
রুহীকে দেখিনি অথচ ওর নামটা দেখলেই ওর দারুণ পোস্টগুলো মনে পড়ে।ও সেই সামহোয়্যারইন ব্লগ থেকে চেনা।
কত দেশ, কত নদী, কত মানুষ দেখেছি ওর চোখ দিয়ে।
নাইজেরীয় জীবন জেনেছি ওর লেখাতে।মাঝেমধ্যে ওর রান্নার ছবি দেখে এমন লোভ হয়েছে , মনে হয়েছে বলি , শোন তোমার ওখানে বেড়াতে আসবো আর তোমার মজার রান্না খাবো আর ঘুরবো। ওর লেখায় জেনেছিলাম, বাইরে বের হলে ব্যাগ এ অনেক টাকা রাখতে হয়। নাইজেরিয়াতে পথে গাড়ি থামিয়ে ছিনতাই হয়।
রুহী আজ একটা পোস্ট লিখেছে দেশে যেয়ে । যাতে ও লিখেছে, “সিদ্ধান্ত ফাইনাল। কিসের নাইজেরিয়া, কিসের আমেরিকা, কিসের কানাডা,এক্কেবারে গ্রামে এসেই স্যাটেল হবো। শ্বশুর বাড়ি এসে দেখি ঘরে ঘরে মহিলারা হাঁস পালে, মুরগী পালে, গরু পালে। যার যার হাঁসের জন্য আবার তার তার জায়গাতেই পানির ডোবা বানিয়ে রেখেছে। ডোবার চারপাশে নেট দিয়ে বেড়া দেওয়া। তাই কারোর জমির ফসল নষ্ট করেনা। ঘরে বসেই মহিলাদের প্রচুর ইনকাম এসব করে। আমার শ্বশুরের ঘরেও এসব আছে। তাই ভাবছি গ্রামেই চলে আসবো। আমরাও গরুর খামার করবো, হাঁস মুরগী পালবো ইনশাআল্লাহ। বিদেশে থাকা বহুত হইছে। বিদেশ ভ্রমণও বহুত হইছে। এবার কৃষাণী হওয়া বাকি।”
কমেন্ট এর ঘরে লিখলাম,”খুব ভালো পরিকল্পনা।
ফেরা হবে না জেনেও আমারো ফিরতে ইচ্ছে করে।
এসবের কিছু নাই।
শুধু গ্রামের আইল ধরে হাঁটার জন্য, ঝকঝকে পূর্ণিমা দেখার জন্য,
শীতের সকালে কুয়াশায় ভেজার জন্য,
চূলায় পোড়া আলু খাবার জন্য, রাস্তার পাশে বসে আগুন গরম ভাঁপা পিঠা আর ভাড়ের চা খেতেও দেশে আসতে ইচ্ছে করে!
কিচ্ছু ইচ্ছে বাতাসে ভেসে যায়….
সেই গানের মত, “আমরা এমনি এসে ভেসে যাই
আমরা এমনি এসে ভেসে যাই
আলোর মতন, হাসির মতন
কুসুমগন্ধরাশির মতন
হাওয়ার মতন, নেশার মতন
ঢেউয়ের মতন এসে যাই”
ভালোবাসা রুহী। আনন্দে থাকো”
আসলেই কিন্তু কয়েকদিন ধরে মনে হচ্ছে লালমনিরহাটে চলে যাবো। ওখানে যেয়ে দিব্যি কাটিয়ে দেয়া যাবে বাকি জীবন!
রুহীর মতই হাঁস মুরগি পালবো। বাগান করবো।
বাচ্চাদের সাথে কবিতা করবো। ধরলা বা তিস্তা নদীতে যাবো নৌকায় চড়তে। স্টেশনের ওভারব্রিজ পারলহয়ে চলে যাবো গোশালা রোড, বাবুপাড়া, থানাপাড়া! হেঁটে হেঁটে দেখবো ছেলেবেলার শিমুল আর কৃষ্ণচূড়া!
ভাইজান এর মীর লাইব্রেরীতে শুনেছি সাহিত্য আড্ডা, কবিতা আড্ডা হয়, ওখানে যেয়ে গুনীজনদের কথা, কবিতা শুনবো।
একথা আপাকে বলতেই তো মহাখুশি!
বলে, চলে আসো সাজি।
আসাটা যেমন কঠিন ছিল।
ফেরাটাও কঠিন যে তা জানি!
মায়া এমন এক অনুভূতি, চাইলেও অনেক কিছু পারি না,বেঁচে থাকার এক অপার্থিব অনুভব এ মায়া!
আজ বন্ধু মায়া রাতে ফোন করেছিল। ওকে একথা বলতেই বলে, চলো সাজি, তুমি এলে আমিও লালমনিরহাটে চলে যাবো।আমার কথায় সায় দিয়ে বলে,ভাতের হোটেল দিবো, নাইলে সেলাই স্কুল (ও নাকি যেখানেই যায়, ওর মায়ের সেলাইমেশিন নিয়ে যায়)।
জাকিয়ারও এমনই ইচ্ছে। ও তো আচার বানাচ্ছে আজকাল।
মায়ার সাথে ভিডিও কলে কথা বলতে বলতে রুটি বানাচ্ছিলাম আর শেকছিলাম। মায়া তো মুগ্ধ! এত গোল করে রুটি বানাতে পারো সাজি!
দেবো নাকি তাহলে রুটি, সুজি আর ডিম আলুভাজির দোকান?
আর লালমনিরহাটের খুব কাছেই কাকিনায় তাহমিনা ভাবীর অপূর্ব সেই দোতলা বাড়িতে বসবে কবিতা বা গানের আসর। ভাবী তো প্রতিবছর বার্লিন থেকে সেখানে যেয়ে সেই ইচ্ছেগুলোকে সাজাচ্ছেন।আমি ভাবীর বাগানের গোলাপে ছুঁতে চাই। পুকুরের সেই রাজহাঁসগুলো! ভাবীর বারান্দায় রাখা সেই রকিং চেয়ারটা! আরো কত কি!
জীবনে বাঁচতে কী খুব বেশি কিছু লাগে আর এই বয়সে এসে?
একটু আনন্দ।একটু হাসি।
একটু কথা। একটু সময় দেয়া!
একটু দুঃখ কষ্ট ভাগাভাগি!
এই শীতের দেশে জীবন দিনে দিনে ভীষণ একলা আর কঠিন লাগছে!
অটোয়া, কানাডা
