
আপনি মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে থাকবেন না বিপক্ষে থাকবেন সেটি আপনাকেই নির্ধারণ করতে হবে।
এখানে কোন মাঝামাঝি অবস্থান নেই। হয় পক্ষে না হয় বিপক্ষে থাকবেন। পক্ষেও থাকবেন আবার বিপক্ষেও থাকবেন, দুটি একসাথে হবে না। যে কোন একটি বেছে নিতে হবে। আপনি মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলবেন, আবার অন্যদিকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকেও সমর্থন করবেন, দুটি এক সাথে হয় না।
জামাতের আমির ড. শফিকুর রহমান তার অবস্থান সুস্পষ্ট করেই বলেছেন।তিনি বলেছেন, জামাত পাকিস্তানের অখন্ডতায় বিশ্বাস করেছিল। সেই জন্য তারা পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষার জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সব ধরনের কর্মকান্ডকে সমর্থন দিয়েছিল এবং জামাত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসাবে মুক্তিকামী মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল। জামাতের আমির বলেছিলে, এটি হতেই পারে।
এটি হচ্ছে জামাতের স্পষ্ট অবস্থান। তারা কিন্তু হিপোক্রেট না। তারা যে অবস্থানটি নিয়েছিল সেটি নীতিগতভাবেই নিয়েছিল। এখনো তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সেই কারনেই আজ তারা স্বাধীন বাংলাদেশকে পূর্ব পাকিস্তানে ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে। তারা কিন্তু তাদের ভিশন এবং মিশনে ক্লিয়ার। ভৌগোলিকভাবে আগের সেই পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে যাওয়া হয়ত সম্ভব নয় কিন্তু পাকিস্তানের সাথে এক ধরনের কনফেডারেশন করে থাকা অসম্ভব নয়।
কিন্তু আমাদের অনেকেরই অবস্থান পরিষ্কার না।আমাদের অনেকের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে হিপোক্রেসি আছে। আমরা যদি বাংলাদেশের ভৌগোলিক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি তাহলে আমাদেরকে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেই বলতে হবে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর যে সব বিষয়ে মিমাংসা হয়ে গেছে সেই সব মীমাংসিত বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।আপনি নিজেই সেই সব মীমাংসিত বিষয় কি কি ছিল তা নির্ধারণ করতে সক্ষম। তার মধ্যে আছে আমাদের মানচিত্র, যে মানচিত্রের কারনে আমরা ভৌগোলিকভাবে বিশ্বে অন্যান্য দেশ থেকে আলাদাভাবে চিনতে পারি। আমাদের জাতীয় পতাকা, যে পতাকার কারনে বিশ্বসভায় আমরা স্বাধীন পতাকা নিয়ে পরিচিত হতে পারি। আমাদের জাতীয় সংগীত,যে সংগীত বিশ্ব সভায় প্রতিনিধিত্বের সময় বাজিয়ে শোনানো হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। সেটি আপনিও জানেন এবং আপামর বাংলাদেশের মানুষ জানে। সেটি কোন দলিয় ইতিহাস নয়। আপনার মন থেকে যে ইতিহাস উঠে আসে সেটিই প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সেটিই স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব কে বা কারা দিয়েছিল। ৫২,৬৯,৭১, এই সকলই হচ্ছে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের মীমাংসিত বিষয়।
এই মীমাংসিত বিষয়গুলি আপনি স্বীকার করেন কিনা, বিশ্বাস করেন কিনা, তার উপরেই নির্ভর করে আপনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ভণ্ডামি ছাড়া সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন কিনা।
বাংলাদেশের এই সব মীমাংসিত বিষয়ে আমার সুস্পষ্ট অবস্থান আছে। আর এই সুস্পষ্ট অবস্থানের কারনেই আমি কোন স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে সমর্থন করতে পারি না।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ড.ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। এই সরকার তার বিভিন্ন কর্মকান্ডে সেটি প্রমান করেছে। আমার মনে হয়েছে এই সরকারের নেপথ্যে শক্তি যোগাচ্ছে জামাত-শিবির এবং স্বাধীনতা বিরোধী কিছু জংগী সংগঠন।
আমি যেহেতু পরিষ্কারভাবেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি তাই আমি এই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে সমর্থন করতে পারি না।
আপনারাও আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করুন। আপনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে না বিপক্ষে সেটি সুস্পষ্ট ভাবে বুঝার চেষ্টা করুন।
আপনার অবস্থান যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে হয়ে থাকে তবে আপনি স্বাধীনতা বিরোধী কোন শক্তিকে সমর্থন করতে পারেন না।
আপনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলবেন, আবার অন্যদিকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে সমর্থন দিবেন, এমটি হলে মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপনার অবস্থান পরিষ্কার নয়।
আপনাকে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে, নতুবা বিপক্ষে অবস্থান নিতে হবে কিন্তু একই সাথে উভয়টি নয়।
আপনিই ঠিক করুন আপনি পক্ষে না বিপক্ষে।পক্ষে হলে আপনার অবস্থান পরিষ্কার করুন।
বিপক্ষে হলে আমাদের ঘৃনা ছাড়া বলার কিছু নেই।
স্কারবোরো, কানাডা
