
ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার পতনের পর সাধারণ জনগন স্বাভাবিকভাবে আশা করেছে, পূর্বের মতন হত্যা খুন গুম আর হবে না। ৫ই আগস্টের পর চিত্রটা ভিন্ন হবার কথা ছিল। কিন্ত হচ্ছে কী?
প্রথম আলোর নিউজ পড়ে শংকিত ও মন খারাপ হলো। রাজশাহীতে পা হারানো সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাসুদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মাত্র তিনদিন আগেই তিনি একটি কন্যা সন্তানের পিতা হয়েছিলেন। জন্মের পরেই সন্তানটি পিতৃহারা হয়ে গেল। আহারে! এতটুকু জানার পরই যে কারো মন খারাপ হবার কথা।
মর্মান্তিক এই ঘটনার পিছনে আরো ঘটনা রয়েছে।
২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল সকালে ক্লাসে যাওয়ার পথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের সামনে হামলার শিকার হন আবদুল্লাহ আল মাসুদ। এ সময় মাসুদের ডান পায়ের নিচের অংশ গোড়ালি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। বাঁ পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেটে দেওয়া হয়েছিল তাঁর হাতের রগ। ওই হামলায় পা হারিয়ে মাসুদ একটি প্লাস্টিকের পা লাগিয়ে চলাচল করতেন।
গত শনিবার রাতে বাজারে ঔষধ কিনতে এসে হামলার তাঁর অন্য পা ভেঙে দেওয়া হয়। মাসুদকে আহত অবস্থায় বোয়ালিয়া থানায় আনার পরে অবস্থার অবনতি হলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ মাসুদকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়। সেখানে মারা যায় মাসুদ।
২০১৪ সালের পর হতে সে ছাত্রলীগের কোন কার্যক্রমে অংশ নেয়া তো দূরের কথা, সংগঠনের সাথে তার কোন যোগাযোগই ছিল না। দূর্ভাগ্য হচ্ছে, রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়া মানুষটিকেও মব জাস্টিসের শিকার হয়ে প্রান দিতে হলো।
এধরণের ঘটনা বন্ধে সরকারকে কঠোরহস্তে উন্মত্ত জনতার আক্রমন , নাশকতা দমন করতে হবে। মাসুদ হত্যার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে।
অগলভি, মন্ট্রিয়েল, কানাডা
