সরকারই দায়ী থাকবেন

সরকারই দায়ী থাকবেন

দেশে সামরিক আইন জারির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়ে থাকলে তার জন্য এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই দায়ী থাকবেন। দুই মাসের মধ্যে এই সরকার যে সব কর্মকান্ড করেছে তা ইতিহাসে নজীরবিহীন। চরম বিশৃঙ্খলা আর নৈরাজ্য জনমনে নিরাপত্তাহীনতা আর আশংকার জন্ম দিয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারনে অসংখ্য শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। অনির্বাচিত,অনিয়মিত সরকার থাকায় এবং দেশে চরম অস্থিরতা থাকায় কেউ এই সময় বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না। ফলে বিনিয়োগ না হবার কারনে অনেকে ব্যবসা হারাচ্ছে। ব্যবসায়ের প্রফিট কমে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি মানুষকে দিশেহারা করে তুলেছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির আয় অনেক কমে গেছে। তাদের অবস্থা নুন আনতে পান্তা ফুরায়। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। এই সব নিয়ন্ত্রন করতে এই সরকার হিমসিম খাচ্ছে। বেশ কিছু দিন মব জাস্টিস চলেছে, এখনো থেমে নেই। যে কোন কারনেই মানুষ মানুষকে চরম নৃশংসতায় পিটিয়ে মেরে ফেলছে।

পুলিশ বাহিনীর অনেককে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার পরিসংখ্যান নিয়ে মতভেদ থাকলেও সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। অসংখ্য পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, অনেককে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে, অনেককে পুড়িয়ে ভষ্ম করে দেওয়া হয়েছে, অনেককে স্রেফ জবাই করা হয়েছে। দেশে এক চরম বর্বরতা প্রতিষ্ঠা হয়েছে।এখনো অনেক পুলিশ সদস্য সরকার থেকে আহ্বান জানানো স্বত্তেও কাজে যোগদান করেনি। নিরাপত্তার কারনে যারা যোগদান করেনি তাদেরকে অপরাধী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

- Advertisement -

ছাত্র সমন্বয়করা যে কোন ইস্যুতে হুমকি, ধামকির মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য করছে। ফলে পুরো দেশব্যাপী এক মাস্তানির রাজত্ব কায়েম হয়েছে। মানুষ এদের কর্মকান্ডে চরমভাবেই বিরক্ত এবং হতাশ। জনমনে স্বস্তির পরিবর্তে অশান্তি এবং আশংকা তৈরি হয়েছে।

দেশে জংগীবাদী শক্তি এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের আস্ফালন দিন দিন বেড়েই চলেছে। জেল থেকে অনেক জংগী জামিনে মুক্তি পেয়েছে। অনেক জংগী জেল ভেংগে অস্রসহ পালিয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি কিংবা তাদেরকে গ্রেফতারের কোন ইচ্ছাও মনে হয় এই সরকারের নেই।

এছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার নানা রকম বিতর্কিত কথা-বার্তা তার ইমেজকে অনেকখানিই ম্লান করে দিয়েছে।মানুষ উনার ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়েছে।সরকারের মধ্যে প্রতিহিংসা স্পৃহা দেখা যাচ্ছে। সকল নাগরিকদের সমান দৃষ্টিতে দেখার মানসিকতা এই সরকারের মধ্যে অনুপস্থিত। ফলে মানুষের মধ্যে আতংক কাজ করছে। কাকে কোন লেভেল এটে পিটিয়ে হত্যা করে, এই ভয় জনমনে দেখা দিয়েছে। দেশে কোন সরকার আছে বলে অনুভূত হচ্ছে না। সরকারে যারা আছেন তাদের দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ। দু একজন ছাড়া খুব একটা কেউ সরকার চালাতে দক্ষ এবং অভিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে না। মানুষ এই সরকারকে এনজিওগ্রাম সরকার বলে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা শুরু করেছে।

সরকার সংস্কারের কথা বলে নিজেদের কর্মকান্ডের দ্বারা সংস্কারের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললেই হত্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। বিচার বিভাগ সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে অথচ বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়।

দেশে এখন ত্রি-মুখি দখলদারিত্ব চলছে। একদিকে বিএনপি, আরেক দিকে জামাত এবং অন্য দিকে সমন্বয়ক। এদের মধ্যে আবার দখল দারিত্বের প্রতিযোগিতাও চলছে।

এই সরকার আগের চিরাচরিত সরকারগুলি থেকে সুস্পষ্ট কোন পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারে নাই। ফলে আগের সরকারগুলির মারাত্মক সব ভুল, স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড, চরম দুর্নীতি, অপশাসন ; সব মানুষ ভুলে যেতে বসেছে।

দেশে এখন এক চরম নৈরাজ্যকর অবস্থা। সব কিছু ভেংগে পড়ছে। এই অবস্থা বেশি দিন চলতে পারে না।

এই সরকারের ব্যর্থতার জন্য দেশে যদি সামরিক শাসন কিংবা অন্য কোন ক্ষমতার পালাবদল হয় তবে তার দায়ভার এই সরকারকেই নিতে হবে।

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent