জাতীয়ঐক্য কে না চায়?

জাতীয়ঐক্য কে না চায়

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টা যদিও সোনার পাথরবাটি; তবু কেউ কেউ চিৎকার করে বলছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আসুন সকলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি। এবং বলতে দ্বিধা নাই, দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এই ডাকে সাড়া দিচ্ছে না।

কারণটা জাতীয় ঐক্যের ডাকদাতাদের অজানা না। মূল কারণ, জামায়াত। কিন্তু, তারা সেটা মানতে চাচ্ছে না। জামায়াতের ডিএনএতে যে জিনিষটা ভয়াবহভাবে অনুপস্থিত, সেটা হচ্ছে বহুমত ও পথের প্রতি শ্রদ্ধা। বৈচিত্র্যময়তায় স্রষ্টার সায় থাকলে কী হবে, জামায়াতের তাতে ঘোরতর আপত্তি, সেজন্য তাদের সংগঠনে তো বটেই, এমনকি জামায়াত-পরিচালিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কিংবা এনজিওগুলোতেও তাদের কর্মী বা সমর্থক ছাড়া কাওকে ঢুকতে দেয় না।

- Advertisement -

আবার এরাই কিনা অন্য দলের কর্মী বা সমর্থকদের পরিচালিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কিংবা এনজিওতে দিব্যি চাকুরি করে। সেখানেই শেষ না, প্রয়োজনে তারা অন্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঢুকেও কাজ করে। যেমনটা তারা করেছে ছাত্রলীগের বেলায়, সেখানে অবলিলায় তারা মিছিল-মিটিং সব করতে পেরেছে, পদ-পদবীও লাভ করেছে।

অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যেও তারা অনুপ্রবেশ করে কাজ করে। লিবারাল দল কিংবা সংগঠনে যে কেউ সদস্য হতে পারে, অত বাছবিচার করে। কথা হচ্ছে, সুযোগ আছে বলেই সেখানে ঢুকতে হবে কেন? এটা তো স্রেফ প্রতারণা। প্রতারণা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করা কি সম্ভব? তারা অবশ্য গর্ব করে দাবি করে, এটা নাকি কৌশল।

একেবারে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও যদি ধরি, তো কেউ কি সজ্ঞানে কোন প্রতারকের সাথে লেনা-দেনায় রাজি হবে? আর রাজনৈতিক প্রতারণার জায়গা থেকে বিবেচনা করলে এটা তো স্পষ্ট যে, জামায়াতের মূল এজেন্ডা হচ্ছে একাত্তরের পরাজয়ের বদলা নেওয়া, আর সেজন্য যতবার তারা ক্ষমতার কাছাকাছি গেছে, ততবার তারা পাকিস্তানকে হাজির করেছে আমাদের সামনে।

সে উদ্যোগ হালে পানি পায় না, কারণ, পাকিস্তান একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র। পুঁজিবাদ বিকাশ, মানবসম্পদ ‍উন্নয়ন থেকে শুরু করে মাথাপিছু আয়ের দৌড়ে তাদেরকে আমরা পেছনে ফেলে এসেছি বহুদূরে। ক্রিকেট ছাড়া আর কোথাও তারা সফল না। বাংলাদেশ ক্রিকেট পাকিস্তানের সেই অভিজ্ঞতা দাম দিয়ে কিনেছে বৈকি। একসময় তাদের টেক্সটাইল ছিল; কিন্তু, প্রতারণা করতে গিয়ে বিশ্ববাজার থেকে তারা বিদায় নিয়েছে, সেটা এখন বাংলাদেশের দখলে।

প্রতারণা নামক রোগের কারণে প্রবাসী পাকিস্তানিদের অবস্থাও ভালো না, যে কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে তারা পচা এবং ফাঁকিবাজ। আমেরিকা কানাডা দূরের কথা, সৌদি আরব কিংবা আরব আমিরাতের মতো দেশও তাদের পছন্দ করছে না। তো, সেই পাকিস্তানকে জামায়াতিরা হাজির করছে আমাদের সার্বভৌমত্বের পাহারাদার হিসেবে। পুরান ঢাকার ভাষায় একটা কৌতুক মনে পড়ে গেল–আস্তে কন মিয়া, ঘোড়ায় ভি হাসবো।

 

ক্যালগেরি, আলবার্টা

- Advertisement -

Read More

Recent