স্মরণ করছি আনোয়ারকে

স্মরণ করছি আনোয়ারকে

আনোয়ারকে নিয়ে লিখতে বসলে চোখের পানিতে ভাসি ” আপু ৫ মিনিট সময় হবে জরুরি কথা আছে আপু,আটলান্টায় এখন কটা বাজে”? এভাবেই সে ফোন করার আগে মেসেজ পাঠাতো, ১৯ সালে দেশে গিয়েই ফোন দিলাম ভাই আমি আসছি ! দেখা করতে গেলাম বনানী অফিসে সাথে নিলাম রম্য লেখক আমিনুল,রোদ্দুরের তামিম, মাহরিন নকিব গিয়ে পেলাম সালাহ,বুলবুলকে দারুন আড্ডায় গল্পে গল্পে আমাদের পেন্সিল নিয়ে অনেক স্বপ্নের কথা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলছিলো আনোয়ার | ২০ সালে আবার গিয়েছিলাম ১ মাসের জন্য তখন ভয়াবহ করোনা কালীন সময় ছিলো ! ঘর থেকে বেরুতাম না দরকারি কাজগুলো ফোন করেই সারছিলাম, মনিকাকে ফোন দিলাম আগেই জানতাম বেবি হবে ওকে দেখেছি পেন্সিলের পাঠক লেখক পরিচিতি পিকনিকে দীপনপুরে |

৬ই জুন রাত ১১ টায় আনোয়ার ফোন দিলো আপু মনিকাকে নিয়ে যাচ্ছে ওটিতে, আপনারকে দোয়া করতে বলেছে মনিকা | আমি সেই রাতে ঘুমাইনি দোয়া করার মাঝেই রাত ১২টার পর আবার আনোয়ার ফোন দিয়ে জানালো আপু কন্যা সন্তান হয়েছে, আমাকে যেতে নিষেধ করলো আনোয়ার, চারিদিকে ভয়াবহ করোনায় মানুষ মারা যাচ্ছে তখন আমি বারণ শুনিনি ! ফজরের নামাজ পড়ে নিজেকে প্যাকেট করলাম পিপি পরে তারপর বাসায় কাইকে না বলে হেঁটে চলে গেলাম পান্থপথ হাসপাতালে আমাকে দেখে ওরা দুজনই বাকরুদ্ধ ! প্রথম কোলে আমিই নিলাম আজকের মানহাকে ! ওর জন্ম হলো ৭ই জুন …

- Advertisement -

পেন্সিল নিয়ে হাজারটা স্বপ্ন ছিলো আনোয়ারের আমাকে তার স্বপ্নের কথা বলেছে যা সে সবাইকে বলে থাকে | আমিও বলেছিলাম ৪ লক্ষ পেন্সিলরদের কাছে মাসে ১০০ টাকা করে চাও এবং পেন্সিলের জন্য একটা ফান্ড করো | যার ইচ্ছে যে কেউ বেশিও দান করতে পারে ! অনেক টাকা জমা হলে একখন্ড জমি কিনে পেন্সিল ভবন নির্মাণ করো ভালো কোনো কম্পানির মাধ্যমে অর্ধেক কম্পানি নিবে বাকিগুলো পেন্সিলের থাকবে, আমার প্রস্তাব শুনে অনেকক্ষন আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আনোয়ার বলেছিলো আপু বিশাল টাকার ব্যপার কেউ টাকা দিয়ে চায়না করোনা কালীন সময়ে দেখেছি | তাই আমিও আর আগ্রহ দেখাইনি আমিও বুঝেছি একটা প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে খুব জরুরী নিজেদের মধ্যে পারস্পারিক বন্ডেন্স সেটার অভাব হলে সামনের দিকে আগানো মুশকিল !

চলে এলাম আমেরিকায়….

আবারও গেয়েছিলাম পারিবারিক কাজে ২২ সালে | তখনও আনোয়ারের সাথে ফোনে কথা হয়েছে জানতে পেলাম পেন্সিলে সে আগের মতো নেই ! পেন্সিল আর আনোয়ার অভিন্ন জানতাম তাই অবাক হয়ে গেলাম এই কথা শুনে !

কারো ব্যক্তিগত ব্যপারে আমার আগ্রহ কম তাই পেন্সিলের ভবিষ্যৎ কি হবে সেই ব্যপারেই ফোকাস দিলাম আর বললাম দেখা করো ১৬ই ডিসেম্বর পেন্সিল অফিসে যাচ্ছি প্লিজ আসো আনোয়ার ? কথা দিয়েও এলো না ! পেন্সিলের সেইদিনের আমাদের অল্প পরিসরের আড্ডায় বারবার খুঁজেছি আনোয়ারকে আমরা সবাই | আমি যতবার ফোন দিতাম ফোনটা বন্ধ পেতাম ! আনোয়ার জানতো আমার চলে যাবার তারিক তাই আসার ঠিক আগের দিন ফোন দিলো অনেক কথার পর বললো আপু এবার দেখা হলোনা আবার আসবেন যখন ঠিক দেখা হবে ততদিন ভালো থাকবেন…

আমিতো ভালোই ছিলাম ভাইরে …তুমিতো ভালো ছিলে না জানতেও দিলে না কিসে তোমার কষ্ট যন্ত্রনা …তুমি চলে গিয়ে আমাদের বুঝিয়ে দিলে মানুষ বেঁচে থাকে মানুষেরই মায়ায় ভালোবাসার বাঁধনে .. আজ তোমার জন্য পেন্সিল দোয়ার আয়োজন করেছে | সকলেই অন্তরের গভীর থেকে তোমার আত্মার শান্তি কামনা করবে আর আমরা যারা দূরে আছি সেই একিই কামনা করবো আল্লাহ আনোয়ারের আত্মার শান্তি দাও … আমীন

- Advertisement -

Read More

Recent