
সাতই মার্চ বাঙালির জাতীয় দিবস থেকে বাতিল করা যাবে না হে বিশ্বাসঘাতক উপদেষ্টার দল। তোদের কোন ধারণাই নেই, কোন এক অবিশ্রান্ত আগ্নেয়গিরির উদগীরণের লাভামুখ নিয়ে তোরা খেলা শুরু করেছিস। মীরজাফর, মুশতাকের চেয়েও আরো বেশী ঘৃণাভরে উচ্চারিত হবে তোরা চামুণ্ডা ও তোদের সর্দার ইউনুসের নাম।
হাজার বছরের একটি জাতির জীবনে সাত মার্চ একবারই আসে৷ শেখ মুজিবুর রহমানের মতো নেতা যে কোন জাতির জীবনে হাজার বছরেও একবার জন্মগ্রহণ করেন না।
সাতই মার্চ বাঙালির জীবনে এক অমোচনীয় ঘটনা ও দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুক্তিযুদ্ধের যা কিছু গৌরবময়; তথা, ৩২ নাম্বার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ৭ই মার্চ, মুজিব নগর সরকার সপথ নেওয়ার স্থান বৈদ্যনাথতলা এগুলো ধ্বংস করা যায়, বাঙালির হৃদয় থেকে, চেতনার আগুন থেকে মুছে ফেলা যায় না।
তোমরা এই দেশটাকে ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থার নামে পরাজিত পাক-মার্কিনীদের মূল পরিকল্পনা বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের আদর্শ থেকে সরাতে চাইছো। এর জন্য তোমাদের সামনে প্রধান বাঁধা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ৩২ নাম্বার, ৭ই মার্চ, ১৭ই মার্চ ইত্যাদি। তোমাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে যদি বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডকেও ধ্বংস করতে হয়, ধরে নিলাম তোমরা তাই করবে। ইতিহাসের পাতা ছিঁড়ে ফেলবে। পৃথিবীর সকল গ্রন্থাগার থেকে ইতিহাসের সকল গ্রন্থ ধ্বংস করে মহাসাগরের জলে ফেলে দেবে। কোন গানে, কবিতায়, গল্পে কিংবা চিত্রকলায় বঙ্গবন্ধুর কোন ছবি-গল্প-তর্জনীর হুকুম থাকবে না! তবুও হে নির্বোধেরা, এই পৃথিবী থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলা যাবে না। আর বঙ্গবন্ধু যতদিন মানুষের স্মৃতিতে থাকবেন, ততোদিন পর্যন্ত পৃথিবীর একটি প্রান্তে বাংলাদেশ নামক ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক একটি দেশ থাকবেই। কেউ তা রোধ করতে পারবে না। একহাজার ড. ইউনুস লক্ষকোটি নোবেল পুরষ্কার পেয়েও বঙ্গবন্ধুর নামে কোনপ্রকার কালিমা লাগাতে পারবে না৷ উপরন্তু তাকে আস্তাকুঁড়ে ফেলে বিশ্বাসঘাতক বলে মানুষ থু থু ফেলবে তোদের নামে৷ সেদিন বেশী দূরে নয়!
৭ই মার্চ আমাদের অস্তিত্বের রক্তে আগুন লাগার দিন। পৃথিবীর কোন শক্তি নেই, এই দিবসকে আমাদের কাছ থেকে মুছে ফেলে! ৭ই মার্চ বাঙালির চিরকালীন জেগে থাকার মন্ত্রশক্তির উচ্চারণের দিন। তোরা আমাদের অস্তিত্বকে ধ্বংস করে দিতে চাস বিশ্বাসঘাতকের দল। দূর হ! এখনও সময় আছে দূর হ! তোদেরকে মানি না আর বলবো না। এখন থেকে তোদেরকে ঘৃণা করি!
থুঃ!
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
টরন্টো, কানাডা
