সেটা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে।
বিএনপি-জামাত এবং অন্যান্য শক্তি চাইবে দ্রুত ইউনুস সরকারকে ফেলে দিতে । কারন, ড.ইউনুস সরকারকে ফেলে দিতে পারলে পরবর্তী সরকারে যে আসবে সে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে সটকে পড়তে চাইবে।আর কোনভাবে নির্বাচন হলেই বিএনপি-জামাত বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতার মদনদে আসীন হবে। কিংবা বিএনপি-জামাত আর কিছু দিন গেলেই তারা ড.ইউনুস সরকারকে নির্বাচন দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করবে।আর এই অন্তবর্তীকালীন সরকার যেহেতু অনির্বাচিত সরকার তাই তাদের পক্ষে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা কঠিন হবে।এই সরকারের জনভিত্তি হচ্ছে এটি ছাত্র-জনতার গন- আন্দোলনের ফসল।
নতুন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের পপুলার কিছু সংস্কারের উদ্যোগ না নিয়ে এগুলে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারবে না। তাদের উচিত তাদের সংস্কার প্রস্তাবের একটি রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরা। সংস্কার প্রস্তাবের রূপরেখা প্রকাশ করলে জনগন সেই রূপরেখা বাস্তবায়নের জন্য সময় দিতে চাইবে। সরকারের উচিত জনগনকে তার কর্মসূচির সাথে engage রাখা। তানাহলে দ্রুত এই সরকার জনপ্রিয়তা হারাবে এবং একই সাথে জন-অসন্তোষ দেখা দিবে।
আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগাবে বিএনপি-জামাত। তখন তারা নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করবে এবং নির্বাচন আদায় করে ছাড়বে।
আগেই উল্লেখ করেছি, এই নতুন সরকার আওয়ামী লীগের জন্য শাপে বর হয়ে এসেছে। আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের আর্শীবাদ না হোক অভিশাপ না।
বিএনপি-জামাত কিন্তু তাদের পুরো প্রতিশোধ নিতে পারেনি। তারা ক্ষমতা পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। তাই নতুন সরকার যতদিন থাকবে আওয়ামী লীগ একটা ব্রিথিং টাইপ পাবে।সেটা তাদের জন্য খারাপ না।
আমি আওয়ামী লীগের পক্ষে কোন ওকালতি করছি না,যেটা উল্লেখ করেছি সেটি হচ্ছে আওয়ামী লীগের জন্য বাস্তবতা। তারা এখন না বুঝলেও পরে বুঝতে পারবেন।
স্কারবোরো, কানাডা
