গোল গোল

গোল গোল

গোল গোল, ঘোরে ঘোরে, চাকা চাকা, দুই চাকা দুই চাকা, সাইকেল সাইকেল……

ভ্রু জোড়া কুঞ্চিত করে অার সামনে বসা লোকের বরাবর ছোট একটা পেন্ডুলাম দুলিয়ে, মহাজাতকের বলা উপরের এই বুলিটা অাওড়াতে অাওড়াতে দু চারটা অতীতের কথা ও দু চারটা ভবিষ্যৎ উপদেশ বানী নিমিষেই বলে দিতো সে।

- Advertisement -

অামাদের বন্ধু অচিন। খুব কম কথা বলে, খুবই কম। ভাবলেশহীন একটা ব্যাপার লক্ষ করা যায় চেহারায়। পড়াশোনায় মোটামুটি। যদিও তাকে অামি চিনি কলেজে পড়তে অাসার পর। এবং তার জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক এই জ্ঞানের সাথে পুরো বন্ধুমহলকে অামিই পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। তার এই বিদ্যা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম একবার তার রুমে গিয়ে। ছোট একরুমের একটা ঘর, ছোট একটা কিচেন। কোন রকমে ঢুকে কোনরকমে বের হওয়া যায়। সচরাচর সে কাউকেই তার রুমে নিতো না কিংবা ডাকতো না আাসার জন্য। আমাকে ওইদিন দেখে চমকে গিয়েছিলো কিন্তু পরক্ষনেই আবার চেহারা ভাবলেশহীন করে বললো, আয়

রুমে ঢুকে একটা ধাক্কার মত খেলাম আমি, জানালার কাঁচগুলো কালো রং এর পোষ্টার পেপারে সাঁটানো। ঘুটঘুটে অন্ধকার এই দিনের বেলায়ও। জিজ্ঞেস করলাম এমন করে রেখেছিস কেন। কোন হু হা কিছুই বললো না সে। আমিও আর এতটা গুরুত্ব দেই নি পরে। যাই হোক, প্রসঙ্গে আসি

অচিন, ছোট খাটো ম্যাজিক দেখানোতেও জুড়ি ছিলো না তার। অামাদের মধ্যে অচিনই একমাত্র অ্যামেচার ম্যাজিশিয়ান হলেও তার ম্যাজিকের মধ্যে সত্যিই একটা তাক্ লাগানো ব্যাপার ছিলো। একটা প্লেয়িং কার্ডকে দুইটা করে ফেলা, ৫২ কার্ডের ডেক থেকে নিমিষেই পছন্দের কার্ডটিকে সামনে নিয়ে অাসা, ছেঁড়া কার্ডকে জোড়া লাগানো, হাতের তালুতে কয়েন রেখে সেটা ভ্যানিশ করে ফেলা। তারপর অন্যকারো পকেট থেকে সেটা বের করে অানা। এসব চোখের পলকেই করে ফেলতে পারতো সে। একটা মোটামুটি সুনাম ছিলো তার পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে। এই গুনের জন্য।

ইলিয়াছ মামার চায়ের দোকানটা ছিলো তার ছোটখাটো একটা স্থায়ী চেম্বার। যদিও অামরাই এটাকে চেম্বার হিসেবে ঘোষনা দিয়েছিলাম। অচিনের সুনামের কারনে অনেকেই অাসতো তার কাছে হাত দেখাতে কিংবা ম্যাজিক দেখতে। অামরাও নির্বিকারে বলে দিতাম “ভাই এখানে সে কিছুই করবে না, বিকালে/সন্ধ্যায় তার চেম্বারে চলে অাইসেন”। অচিন তখন বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে থাকতো অামাদের দিকে এবং অগত্যা সময় হলে চেম্বারে হাজির হতো। সে নিজ থেকে কখনোই সেধে এসব কাউকে দেখাতো না, অামাদের জোরাজুরিতে বাধ্য হতো দেখাতে। অামরা যখন টং দোকানে অাড্ডা অার হাসিতে পরিবেশ মাতাই তখন সে কোনার একটা টুলে চুপ করে বসে একটার পর একটা সিগারেট টানতো অার পায়ের স্যান্ডেলের কোণা দিয়ে মাটিতে অাঁচড় কাটতো অার গুনগুন করে সেই ছড়া বাক্যটা বলতো,
“গোল গোল, ঘোরে ঘোরে, চাকা চাকা, দুই চাকা দুই চাকা, সাইকেল সাইকেল”

অামাদের ছয় জনের মধ্যে অচিনই চেইন স্মোকার ছিলো। অার অামরা ছিলাম অকেশনাল স্মোকার। এই ছয় জন অার ইলিয়াছ মামা ছাড়া তাকে অন্য কারো সাথে কেউ কখনো কথা বলতে দেখেছে, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

মিড টার্ম শুরু হওয়ার তখন ১২ দিন বাকি, অামাদের ৬ জনের গ্রুপের মধ্যে বন্ধু “বিল্লাহ” প্রায়ই অসুস্থ থাকতো, তার উপর বোনাস হিসাবে ছিলো শ্বাস কষ্ট। একদিন কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ সে চলে গেলো তার গ্রামের বাড়ি। এদিকে মিডটার্ম শুরু হলো শেষও হয়ে গেলো। অথচ বিল্লাহ’র কোন খোঁজ নেই। তার বাড়ি খুলনায়, শুধু এটুকুই জানতাম অামরা। তারপরও খোঁজ খবর করার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু কিছু অার হয়নি শেষমেশ।

জুলাই মাসের ২৮ তারিখ। সময়টা তখন বর্ষাকাল। শ্রাবনের মাঝামাঝি হবে। সবাই মিলে শেষ বিকেলে এলাকার ক্লাবে বসে অাড্ডা দিচ্ছি। অার কেউ ছিলো না সেদিন ক্লাবে। অাকাশভরা কালো মেঘে সেদিন বিকেলের অাগেই সন্ধ্যা নেমে গিয়েছিলো। তার কিছু সময় পরই তুফানের বেগে বৃষ্টি শুরু হলো। অামরা অাটকে গেলাম ক্লাবে। বাড়ি যাওয়ার উপায় নেই। সিদ্ধান্ত হলো কিছু ভৌতিক গল্প করা যাক। কিন্তু কারো ঝুলি থেকে তেমন কিছু বেরুলো না। অবশেষে এই দায়িত্ব গিয়ে অর্পিত হলো অচিনের কাঁধে। অচিনের নতুন কোন ম্যাজিক দেখবো সবাই। এতে অচিন হ্যাঁ না কিছুই বললো না সেদিন। অাপনমনে একটা সিগারেট ধরালো। তারপর বললো, “ম্যাজিক দেখবি”? অামরা সমস্বরে বলে উঠলাম হ্যাঁ।

ঠিক তখনই প্রচন্ড শব্দে কোথাও বাজ পড়ে ইলেকট্রিসিটি চলে গেলো। অামরা অন্ধকারেই কথা বলে যাচ্ছি, কেউ কারো চেহারা দেখতে পাচ্ছিলাম না তখন। অচিন উঠে গিয়ে পাশের শেলফ থেকে মোমবাতি জ্বালিয়ে টেবিলের উপর রাখলো। তারপর বললো “ওই কোণাটায় গিয়ে চুপ করে বসে পড় সবাই”। অামরা তখনো কথা বলায় ব্যস্ত, অচিনের ওই কথায় ছেদ পড়লো মাঝখানে। অামি বললাম, কোণায় বসবো মানে?

“কথা বলিস না, যা বলছি কর”।

টেবিল ছেড়ে সবাই পূব কোণায় গিয়ে বসে পড়লাম গায়ে গায়ে লেগে। মাহের, ইশতিয়াক, সমর অার অামি।

টেবিলের উপর সারি করে জ্বালানো তিনটা মোমবাতি। তার ঠিক সামনে অচিন বসেছে একটা চেয়ার নিয়ে। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে অাছে মোমবাতির দিকে।

“যতক্ষন না অামি কথা বলবো ততক্ষন কেউ কোন কথা বলবি না”, অচিন বললো।

অামরা সবাই মুখ চাওয়া চাওয়ি করলাম। সবাই সবার মনের কথাটা যেন বুঝে ফেললাম যে, “শালা তোরে তো গুলি কইরা দিলেও তোর মুখ দিয়া কথা বাইর হয় না, তার উপর অাবার এমন শর্ত”? যাই ই হোক, ম্যাজিশিয়ানের শর্ত, মানতেই হবে। অতঃপর ঝিম মেরে বসে গেলাম সবাই।

“হাহ্, অাজ অার হয়েছে ম্যজিক দেখা”, তাচ্ছিল্যের স্বরে মাহের বললো। মৃদু স্বরে হেসে উঠলাম সবাই।

“চুপ!! মানা করেছি না কথা বলতে”, কিছুটা চাপা থমথমে স্বরে বললো অচিন। কিন্তু তার দৃষ্টি মোমবাতির দিকেই নিবদ্ধ।

ঝুম বৃষ্টি বাইরে, দৃষ্টিসীমার শেষ অব্দি পর্যন্ত ঘুটঘুটে অন্ধকার চারদিক, ক্লাবের টিনশেডের চালে ঝমঝম রিদমিক একটা শব্দ। থেমে থেমে দমকা হাওয়ায় মোমবাতির অাগুন তিরতির করে কাঁপছে। সেই অালোয় অামাদের পাঁচজনের অস্পষ্ট চেহারা দেখা যাচ্ছে অার দেয়ালে অামাদের ছায়া পড়ছে দ্বিগুন অাকৃতির। সব মিলিয়ে একটা ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।

অচিন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অপলক তাকিয়ে অাছে মোমবাতির দিকে। তার হাতের সিগারেট শেষ হয়ে শুধু ফিল্টারটা রয়ে গেছে। সেদিকে কোন খেয়াল নেই তার।

১০ মিনিট ১৫ মিনিট ৩০, ৪০……….. ৪৫ মিনিট পার হয়ে গেছে। কোন কিছুই হচ্ছে না।

অার থাকতে না পেরে মাহের বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলো, “কিরে!! ওই ব্যাটা অইচ্চা, ঘুমায় গেলি নাকি বাপ”?

“চুপ কর, কথা বলবি না”, বললো অচিন। এবার অাগের থমথমে ভাবটা গলায় নেই তার, সেটা বদলে গিয়ে একটা খড়খড়ে ভাব চলে এসেছে, মনে হচ্ছে ভাঙা গলায় একটা ছেলে ও একটা মেয়ে কোরাস কন্ঠে কথা বলছে। যেটা খুবই অদ্ভুত ও গা ছমছম করা ছিলো। চমকে উঠলাম অামরা। কিন্তু অচিনের শর্ত মেনে নিয়ে কিছু অার বলি নি।

তার অারও মিনিট দশেক পর হঠাৎ অচিন বললো, “দরজাটা খুলে দে, কেউ একজন অাসছে”।

ইশতিয়াক উঠে গিয়ে দরজাটা খুলে দিলো। বৃষ্টি প্রায় শেষ। তবে হাওয়া অাছে এখনো। দরজা খুলতেই ঠান্ডা ভেজা হাওয়া গায়ে মিশে একটা অপার্থিব ভালো লাগা ঘিরে ধরলো সবাইকে। হাওয়ার সংস্পর্শ পেয়ে মোমবাতির অাগুনের দপদপানি বেড়ে গেলো
“কই?? কেউ তো নেই”, ইশতিয়াক বললো।

“অাসবে, এখনি অাসবে”, অচিনের উত্তর। অামরা নিরবচিত্তে অপেক্ষা করছি। ইশতিয়াক মাথা উঁচু করে দেখছে কেউ অাসে কিনা। হঠাৎ দূর থেকে একটা ছপছপ অাওয়াজ কানে ভেসে এলো অামাদের, কে যেন পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে হেঁটে এদিকেই অাসছে। খুবই শান্ত পায়ের ছপছপ একটা শব্দ। কোন তাড়া নেই যেন। ক্রমশ সেটা নিকটবর্তী হচ্ছে। তার পরপরই ইশতিয়াক ভূত দেখার মত চমকে উঠে দরজা ছেড়ে সরে দাঁড়ালো।

বিল্লাহ তুই!! মাহের চেঁচিয়ে উঠলো, অামরাও ভীষণ অবাক হয়ে উঠে দাঁড়ালাম। হঠাৎ করে তাকে দেখে সবাই কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম।

“কেমন অাছিস তোরা”? মুচকি হেসে বিল্লাহ জিজ্ঞেস করলো। কেমন যেন নিষ্প্রাণ একটা কন্ঠ, সেই অাগের দীপ্ততা নেই গলায়। বহুকাল ধরে কেউ যেন তাকে কথা না বলে থাকার শাস্তি দিয়েছিলো। শরীরটাও কেমন ভেঙে গেছে। চোখের নিচে কালো দাগ হয়ে গেছে। কিছুটা ঝুঁকে অাছে সামনের দিকে। অথচ সেই বিনয়ী হাসিটা অাগের মতই অাছে।

“অামরা ভালো অাছি, তোর কি খবর তাই বল। কোথায় লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিলি রে? এতদিন পর অাবার কোত্থেকে এলি”? একাধারে বলে যেতে লাগলো মাহের। “মিডটার্ম টাও মিস করলি। কি হয়েছে বলতো? একদম রোগা হয়ে গেছিস তুই। ইশশ্, ভিজেও তো পুরো চুপসে গেছিস। অায় অায়, বোস এখানে”।

– নারে, এখন বসবো না। তোদের হঠাৎ খুব দেখতে ইচ্ছে হচ্ছিলো তাই এখনি চলে এলাম।

– সে কি কথা!! মাত্র এলি, এখনি চলে যাবি? মানে কি? কোথায় যাবি? বোস না, বৃষ্টি থামলে যাস। অামরাও তো বেরুবো, একসাথে যাওয়া যাবে।

– অামার খুব কষ্ট হচ্ছে রে, শ্বাস নিতে পারছিনা। ইদানীং শ্বাসটান টা খুব বেড়েছে। অামি যাই।

বলেই সে অচিনের দিকে তাকালো, অামরাও তাকালাম। চোখের সেই তীক্ষ্ণ ভাবটা এখন অার নেই। মোমবাতির অালোয় স্পষ্ট দেখতে পেলাম অচিনের উজ্জ্বল চোখ দুটি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে অাছে বিল্লাহ’র দিকে। বিল্লাহ সেই বিনয়ী হাসিটা হেসে অচিনকে বললো, “যাই রে, ভালো থাকিস তুই”। বলেই বেরিয়ে গেলো।

মাহের গেলো পিছন পিছন “বিল্লাহ…. অারে শোন, দাঁড়া না, অারে শুনে যা”।

যেভাবে এসেছিলো সেভাবেই অাবার পানিতে ছপছপ অাওয়াজ তুলে চলে যাচ্ছে বিল্লাহ। অাওয়াজ টা ক্রমশ অাবছা হতে হতে মিলিয়ে গেলো রাতের অন্ধকারের সাথে। তখনই কারেন্ট চলে এলো। ঘরের মাঝখানে এলোপাথাড়ি দাঁড়িয়ে অাছি অামরা ৪ জন।

অচিন হাতের বাতাসে মোমবাতি নিভিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে কিছু না বলেই বেরিয়ে গেলো। অামরাও নির্বাক মুখে যে যার বাসার পথে পা বাড়ালাম সেদিনের জন্য। অনেক রাত হয়ে গিয়েছিলো। দিনটি ছিলো জুলাইয়ের ২৮ তারিখ।

তার দু দিন পর ক্লাশ শুরু হলো। মাঝখানে অার অামরা অাড্ডায় বের হইনি। বৃষ্টির পানিতে এলাকা সয়লাব ছিলো কিছুদিন। কিন্তু ক্লাস তো অার মিস করা চলবে না। সেদিন ক্লাসে এসে একটা নোটিশ জানতে পারলাম অামরা।

“ব্যাবসায় শিক্ষা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোঃ মাসুম খান বিল্লাহ শ্বাসকষ্ট জনিত কারনে গত ২২ জুলাই মারা গেছে”।

বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে অামরা চারজন একে অপরের দিকে তাকালাম।

কিহ্!! ২২ জুলাই??
সবাই তারপর একসঙ্গে তাকালাম অচিনের দিকে। স্বভাবসুলভ ভাবেই ক্লাসের কোণার দিকে একটা চেয়ারে চুপ করে বসেছিলো সে। একবার অামাদের দিকে তাকালো, তারপর অন্যমনস্ক হয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইলো।

বন্ধুর মৃত্যুসংবাদ শুনে অামাদের ব্যথিত থাকা উচিত ছিলো। কিন্তু অামরা ব্যথিতের চেয়ে অবাক ছিলাম বেশী সেদিন। কারন বিল্লাহ’র সাথে যে রাতে দেখা হয়েছিলো অামাদের, সেদিন তারিখ ছিলো ২৮ জুলাই। বিল্লাহ যদি ২২ জুলাই মারা গিয়ে থাকে, তাহলে সে রাতে সেই অবয়ব টা কে ছিলো? কে এসেছিলো অামাদের কাছে? অামরা কার সাথে কথা বলেছিলাম? অচিনই বা কি করে জানলো সেদিন কেউ অাসবে এবং কি করে বুঝলো যে বিল্লাহই অাসবে? সেটা কি তবে বিল্লাহ নয়, বিল্লাহ’র অশরীরী ছিলো?

তাহলে কি সেদিন অচিনই……..

অাজও জানিনা সেই ঘটনার পিছনে অচিনের ম্যাজিকের কোন কৃতিত্ব ছিলো কিনা। কিংবা অচিনই কি কোন অদ্ভুত উপায়ে বিল্লাহ কে অামাদের মাঝে উপস্থিত করেছিলো কিনা। এও জানিনা বিল্লাহই কি মরে যাওয়ার পরও কোন অলৌকিক উপায়ে অচিনের সাথে যোগাযোগ করেছিলো কিনা। বলেছিলো কিনা যে তাকে যেন সেই অজানা অনন্ত পৃথিবী থেকে কেউ ডাকে। যাতে বিল্লাহ অামাদের শেষ দেখাটা একবার দেখতে পারে, একটু কথা বলতে পারে। অামরাও যেন একবার বিল্লাহ কে দেখতে পারি।

অচিনকে বেশ অনেকবার অনেকদিন সে রাতের বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম অামরা, সে কখনো এর কোন উত্তর দেয়নি। শুধু চুপচাপ সিগারেট টানতে টানতে মাটির দিকে তাকিয়ে স্যান্ডেল দিয়ে মাটিতে অাঁচড় কাটতো অার বিড়বিড় করে বলতো-
“গোল গোল, ঘোরে ঘোরে, চাকা চাকা, দুই চাকা দুই চাকা, সাইকেল সাইকেল”

তারপর সেখান থেকে উঠে চলে যেতো।

- Advertisement -

Read More

Recent