জাতীয় সংগীত পরিবর্তন সহসাই হবে না

জাতীয় সংগীত পরিবর্তন সহসাই হবে না

সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস কূটনীতিকদের বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নিরাপত্তা বাহিনী ও মিডিয়াতে সংস্কার করার পরে আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করবো।’ উপদেষ্টা পরিষদ তাদের প্রায়োরিটি নির্ধারণ করে রেখেছেন।

সংবিধান, জাতীয় সংগীত পরিবর্তন এসব এত সহজে এজেন্ডায় আসবে মনে করি না। যারা মনে করছেন জামায়াতের ইচ্ছা অনুযায়ী এই পরিষদ দেশ পরিচালনা করবেন তারা হয় ভুল করছেন অথবা অলীক কল্পনা করছেন। রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে কিছুটা শক্ত অবস্থান জামায়াতের হয়তো আছে।

- Advertisement -

কিন্তু রাজনীতির গতিপথ যদি বিবেচনা করি তাহলে আমরা যে চিত্র দেখতে পাব জামায়াতের জন্য তা মোটেই আশাবাদী হওয়ার মত না। বরং হতাশ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুলিতে জামায়াতের পপুলারিটি ভোট ক্রমাগতভাবেই কমেছে।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ১২.১৩ শতাংশ পায় তারা। আসন পায় ১৮টি। এর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিতর্কিত এই রাজনৈতিক দলটির ভোট ৪ শতাংশ কমে ৮.৬১ শতাংশে দাঁড়ায়। সেবার তারা আসন পায় মাত্র ৩টি। ২০০১ সালের নির্বাচনে আরও ৪ শতাংশ কমে তাদের ভোট দাঁড়ায় ৪.২৮ শতাংশে। ভোট কম পেলেও জোটের কল্যাণে সে বছর তারা ১৭টি আসনে বিজয়ী হয়।

এর পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ৪.৭০ শতাংশ পেলেও আসন পায় মাত্র ২টি। একাদশ সহ বাকী সংসদ গুলিতে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কোন প্রতিনিধিত্ব ছিল না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভাল ফলাফল করা নির্বাচন গুলো আসন ভাগাভাগির ফল স্বরূপ সম্ভব হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। কাজেই যত গর্জে ততটাই বর্ষাবে এমনটা মনে করার কোন কারন নেই।

সাম্প্রতিক অতীতে আওয়ামী লীগ ভুল করেছে বিধায় তারা খেসারত দিচ্ছে। অতীতে বিএনপি, জাতীয় পার্টি তাদের ভুলের খেসারত দিয়েছে। জামাতের নেতৃত্ব ভুল করলে তাদেরকে খেসারত দিতে হবে না, সেটা হবে কেন?

হ্যামিল্টন, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent