আয়নাঘর

আয়নাঘর

এ সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ খবর হিসেবে ’আয়নাঘর’ জায়গা করে নিতে পারতো; কিন্তু, এটা হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে মাত্র। বাঙালির বুদ্ধি যে হাঁটুর নিচে নেমে গেছে তারই প্রমান দিতে যেন নৃপতিগণ দলবেঁধে ছুটে গেছে নাটকের অংশ হতে। সত্য হচ্ছে, আয়নাঘর আছে এবং তা দেখানোর সাহস মান্যবরদের নাই। তো জাতিসংঘের রিপোর্ট তো আর গান্ডুদের কাজ না, সেটাই বরং গুরুত্ব দিয়ে পড়া উচিত। অনেক কিছুই আছে, এবং ওই যে কায়দা করে হতাহতের তালিকায় সংখ্যা বাড়াতে ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত নিয়ে গেছে, সেটাই বৈশ্বিক খেলা। সেজন্য হেডিং পড়ে আনন্দে লাফ না দিয়ে মন দিয়ে পুরো রিপোর্ট পড়তে থাকুন, তথাকথিত বিপ্লবের পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে টুইট করেছিলেন, তার সপক্ষে কম তথ্য হাজির করা হয়নি। নিহতদের আশি শতাংশ ৭.৬২ বোরের গুলিতে মারা গেছে, যা কিনা যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছে। আচ্ছা, গত ছয়মাসে একটা তদন্তও কি হয়েছে ওই ৭.৬২ নিয়ে। উল্টো এই তথ্য দেওয়ার কারণে ব্রি. সাখাওয়াৎ সাহেবকে উজিরে খামাকা বানানো হলো!

 

- Advertisement -

আমাদের দেশের মিডিয়া মেতে আছে আওয়ামী লীগ নিয়ে, যদিও পুরোটাই বিপক্ষে, তবু আওয়ামী লীগ ছাড়া তারা একটা দিনও পার করতে পারছে না। অথচ, বিশ্বমিডিয়ায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র: বাংলাদেশ শব্দটি উচ্চারিত হচ্ছে কতিপয় ব্যর্থ রাষ্ট্রের সাথে। মার্কিন ডিপ স্টেট এবং জর্জ সরোস নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে, এটা তাদের নজর এড়ানোর কথা না। গতকাল তেমন একটা পডকাস্টে দেখলাম বাংলাদেশ নামটি উচ্চারিত হতে, পাশাপাশি লিবিয়া। আচ্ছা এত দেশ থাকতে লিবিয়া কেন? পরে, লিবিয়া নিয়ে একটু খোঁজ করলাম। গাদ্দাফির পতনের আগে তাদের জনপ্রতি জিডিপি ছিল ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। এখন ৬ হাজার। সরকার শিক্ষা স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে যত সুবিধা দিতো, সব বন্ধ। সেখানে আফসোস লীগের সংখ্যা নাকি নব্বই শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, সবাই ‘একি হলো, একি হলো’ বলে বুক চাপড়াচ্ছে। গণতন্ত্র তো সোনার হরিণ, মাঝখান থেকে সুখটাও নির্বাসনে।

জর্জ সরোজরা পরিবেশ আর সমকামিতায় যতটা আগ্রহী, ততটাই এলার্জি রাষ্ট্রের সেবামূলক কাজে বিনিয়োগে। সরোসের মুরিদ ইউনুসের সরকারও বাংলাদেশে সব রাষ্ট্রীয় ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে, টিসিবিও বন্ধ, আর বিদ্যুতে যে ২০ হাজার কোটি টাকার ভুর্তুকি খেয়ে মধ্যবিত্তের চিত্ত বিপ্লবের আগুনে জ্বলে ওঠেছিল, সেই ভূ্র্তুকি বন্ধ হবে খুব শীঘ্রই, গ্যাসের তিনগুন বাড়ানো আপাততঃ কলকারখানা দিয়ে শুরু হলেও শীঘ্রই তা যে সাধারণ মানুষের ওপরও চাপানো হবে, সেটা নিশ্চিত। ও হ্যাঁ, গার্মেন্টসের অর্ডারগুলো কোথায় চলে যাচ্ছে, জানেন তো? ইন্ডিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তান খুব চেষ্টা করছে, লাভ হচ্ছে না, বায়াররা নাকি তাদের বলেছে, “ভাগ শালা!”

ইউএসএআইডির ফান্ডিং বন্ধ করে দেওয়ার পরে নানাদেশে নানাজনের হিজাব খুলে পড়তে দেখা যাচ্ছে। শুধু ইউক্রেনেই প্রধান ১৪ টি সংবাদপত্র রাতারাতি বন্ধ হয়ে গেছে। ভাবা যায়? হিজাবের অনেক অর্থের এক অর্থ আড়াল; নিজেকে আড়াল করার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে, তবে, মন্দলোকেরা এ ব্যাপারে যে ধরণের দক্ষতা এবং সফলতার ইতিহাস গড়েছে, তেমন নজীর ভালোমানুষদের বেলায় সচরাচর দেখা যায় না।

দু’দিন আগে টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাইক বেন্জ ইউএসএআইডিকে ন্যাংটা করে দেওয়ার পর সারা দুনিয়ায় ঝড় ওঠেছে। ২০১৩-১৪ সালে ইউক্রেনের কালার বিপ্লব থেকে শুরু করে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের বিপ্লব, সর্বত্র ইউএসএআইডির খেলা। যুক্তরাষ্ট্রের এই ফানড, সাথে জর্জ সরোসের দুষ্টুবুদ্ধি, সবকিছুর সহজ নিশানা উদীয়মান দেশগুলো। আর সেখানকার জনগণ গণতন্ত্রের আকাঙ্খা থেকে এদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে তাদেরই সরকারকে হটিয়ে ডিপস্টেটের পুতুল সরকারকে আমন্ত্রণ জানায়। তারপর থেকে তাদের চোখের সামনে মঞ্চস্থ হতে দেখে জাতীয় জীবনের সবচে বেদনাদায়ক অধ্যায়। গণতন্ত্রের যে প্রকল্প নিয়ে তারা মধ্যবিত্তের স্বপ্নকে জাগিয়ে তোলে, সেই প্রকল্প পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তারা চলে যায়, আর দূর থেকে দেখতে থাকে–রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরী। ইরান, ইরাক, তিউনেশিয়া, ইয়েমেন, মিশর, লিবিয়া, পাকিস্তান এবং সর্বশেষ বাংলাদেশ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেখলাম ওই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ শেয়ার করতে। ভদ্রলোক কি সত্যি সত্যি ডিপস্টেটকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে? কে জানে।

কমেন্টবক্সে সাক্ষাৎকারটির লিংক দিলাম। অনেক লম্বা যদিও।

- Advertisement -

Read More

Recent