মরুর বুকে পুষ্পপরাগ

ছবিরাসেদ হোসেন

জীপে পানির বোতল সংরক্ষিত ছিল। মুনছুর সাখাওয়াত তড়িঘড়িতে পানির বোতল বের করল। মুখ খুলে বউয়ের চোখ, মুখে পানি ছেটাতে লাগল। অপরিকল্পিত কাজ! তাড়াহুড়ায় যত্ন ও সতর্কতা হারাল। পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল গলা ও বুকে। স্বর্ণলতা ভারি বিরক্ত হয়ে বলল,
” কী করতাছেন! থামেন। গোসল করাবেন নাকি? ”
” তুমি হুঁশে নেই। হুঁশ ফেরাচ্ছি। ”
” আমি তো হুঁশেই আছি। ”
” না, নেই। জ্বীনে আঁচড় করছে মনে হয়। ”
মুনছুর সাখাওয়াত আবারও তার মুখ ধুয়ে দিল পানিতে। হাতের তালুতে পানি নিয়ে স্বর্ণলতার মাথা ভেজাতে ভেজাতে বলল,
” মানছুরার মতো দ্বীনদার নারীদের আশপাশে জ্বীন-ভূতের ভিড় লেগেই থাকে। কিন্তু ধরার সাহস পায় না। তাই অন্য কাউকে ধরে, বিরক্ত করে। তোমাকেও ধরেছে মনে হয়। কিন্তু বিরক্ত করছে আমাকে। ”
” আপনে জ্বীন বিশ্বাস করেন? ”
” অবিশ্বাসের কী আছে? জ্বীন তো আল্লাহর সৃষ্টি। কোরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। ”
” আপনে এটাও জানেন? ”
” হ্যাঁ। ”
সে বউয়ের হুঁশ ফেরানোতে খুব তৎপর! সমানে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মুখ ফুটে কী বলছে খেয়ালই করছে না। শুধু উত্তর দিয়ে যাচ্ছে। স্বর্ণলতা তার পানির ছেটানো কাজে ব্যাঘাত ঘটাল না। জিজ্ঞেস করল,
” আপনে কোরআন পড়তে পারেন? ”
” পারি। ”
” অর্থ বুঝেন? ”
” বুঝি। ”
” তাইলে তো মুখস্থও থাকার কথা। দুইটা আয়াত পইড়া শুনান তো। যেটার অর্থও কইতে পারবেন। ”
সে একটা সুশীতল শ্রুতিমধুর সুর আরম্ভ করে থেমে গেল আচমকা। ভ্রূ কুঁচকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতেই স্বর্ণলতা জিজ্ঞেস করল,
” থামলেন ক্যান? ”
” তোমার তো হুঁশ ফিরে আসছে! এতক্ষণ বলোনি কেন? অযথায় পানি ঢালছিলাম। ”
মুনছুর সাখাওয়াত বোতলের মুখ আটকাল না। আধ খালি বোতল ও মুখটা বাইরে অন্ধকারে ঢিল মারল। তারপরে জীপ চালু করে গম্ভীরমুখে বলল,
” নিকাব পরে নাও। ”
” আপনে তো আল্লাহরে বিশ্বাস করেন। তাইলে মিথ্যা কইয়া বেড়ান ক্যান? ”
সে এই প্রশ্নের জবাব দিল না। বিনাবাক্য ব্যয়ে গাড়ি চালাতে লাগল। এক পলকের জন্য পাশে ফিরলও না। দৃষ্টি সর্বদা রাস্তায়, সম্পূর্ণ মনোযোগ গাড়ি চালনায়। স্বর্ণলতা বেশ কিছুক্ষণ উত্তরের অপেক্ষা করল। পেল না। পুনরায় জিজ্ঞাসাও করল না। নিকাব পরে নিল চুপচাপ। এই নীরবতা বেশি দীর্ঘ হলো না। মুনছুর সাখাওয়াতই ভাঙল,
” স্বর্ণলতা? ”
সে খোলা জানালায় মাথা এলিয়ে রেখেছিল। নির্জন রাস্তা, মৃদু বাতাস, নিশী রাতের অন্ধকার ও জোসনার আলোছায়ার লুকোচুরি খেলা বেশ উপভোগীয় লাগছিল। কখন যে ঘুমে ঝিমিয়ে পড়ল, টেরই পেল না। স্বামীর ডাকে সশরীরে ছিটকে ওঠল। চকিতে মুখ ফেরাতে শুনল,
” এখন যদি আমি মারা যাই, তুমি কী করবে? ”
তার চেতন সম্পূর্ণভাবে ফিরেনি। ঘুমের ভাব, স্বপ্নের ঘোর লেগেই ছিল। শুধু চোখের পাতা দুটো মেলা। প্রশ্নটা ঠিক বুঝতে পারল না। অবুঝের মতো চেয়ে থেকে বলল,
” বুঝি নাই, কী কইলেন? কে মইরা গেছে? ”
” কেউ মারা যায়নি। ”
” তাইলে? ”
” বলছিলাম, এখন যদি আমি মরে যাই, তুমি কী করবে? আমাদের বাড়িতে থাকবে নাকি চলে যাবে। ”
স্বর্ণলতার মাথায় এবার প্রশ্নটা ঢুকল, ভাবার্থটাও বুঝে আসতে শিউরে ওঠল। বুকের ভেতরটা ধক করে ওঠল। আতঙ্ক ফুটে ওঠল চোখজোড়ায়। পরক্ষণে মিইয়ে গেল সকল অনুভূতি। বিদ্রুপের মতো বলল,
” আপনে কি আযরাইল দেখতে পাইতাছেন? ”
” না তো! ”
” আমি তো শুনছি, মানুষ মরণের সময় আযরাইল দেখতে পাই। তাইলে আপনে দেখতে পাইতাছেন না ক্যান? ”
মুনছুর সাখাওয়াত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগ পেল না। সে নিজেই উত্তর পেয়ে গেল যেন! চটপটে জানাল,
” আপনে নিজেই তো একটা আযরাইল! আরেকটা দেখবেন ক্যামনে? ”
” আমি মজা করছি না, স্বর্ণলতা। ”
” আমিও না। ”
” উত্তরটা দাও। ”
” জানি না। আমি কি আপনের মৃত্যুর দিন,তারিখ জাইনা বইয়া রইছি যে, তারপরে কী কী করমু সব এখনই ঠিক কইরা রাখমু? ”
” আমি বলে দিচ্ছি, কী কী করবা। ”
স্বর্ণলতার মধ্যে কোনো কৌতূহল দেখা গেল না। সে ভীষণ অনাগ্রহ ও অবহেলায় মুখ ফিরিয়ে নিল। রাস্তা ফুরাচ্ছে না, অন্ধকারও দূর হচ্ছে না। হঠাৎ করেই পথটা এত দীর্ঘ লাগল যে, সে বিরক্ত হলো। বাড়ি পৌঁছানোর জন্য অস্থির হয়ে পড়ল। এই অবস্থায় স্বামীর কণ্ঠস্বর শুনতে পেল। সে বলছে,
” তুমি কোথাও যাবে না। আমার বাাড়িতেই থাকবে। দাদিজানের সব কথা শুনবে। একটাও ফেলবে না। খবরদার একটাও তর্ক করবে না। ”
সে ফুঁসে ওঠে বলল,
” আমি দাদিজানের লগে তর্ক করি? ”
” এখন করো না। তখন করতেও পার। ঐ সময় তো আমি নেই, ভয়ও নেই। ”
” আপনে কই যাবেন? ”
” কবরে। ”
স্বর্ণলতার রাগটা নিভে গেল। মানুষটা কি সত্যি মরে যাবে? তারও মৃত্যু হবে? এরকম ভাবনা তো মাথায় কখনও আসেনি। জীবনে কিছু মানুষের প্রভাব এতটায় বিস্তীর্ণ থাকে যে মনে হয়, তারা চিরন্তন, চিরজীবী। অমরত্বের অলৌকিক শক্তি পেয়েছে। এদের কাছে মৃত্যু ছায়া আসে না, আসতেই পারে না!
মুনছুর সাখাওয়াত পুনরায় বলল,
” তোমার গয়নার বাক্সে একটা চাবি রেখেছিলাম। পেয়েছিলে? ”
স্বর্ণলতা মুখে জবাব দিল না। মন ভার হয়ে আসছে তার। অবশতা ঘিরে ধরছে চিন্তা-চেতনাকে। সে কোনোমতে মাথা নেড়ে বুঝাল, পেয়েছে। উত্তর পাওয়া মাত্র কণ্ঠটা আবার বেজে ওঠল,
” আমার ঘরে যে একটা বুকশেলফ আছে? ওটার চাবি। তালা খুললে কতগুলো দলিল পাবে ও কিছু টাকা পাবে। আমি না থাকলে এসবই তোমার হবে। তাই প্রয়োজনে নির্দ্বিধায় ব্যবহার করবে। তবুও চাকরি বা অন্যকিছু করতে যাবে না। আমি জানি, তোমার বা দাদিজানের অর্থের লোভ নেই। উচ্চাকাঙ্ক্ষাও নেই। এতেই তোমাদের জীবন পার হয়ে যাবে। ”
মুনছুর সাখাওয়াতের কণ্ঠটা গম্ভীর কিন্তু পরিষ্কার। কোথাও দুঃখ বা আফসোসের রেশ নেই। নির্ভয়ে, নির্দ্বিধায় বলে চলল,
” একটা ব্যাংকের এ্যাকাউন্টও খুলে ছিলাম। টাকা-পয়সা বেশি রাখিনি। সরকারকে হিসেব দিতে হবে। এত ঝামেলায় যায় কে! আমার উপার্জনের বেশির ভাগটায় বাড়িতে রাখতাম। তুমি আসার পরে সরিয়ে ফেলেছি। যেখানে রেখেছি, সেখানে তোমার যাওয়ার দরকার নেই। গেলেও পাবে না। কড়া পাহারায় আছে। আমি মরে গেলে, যারা পাহারা দিচ্ছে তারায় ভাগবাটোয়ারা করে খাবে। তুমি গেলে উল্টো বিপদে পড়বে। যদি একান্তই অর্থের প্রয়োজন পড়ে তাহলে ব্যাংকে যোগাযোগ করবে। বুকশেলফের ড্রয়ারে এ্যাকাউন্টের কাগজপত্রও রাখা আছে। সরকারি ব্যাংক, চাইলে পাবে। ঠকবে না। ”
স্বর্ণলতা অবশতা কাটিয়ে ওঠল। ঠোঁট নেড়ে বহুকষ্টে কণ্ঠ থেকে শব্দগুলো আওড়াল,
” আপনে কি এখনই মইরা যাবেন? ”
” মনে হচ্ছে। ”
” হঠাৎ এমন মনে হইল ক্যান? ”
” আমি হাতে-পায়ে জোর পাচ্ছি না, স্বর্ণলতা। চোখদুটিও বুঁজে আসছে বার বার। হাজার চেষ্টায়ও খুলে রাখতে পারছি না! ”
সে মুখ বাড়িয়ে দেখল, মুনছুর সাখাওয়াত চোখ বুঁজে আছে। সেভাবেই গাড়ি চালাচ্ছে। সে সাথে সাথে চেঁচাল,
” আরে, আপনে তো ঘুমাইয়া পড়তাছেন! চোখ মেলেন। এজন্যই কইছিলাম, সকালে আসি! ”
মুনছুর সাখাওয়াত চোখ মেলল। জোর করে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। স্বর্ণলতার পিল চমকে ওঠল যেন! চোখদুটি এত লাল! শরীরের সবটুকু রক্ত এসে এখানেই জমেছে হয়তো। মুখটা মৃদু কাঁপছে। স্বর্ণলতা চেয়ে থাকতে থাকতে বুঝল, শুধু মুখ না তার পুরো শরীরটায় কাঁপছে। দেহের প্রতিটি লোমকূপ কাঁটার মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে। ঠিক এই মুহূর্তে মনে পড়ল, তার শরীর ছুঁয়ে ছুঁয়ে যে তাপমাত্রা খুঁজছিল সেটা এই মানুষটার হাতের মধ্যে ছিল। জ্বর তার নয়, মুনছুর সাখাওয়াতকে ধরেছে। সেটাও সকাল থেকে। স্বর্ণলতা ঔষধ খাওয়াতে চেয়েছিল, পারেনি। কী ভয়ঙ্কর আচরণই না করেছিল! এরপরে কী হয়েছে জানে না। কিন্তু বিকালবেলায় সুস্থ মানুষের মতো বেরিয়ে গিয়েছিল। খাওয়া, ঘুম কিছুই হয়নি। তন্মধ্যে রাতের আঁধারে তাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল। টানা গাড়ি চালিয়েছে, উঠোনে একা দাঁড়িয়ে ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তারপরে আবারও একাধারে গাড়ি চালাচ্ছে। এত পরিশ্রম তো সুস্থ মানুষের পক্ষেও সামলে উঠা কঠিন। স্বর্ণলতা শঙ্কায় পড়ে গেল। ভেতরে ভেতরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল। সুধাল,
” আপনের জ্বরটা কি ফেরত আইছে? ”
” কোন জ্বর? ”
তার কণ্ঠটা দুর্বল, কাঁপা কাঁপা। স্বর্ণলতা বুঝতে পেরে বলল,
” গাড়ি থামান। আপনের বিশ্রামের প্রয়োজন। ”
” এখানে? কোথায় আছি জানো? শেয়াল, কুকুর এসে ছিঁড়ে নিয়ে যাবে। ”
” নিবো না। আমি পাহারা দিমু আপনে একটু ঘুমাইয়া লন। ”
” তুমি আমাকে পাহারা দিবে? একটু আগেও কুকুরের বাচ্চা দেখে ভয়ে কাঁপছিলে। শেয়াল দেখেছ কখনও? ”
স্বর্ণলতা শেয়াল দেখেনি। ডাক শুনেছে। তাতেই গা ছমছম করে ওঠত। সুবর্ণ এই শেয়ালের ভয়ে রাতের বেলায় টয়লেটে যেতে চাইত না। তাকে উঠোনে দাঁড় করিয়ে রেখে রান্নাঘরের পেছনে প্রস্রাব করে আসত।
মুনছুর সাখাওয়াত একটি পানির বোতল বের করল। স্বর্ণলতার কোলে রেখে বলল,
” এমন ঘুম বাপের জন্মেও ধরেনি! আমার চোখে, মুখে পানি ছিটিয়ে দেও তো। এখন আর জীপ থামিয়ে সময় নষ্ট করব না। ”
সে পানির বোতল নিল ঠিকই। কিন্তু মুখটা আলগা করল না। বলল,
” এদিকে আপনের পরিচিত কেউ নাই? ”
” না। ”
মুনছুর সাখাওয়াত বোতলটা ছোঁ মেরে নিল। গাড়ির গতি কমিয়ে ঝটপটে মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে বলল,
” ঠিক করে বসো। দশ মিনিটের মধ্যে বাড়ি পৌঁছে যাব। দোয়া করো যেন সামনে কিছু না আসে। তাহলে কিন্তু উড়িয়ে দিব। ”
স্বর্ণলতা বিস্ময়ে হতবাক গেল। সন্দেহ গলায় সুধাল,
” যদি আমগো উড়াইয়া দেয়? ”
” তাহলে কবরে পৌঁছে যাব। ”
সে গাড়ির গতি সর্বোচ্চ করল।
________
স্বর্ণলতারা যখন বাড়ি ফিরল তখন ভোরের আলো একটু একটু করে উন্মোচন হচ্ছে। একটু পরেই ফজরের আযান পড়বে। দুজনেই সুস্থ ও অল্প সময়ের মধ্যে বাড়ির উঠোতে উপস্থিত হলো। মুনছুর সাখাওয়াত বাড়ির ভেতরে ঢুকেই সোজা গিয়ে দাঁড়াল দাদিজানের রুমের সামনে। দরজায় ঠকঠক করতে স্বর্ণলতা চাপা স্বরে সাবধান করল,
” উনি ঘুমাইতাছেন তো। একটু পরে এমনেই ওঠব। যা কওয়ার তখন কইয়েন। এখনই কি আপনের ট্যাকা-পয়সার হিসেব বুঝাইতে হইবো? ”
” এক হিসাব দুজনকে বুঝিয়ে সময় নষ্ট করব কেন? দাদিজানকে তোমার হিসেব বুঝাব। ”
দুজনের কথাবার্তার মধ্যে খাইরুন নিসা দরজা মেলে দাঁড়ালেন। সাথে সাথে মুনছুর সাখাওয়াত বলল,
” দোয়া-দরুদ পড়ে তোমার নাতবউকে ফুঁ দিয়ে দাও তো। ও কে জ্বীনে ধরেছে! ”
তিনি আশ্চর্যান্বিত হয়ে উচ্চারণ করলেন,
” জ্বীন! কীভাবে বুঝলি? ”
” মানছুরাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই আমার মতো করে কথা বলছে। জ্বীনটা মনে হয়, আমার মধ্যে আসতে চেয়েছিল। সাহস পায়নি, তাই ওর মধ্যে ঢুকে আমার মতো আচরণ করছে। ”
স্বর্ণলতা বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে গেল। এই শেষ রাতে দাদিজানকে ডেকে তুলেছে এসব বলার জন্য? সে কি আসলেই মহাজনের মতো কথা বলছিল? একদমই না৷ ঐ কথাগুলো তার মন থেকে এসেছে। নিজের চিন্তা, নিজের বুদ্ধি, নিজের সৃষ্টি। সে কারও অনুকরণ করেনি! সে তৎক্ষনাৎ প্রতিবাদ করে ওঠল,
” আমারে কিছু ধরে নাই, দাদিজান। উনারে জ্বরে ধরছে। দেখেন সোজা হইয়া দাঁড়াইতে পারতাছে না। ”
খাইরুন নিসা নাতিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলেন। চোখ, মুখের অবস্থা ভয়ানক। বেশভূষায়ও আলুথালু অবস্থা! তার প্রিয় ও দীর্ঘ বছরের লালিত গোঁফটাও কেমন খরখরে। দাঁড়িয়ে আছে একপাশে হেলে, দেয়ালে একবাহু ঠেকিয়ে। তিনি এগিয়ে এসে কপালটা ছুঁয়ে আঁতকে ওঠে বললেন,
” শরীর তো পুড়ে যাচ্ছে! ”
তারপরে স্নেহপূর্ণ কণ্ঠে ধমকে ওঠলেন,
” এই অবস্থায় ঐবাড়ি গেছিলি কেন? পথটা কি কম দূরের? ”
মুনছুর সাখাওয়াতকে কিছু বলার সুযোগই দিলেন না। নাতবউয়ের দিকে চেয়ে বললেন,
” ও কে ধরো। পড়ে যাবে তো! দেখ, হাঁটু কাঁপছে কীভাবে! ”
তিনি রুম থেকে বেরিয়ে এলেন। পাশের রুমটায় ঢুকতে ঢুকতে আদেশের মতো বললেন,
” মুনছুরকে রুমে নিয়ে যাও। আমি দেখি, জ্বরের ঔষধটা পাই নাকি। ”
স্বর্ণলতা সেই আদেশ পালন করল না। অবাক হয়ে দেখছে, এত বড় শরীরটা দুর্বল হচ্ছে, থেমে থেমে কাঁপছে। তারপরেও মুখের রুক্ষ, চটা ভাবটা পুরোপুরি যায়নি। রক্তচক্ষু জোড়া পূর্বের মতোই শুষ্ক, হিংস্র।
” দাদিজান ধরতে বলল তো! কথা শুনছ না কেন? ”
সে মুখ বাঁকিয়ে বলল,
” শুনমু না। আপনে কইছেন, আপনে না থাকা অবস্থায় সব কথা শুনতে। এখন তো আছেন, তাই দুই একটা কথা শুনমু না। ফালাইয়া দিমু। ”
স্বর্ণলতা তাকে রেখে হাঁটতে লাগল। মুনছুর সাখাওয়াত অনুসরণ করতে করতে বলল,
” বাহ! আমার কথা ভালোই মানছ তো। তাহলে আরেকটা শোনো। ”
সে হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞেস করল,
” কী? ”
” তুমি কোনোদিন বিয়ে করবে না। ”
” ক্যান? ”
” আমি মরে গিয়েও তোমার মধ্যে বেঁচে থাকতে চাই। ”
মুনছুর সাখাওয়াত নিজের হাতেই দরজার তালা খুলল। পাল্লা মেলে দিয়ে দাঁড়াল সোজা হয়ে। স্বর্ণলতাকে প্রথমে ঢোকার জন্য সুযোগ দিচ্ছিল। সে খেয়াল করল না। জিজ্ঞেস করল,
” একবার মইরা গেলে আবার বাঁচে ক্যামনে? ”
” সময় হলে ঠিক বুঝতে পারবে। এখন ভেতরে যাও। দাদিজান আসছে। দেখে ফেলবে কিন্তু তুমি আমাকে ধরে নিয়ে আসোনি! ”
সে চট করে ভেতরে ঢুকে পড়ল। মুনছুর সাখাওয়াতও পেছন পেছন ঢুকল। স্বর্ণলতার মতো দাঁড়াল না। বিছানায় গিয়ে বসল ধপাস করে। শুয়ে পড়বে তখনই চিৎকারটা ভেসে এলো,
” শুবি না। মুনছুর, বসে থাক। ”
সে শুয়েই পড়েছিল প্রায়। দাদিজানের চেঁচানো শুনে অজান্তেই সোজা হয়ে বসে পড়েছে। বিরক্ত চোখে তাকাতেই শুনল,
” ঔষধ খেয়ে তারপরে শুবি। তার আগে ভাতটুকু খেয়ে নে। ”
স্বর্ণলতা দেখল, দাদিজানের হাতে ভাতের প্লেট। তরকারি উপরেই ঢালা। তাড়াহুড়ায় ভিন্ন বাটিতে সাজিয়ে আনতে পারেনি হয়তো। খাইরুন নিসা তার দিকে চেয়ে বললেন,
” নেও, ঝটপট খায়িয়ে দাও তো। বসে থাকতে থাকতেই শেষ করো। একবার শুয়ে পড়লে আর তুলতে পারবে না! ”
সে অসহায় গলায় সুধাল,
” আমি খাওয়াই দিমু? উনার হাতে তো কিছু হয় নাই, দাদিজান! ”
” জানি। তারপরেও তুমি খায়িয়ে দিবে। ”
মুনছুর সাখাওয়াতের চোখের পলক ভারী হয়ে আসছে। সেই বিস্ময়কর ঘুমটা ফেরত এসেছে। বিছানার স্পর্শ পেয়েও জেগে থাকা যায়? বসেও থাকতে পারছে না! সে প্রচণ্ড বিরক্ত নিয়ে বলল,
” কী ভাত নিয়ে পড়লে, দাদিজান! আমার কিছু হয়নি। ঘুম ধরছে শুধু। যাও তো এখান থেকে। ”
খাইরুন নিসা নড়লেন না। নাতিকে ঘুমানোর অনুমতিও দিলেন না। চোখের ইশারায় পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন নাতবউয়ের সাথে। এক ফাঁকে ফিসফিসে বললেন,
” সময় নষ্ট করো না। ও ভাতের প্লেট ফেলে দিবে। জ্বরে পড়লে এই ছেলের মাথা ঠিক থাকে না! ”
স্বর্ণলতা এই শেষ কথাটার সাথে সম্মতি প্রকাশ করল। ঘুমিয়ে পড়লে যে উঠবে না এটাও মানতে বাধ্য হলো। আজ সকালেই তো কত করে ডাকল! উঠেনি। উল্টো ভয়ঙ্কর ক্ষ্যাপে গিয়েছিল। হাত ধরে কীসব বলছিল! সে ভাতের প্লেটটা নিল ভীষণ অনিচ্ছায় ও অবহেলায়। নিতান্ত বাধ্য হয়ে ছোট হাতটা দিয়ে ভাত ও তরকারির মিশ্রণ বানাল। অতঃপর মুনছুর সাখাওয়াতের মুখের সামনে গ্রাস তুলে ধরল। সে সাথে সাথে খেল না। ঠোঁট দুটি ফাঁক করে সামান্য হাঁও করল না। কাঁপা কাঁপা দৃষ্টিতে স্ত্রীর মুখের দিকে চেয়ে থাকল শুধু।
খাইরুন নিসা পাশ থেকে ধমকালেন,
” কী হলো? হাঁ কর। ”
সে এবারও হাঁ করল না। স্বর্ণলতার মুখে চেয়ে থেকে ভাতের প্লেটটা টেনে নিল। দাদিজানের হাত থেকে ট্যাবলেটের পাতাটাও ছিনিয়ে নিল। দুটো ঔষধের টুকরো বের করে ভাতের সাথে মিশিয়ে নিল। তারপরে মুঠোয় মুঠোয় ভাত মুখে দিয়ে গিলতে গিলতে বলল,
” শান্তি পেয়েছ? এবার যাও, আমাকে ঘুমাতে দাও। ”
কথা বলতে বলতে গলায় ভাত ঠেকল। স্বর্ণলতা পানির গ্লাস এগিয়ে ধরল। সে এক ঢোকে পানি খেয়ে কড়া দৃষ্টি রাখল দাদিজানের ওপরে। তিনি এক মুহূর্তও দাঁড়ালেন না। দরজার বাইরে পৌঁছাতে মুনছুর সাখাওয়াত ভাতের প্লেট রেখে শুয়ে পড়ল। চোখ বুঁজে নিতে নিতে বলল,
” কারও কথা শুনে নয়, স্বর্ণলতা। যেদিন আমাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করবে সেদিনই আমাকে এক প্লেট ভাত মেখে খাওয়াবে। শর্ত তো এটায় ছিল! ”
স্বর্ণলতা তার কাছে এগিয়ে এলো, ফিসফিসে সুধাল,
” দাদিজানের খেতা কই রাখছেন? ”
মুনছুর সাখাওয়াত উত্তর দিল না। ভারী ও তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে। গভীর ঘুমে অচেতন হচ্ছে। স্বর্ণলতা দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করল না। দাদিজানের থেকে চেয়ে অন্য একটি কাঁথা এনে ঢেকে দিল অসুস্থ শরীরটা!
_________
স্বর্ণলতা ফজরের নামাজটা দাদিজানের সাথেই পড়ল। নামাজ শেষেও ওঠল না। দাদিজানের কোরআন তেলাওয়াত শুনছিল। চোখ বুঁজে, একাগ্রতার সহিত। সহসা শুনতে পেল,
” পাগলটা তোমাকেও তো জাগিয়ে রেখেছে। সারারাত বাইরে ঘুরিয়ে বেড়িয়েছে। যাও, তুমিও একটু ঘুমিয়ে নেও। নাহলে মুনছুরের মতো অসুস্থ হয়ে পড়বে। ”
” এখন তো সকাল হইয়া গেছে! ”
” তাতে কী? নাস্তা খাওয়ার সময় হয়নি। দুই-তিন ঘণ্টা ঘুমালেও শরীর আরাম পাবে। যাও, কথা বাড়িও না। ”
স্বর্ণলতা উঠে দাঁড়াতে তিনি পুনরায় বললেন,
” মুনছুরের হাতটা ধরে ঘুমিও। ছেলেটা জ্বরে পড়লে ওর আম্মুকে নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে। তখন খুব ভয় পায়! হাতটা ধরে থাকলে ভয় পাবে না। ”
সে বিস্মিত হলো যেন! অবাক চোখে চেয়ে রইল দাদিজানের মুখটায়। গতকাল কি তাহলে দুঃস্বপ্ন দেখেই জেগে ওঠেছিল? আম্মুকে নিয়ে কিছু বলেছিল কি? স্বর্ণলতার মনে পড়ছে না। কিন্তু তার আগের দিন রাতে কলে বলেছিল। সে পাত্তা দেয়নি। ভেবেছিল, মিথ্যা নাটক করছে। তাহলে কি মানুষটা সত্যি ভয় পাচ্ছিল? আম্মুকে নিয়ে কারও যে ভয় হতে পারে সে জানতই না!
স্বর্ণলতা ভাবনার মধ্যে স্বামীর রুমে ঢুকল। ঘরে আলো জ্বালানো নেই। ফ্যান, জানালা সব বন্ধ। অসুস্থ অসুস্থ গন্ধটা খোলা দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে দিল। তারপরে রুদ্ধ করে রাখা শ্বাসটা ছাড়ল। ফ্যানটা ছাড়ল কিন্তু গতি কমিয়ে দিল। অতঃপর আস্তে ধীরে অতি সাবধানে শুয়ে পড়ল মুনছুর সাখাওয়াতের পাশে। সে একপাশে কাত হয়ে শুয়ে আছে। আপাদমস্তক কাঁথা দিয়ে ঢাকা। হাত, পাসহ পুরো শরীরটা যতটা পেরেছে কেঁচোর মতো গুটিয়ে নিয়েছে। এই অবস্থায় হাত ধরবে কীভাবে? সে আলগোছে কাঁধে একটা আঙুল ছুঁয়ে চোখ বুঁজল।
_______
মুনছুর সাখাওয়াতের ঘুম ভাঙল দুপুরের পরে। এবার গোসল করল না, পরিষ্কার হওয়ার কোনো প্রচেষ্টাও দেখা গেল না। ঘুম ঘুম কণ্ঠেই হুঁংকার ছাড়ল,
” স্বর্ণলতা। ”
মিনিটের মধ্যে সে ছুটে এলো। প্রশ্নবোধক দৃষ্টি রাখতে সুধাল,
” তুমি কি আমাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে ছিলে? ”
স্বর্ণলতা অপ্রতিভ হলো। বেজায় অপ্রস্তুত দেখাল। চোখের চাহনি সরিয়ে নিতে বাধ্য হলো। তার ঘুম ভেঙেছে এই আধঘণ্টা আগেই। চোখ মেলে দেখে সে মুনছুর সাখাওয়াতের গলা প্যাঁচিয়ে ধরে আছে। এটা তার পুরোনো অভ্যাস। পাশে কেউ শুয়ে আছে বুঝতে পারলেই হলো, সোজা গলা প্যাঁচিয়ে ধরবে। অন্যকিছু না, শুধু হাতটা বাড়িয়ে গলাটা ধরবে। এই নিয়ে মায়ের থেকে কম বকা খায়নি! তার নাকি নিঃশ্বাস আটকে যায়। ধরেই নিয়েছিলেন, একূ্দিন ঘুমের ঘরে মেয়ের হাতে দম আটকে মরবেন। দাদিজানের পাশে শোয়ার সময় সে খুব সতর্ক থাকত। যতটা পারত দূরত্ব বাড়িয়ে ঘুমাত। তারপরেও এই কাণ্ড ঘটিয়েছে নাকি জানে না। তিনি তো এই নিয়ে কিছু বলেননি।
উত্তর না পেয়ে মুনছুর সাখাওয়াত নিজেই বলল,
” মনে হয় স্বপ্নে দেখেছি। কিন্তু এতবেলা ঘুমালাম কেন? ডাকবে না? ”
সে মুখ তুলে ধীর গলায় বলল,
” ঘুমালেনই তো ভোরবেলা! তাই ডাকিনি। ”
” ভোরবেলা ঘুমিয়েছি? রাতে কী করেছি তাহলে? ”
স্বর্ণলতা চোখটা ঝলকে ওঠল যেন! এই লোকের রাতের কথা মনে নেই? তাহলে তো তার দেওয়া শাস্তিগুলোও ভুলে গেছে। আবার নতুন করে বলতে হবে? সে একপা এগিয়ে এসে সুধাল,
” স্বপ্নে আর কী কী দেখছেন? ”
” তোমাকে নিয়ে কূজনপুরে গেছি। ”
” কার কাছে? ”
মুনছুর সাখাওয়াত ইতস্তত বোধ করছে। স্বর্ণলতা টের পেয়ে বলল,
” কন, চুপ কইরা আছেন ক্যান? কিছু কি লুকাইতে চাইতাছেন? ঐ গ্রামে আপনের বউ থাকে না তো? ”
সে চকিতে চাইল। পরক্ষণে দ্রুততার সাথে বলল,
” থাকত কিন্তু তালাক দিয়েছি তো। ”
” স্বপ্নে? ”
” স্বপ্নে তোমাকে বলেছি কিন্তু তালাক দিয়েছি বাস্তবেই। ”
” আর কী কী দেখলেন? ”
সে ধীরে ধীরে সবই বলল। ঠিকঠাক, সত্যি ঘটনাগুলোই। কিন্তু স্বর্ণলতার দেওয়া দুটো শাস্তির কথা এড়িয়ে গেল। সে চটে গেল মুহূর্তেই! আরও একপা এগিয়ে এসে বলল,
” এগুলা স্বপ্নে না, বাস্তবেই ঘটছে বুঝছেন? আর যেগুলা ইচ্ছা কইরা লুকাইলেন ওগুলাও আমি বাস্তবে, সজ্ঞানে কইছি। আপনে যদি শুনেন ভালো, না শুনলে আরও ভালো। কইতে পারবেন না যে, আপনেরে মাইনা নেওয়ার চেষ্টা করি নাই। ”
স্বর্ণলতা কথাটা শেষ করে ফিরে যেতে চাইল, পারল না। মুনছুর সাখাওয়াত একহাত চেপে ধরে আটকাল। উঠে দাঁড়িয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে বলল,
” তাহলে তো জড়িয়ে ধরাটাও বাস্তবেই ছিল! ”
স্বর্ণলতা সাথে সাথেই বলল,
” হাত ধরলেন ক্যান? আপনে কি চাইতাছেন দরজা মেইলা রাইখাই কাপড় খুইল্যা দাঁড়াইয়া থাকতাম? ”
সে হাত ছেড়ে দিল। ছিটকে দূরে সরে গিয়ে সাবধান করল,
” এই কথাটা আর কখনও বলবে না। ”
” তাইলে আপনে কইয়েব। একজনের তো কওয়া লাগবোই। ”
________
মুনছুর সাখাওয়াত আধশোয়া অবস্থায় দেখল, স্বর্ণলতা রুমে এলো। নিজে থেকে দরজা আটকে চুপচাপ তার পাশে শুয়ে পড়ল। প্রথমে মনে হলো, সজ্ঞানে নেই, ভ্রম হচ্ছে। পরক্ষণে বুঝে গেল, বাস্তব। তার অল্পবয়সী বউটা সত্যি তার পাশে শুয়েছে। সংকোচ বা দ্বিধা কিছুই নেই। সেইরাতের মতো বার বার জামা টেনে ঠিক করছে না। এপাশ-ওপাশও করছে না। শান্ত ও সহজভঙ্গিতে শুয়ে আছে। যেন এই রুমে, এই বিছানায় তার পাশে শুয়ে অভ্যস্ত।
মুনছুর সাখাওয়াত ধীরে ধীরে নিচে নামল। স্ত্রীর দিকে কাত হয়ে শুয়ে চোখ বুঁজতেই আশা বাড়ল। বার বার মনে হলো, সকালের মতো এখনও তাকে জড়িয়ে ধরবে। সে অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু সেই অপেক্ষা ফুরাচ্ছে না। রাত কেটে যাচ্ছে ঠিকই। একসময় অধৈর্য হয়ে ডাকল,
” স্বর্ণলতা? ”
সে ঘাড় ফিরে তাকিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করল,
” কাপড় খুইল্যা দাঁড়ামু? ”
মুনছুর সাখাওয়াতের মেজাজ চটে গেল। রাগের ভাবটা চোখে, মুখে ফুটে উঠতেও চেয়েও ওঠল না। যথাসম্ভব সামলে প্রত্যুত্তর করল,
” না। ”
” তাইলে ডাকেন ক্যান? দেখতাছেন না, ঘুমাইতাছি? ”
সে উঠে বসল। ঘন ঘন শ্বাস টানছে ও ফেলছে। আচমকা এত রাগ আসছে কোথা থেকে? নিয়ন্ত্রণই করতে পারছে না যেন! স্বর্ণলতার সামনে সে বরাবরই শান্ত থেকেছে। ধৈর্য ধরেছে। আজকে উল্টো প্রতিক্রিয়া আসছে কেন? মুনছুর সাখাওয়াত বসে থেকে স্ত্রীর দিকে না চেয়েই বলল,
” দাদিজানের রুমে গিয়ে ঘুমাও। ”
সাথে সাথে ঝাঁজাল কণ্ঠটা বাজল,
” ক্যান? আমারে এখন পছন্দ হইতাছে না? না হইলে নাই। আমি এখানেই ঘুমামু। আপনের সমস্যা হইলে, আপনে গিয়া দাদিজানের রুমে ঘুমান। ”
চলবে
তোমাদের কথায় বড় পর্ব লিখতে গিয়ে মাথা ধরে যায়। কিন্তু সেরকম রেসপন্স তো পাই না! তাহলে কি আগের মতো ছোট পর্বই লেখা শুরু করব আবার?

- Advertisement -

Read More

Recent