
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জ্ঞানের সমাজ, মনন, অনুভূতি, শিল্প, সাহিত্য, নাটক, চলিচ্চিত্র বাংলাদেশের মানুষের শেকড়ে গ্রথিত I যারা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই পোড়ানোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়ার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় ছিল গত পঞ্চাশ বছরের অধিক সময় তারা নিজেদের কবর নিজেই খুঁড়ছেন একথাটা যেন ভুলে না যায় I বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানে বলেই আমার বিশ্বাস যদিও বছর বছর প্রতিটি সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে এবং তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করেছে I আমাদের সুশিক্ষিত তরুণ প্রজন্মই আমাদের ভবিষ্যৎ একথাও যেন ভুলে না যাই I
আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত জাদুঘর, ভাস্কর্য যা কিছু ভাঙা হলো এর বিরুদ্ধে বা এগুলো ধ্বংসের প্রতিবাদ এখনো চোখে পড়েনি I আমার বিশ্বাস এর বিরুদ্ধে একদিন প্রতিবাদ হবে কিন্তু সেটা যেন খুব বেশী দেরি না করে কারণ এতে করে ক্ষতির মূল্য বেড়ে যাচ্ছে দিনকে দিন I নিজের দেশের মানুষ, দেশের সম্পদ, নিজ শিল্প, ভাষা, সংস্কৃতিকে ধূলিস্যাৎ করবার অপচেষ্টায় মেতে থাকা ভাড়াটে গুন্ডা আর সন্ত্রাসীদের রুখে দাঁড়ান I আমি জানি বাংলাদেশ সব অসম্ভবের দেশ, বাংলাদেশ সকল পৈশাচিক, নির্মম অন্যায়ের বিরুদ্ধে আবার জেগে উঠবেই, বোধের জাগরণ ঘটবেই ঘটবে — শুধু সময়ের অপেক্ষা I
যাদের ঘুম এখনো গভীর তাদেরকে বলি, ইভেন্ট করে মুক্তিযুদ্ধের বই পোড়ানো (লেখক যতই নিন্দিত হোক এখন সবার কাছে ) কিসের বার্তা বয়ে আনছে জানেন তো ? জাতি ধ্বংসের বার্তা I বইকে নিজের শরীরের মতো আগলে রেখেই বড় হয়েছি I কারো লেখা বই পছন্দ না হলে কিনবে না বা পড়বে না কিন্তু বই পোড়াতে হবে কেন ? এতো নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেবার মতন একটা অবস্থা I এমন হীন ও হিংস্র উদ্যোগ বন্ধের জন্য দেশে কি কেউ নেই ? কেউ নেই ? মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য ভেঙ্গে, মুক্তিযুদ্ধের বই পুড়িয়ে বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দেয়ার চেষ্টা চলছে। ৭১ কে মুছে দিয়ে নতুন প্রজন্মকে আমরা কি শিক্ষা দিচ্ছি ? আহারে, এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাক তুমি !!
ক্যালগেরি, কানাডা

