
একটি দল যদি সন্ত্রাস এবং মানুষ হত্যাকেই যদি তাদের লক্ষ্য পূরণের জন্য দলের গঠনতন্ত্রে ঠাই দেয় তবে সেই দল সন্ত্রাসী দল হিসাবে নিষিদ্ধ হতে পারে।
জার্মানির নাৎসি বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ সংগঠন।
এই সংগঠনের সাথে যারা জড়িত ছিল নুরেমবার্গ ট্রায়ালে তাদের বিচার হচ্ছে এখনো । এমন কি ১০০ বছর বয়স্ক ব্যক্তিকেও বিচারের সম্মুখীন হতে হয়েছে নাৎসি বাহিনীর সদস্য হবার কারনে। কারন, নাৎসি বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত করেছিল,গনহত্যা চালিয়েছিল। এই সব মানবতাবিরোধী অপরাধ তারা সাংগঠনিকভাবেই করেছিল।
বাংলাদেশে পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টি নিষিদ্ধ সংগঠন। কারন, তারা সশস্ত্র সংগ্রামেকে তাদের পার্টির গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করেছে। সশস্ত্র সংগ্রাম করতে গেলে মানুষ হত্যাকে স্বীকার করে নিতে হয়। তাই এই ধরনের সংগঠন নিষিদ্ধ হতে পারে।
বাংলাদেশে হরকতুল জিহাদ একই কারনে নিষিদ্ধ। কারন, জিহাদ করতে গেলে মানুষ হত্যা করার বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে।
ভারতে একই কারনে নকশালীরা নিষিদ্ধ ছিল।
ইসলামী স্টেট একই কারনে নিষিদ্ধ সংগঠন। কারন, তারা সন্ত্রাস করে সাংগঠনিক ফিলোসোফির কারনে।
কু ক্লাক্স ক্লান নিষিদ্ধ সংগঠন। বোকো হারাম নিষিদ্ধ সংগঠন। হামাস,হিজবুল্লাহ,আল কায়েদা নিষিদ্ধ সংগঠন। এই সব সংগঠন লক্ষ্য হাসিলের জন্য সন্ত্রাসকে দলের গঠনতন্ত্রে মেনে নিয়েছে।
আওয়ামী লীগ তার ১৬ বছরের শাসন আমলে জামাতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করতে পারেনি কেন? শেষের দিকে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে ১৬ বছরের শুরুর থেকেই জামাতকে তারা নিষিদ্ধ করতে পারতো। কেন করেনি?
পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসাবে তারাও যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত ছিল, তারাও গনহত্যার সহযোগী ছিল। তাহলে আওয়ামী লীগ প্রথম দিকেই জামতকে নিষিদ্ধ করতে পারতো।
কিন্তু আওয়ামী লীগ সেই পথে যায়নি। না যাওয়ার পেছনের কারনগুলি কি ছিল?
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে যেমন আন্তর্জাতিক চাপ এসেছে, জামাতকে নিষিদ্ধ করলেও একই ধরনের চাপ আসতো।
জামাতের যারা যুদ্ধাপরাধী ছিল, তাদের বিচার হয়েছে, তাদের অনেকের ফাঁসি হয়েছে। এর থেকে বুঝা যায় ব্যক্তির অপরাধের দায় কোন দল বা সংগঠনকে দেওয়া যায় না। দলের মধ্যে থাকা ব্যক্তির অপরাধের বিচার হয়েছে, শাস্তি হয়েছে। তার দায় দল বা সংগঠনের নয়।
একই কারনে আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ করা যায় না। আওয়ামী লীগের যারা অপরাধ করেছেন তাদের বিচার শুরু হয়েছে। তাদের অপরাধের দায় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে নিতে পারে না।
দলটির জনভিত্তি আছে। পাঁচ বার দেশ শাসন করেছে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী প্রধান দল আওয়ামী লীগ। গঠনতান্ত্রিকভাবে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসকে লক্ষ্য অর্জনের ভিশন/মিশন হিসেবে স্বীকার করেনি।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা যাচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর এইভাবেই খুজেছি।
স্কারবোরো, কানাডা
