
ট্র্যাম্প কানাডাকে তাদের ৫১ তম স্টেট বানাতে আগ্রহী। এটি তিনি করতে সফল না হলে কানাডা থেকে যে সব পন্য আমেরিকায় রপ্তানী করা হয় সেই সব পন্যের উপর ২৫% ট্যারিফ আরোপ করবেন।
ট্র্যাম্প কর্তৃক কানাডাকে আমেরিকার ৫১ তম স্টেট বানানোর ঘোষণাকে প্রথমে সবাই হাস্য-রস হিসাবে নিতে চেয়েছিল।
কিন্তু ট্র্যাম্প বার বার একই কথা বলতে থাকায় বিষয়টিকে আর হাস্য-রস হিসাবে না ভেবে সিরিয়াস কথা হিসাবেই কানাডার সরকার ভাবা শুরু করেছে।
এর পাল্টা ব্যবস্থা কি হতে পারে তা নিয়ে কানাডার সরকার ভাবা শুরু করেছে।
অন্টারিও প্রিমিয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, আমেরিকা থেকে অন্টারিওতে যে সব পন্য রপ্তানী হয় সেই সব পন্যের উপর তিনি পাল্টা ট্যারিফ বসাবেন।
আনন্দের খবর এই যে, ট্র্যাম্পের এই ঘোষণার বিরুদ্ধে কানাডার সব দল ঐক্যবন্ধ।
কানাডার একজন নাগরিক হিসাবে আমার কাছে ট্র্যাম্পের এমন চিন্তাকে কেমন যেন বিদঘুটে আর ঘোলাটে মনে হচ্ছে।
আমাদের মতো সাধারণ নাগরিকদের জীবনে এই সব দ্বন্ধের ফল ভালো হয় না। আমরা এমনিতেই যাতাকলে পৃষ্ঠ হচ্ছি। তার মধ্যে ট্র্যাম্পের এই সব পাগলামী বাড়তি চিন্তার কারন হচ্ছে।
যাই হোক, ট্রাম্পের এই ঘোষণায় অনেকের সংগে কথা বলে মনে হয়েছে তারা বেশ পুলকিত। তারা আমেরিকার গর্বিত নাগরিক হয়ে যাবেন, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পরাশক্তির মাটিতে তারা কাজ করার সুযোগ পাবেন, এই রকম নানা রকম কল্পিত ভাবনায় তারা বেশ আনন্দিত এবং পুলকিত।
কিন্তু আমার কাছে এটি কোন পুলকিত হবার মতো বিষয় মনে হচ্ছে না।
প্রথমত: কানাডা স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র কেন ট্র্যাম্পের এই ধরনের সাম্রাজ্যবাদী চিন্তার প্রতি সাড়া দিবে?
তাছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি কানাডার সোস্যাল সিকিউরিটি সিস্টেম আমেরিকার চেয়ে ভালো। কানাডা কল্যানমূলক রাষ্ট হিসাবে আমেরিকার চেয়ে উত্তম।
কানাডার হেলথ কেয়ার সিস্টেম প্রতিটি নাগরিকের জন্য আর্শীবাদের মতো। ড্রাগের খরচ ছাড়া মোটামুটি সবই ফ্রি। যে কোন বড় ধরনের সার্জারী বিনা খরচেই করা যায়। আমেরিকাতে এটির জন্য প্রাইভেট ইন্সুইরেন্সের দ্বারস্ত হতে হয় যার cost আছে।
কল্যানমূলক রাষ্ট্রের আরও অনেক সুবিধা আছে যেগুলো আমেরিকার চেয়ে ভালো।
তাছাড়া আমেরিকায় স্টেট টু স্টেট ফ্যাসিলিটি ভ্যারি করে। সব স্টেটের সুবিধাদী একই রকম না। কোন কোন স্টেটে নাগরিক সুবিধা বেশি, আবার কোন কোন স্টেটে নাগরিক সুবিধা কম।
এমন অবশ্য কানাডাতেও আছে। কানাডাতেও সুবিধাদী প্রভিন্স টু প্রভিন্স ভ্যারি করে। কানাডার অনেক প্রভিন্সের লিভিং কস্ট অন্টারিওর চেয়ে কম।
এমন আশংকা করার কারন আছে যে, আমেরিকা কানাডাকে ৫১ তম স্টেট করে নিলে তারা সেই ৫১ তম স্টেটের প্রতি অন্যান্য স্টেটের তুলনায় বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পারে। তারা ৫১ তম স্টেটকে শোষন করে দরিদ্রতম স্টেটে পরিনত করতে পারে।
তাই আমি ট্র্যাম্পের এমন ঘোষণায় আনন্দিত কিংবা পুলকিত বোধ করি না।
আমি কানাডার গর্বিত নাগরিক হিসাবে কানাডাতে থাকতেই ভালোবাসি। কানাডা আমার দেশ। আমি স্বাধীন, সার্বভৌম দেশের নাগরিক।
স্কারবোরো, কানাডা
