
গতকাল তুষার ঝড়ের রাতে আর আজ সারাদিন জানালা দিয়ে তাকিয়ে তুষারপাত দেখেছি।
চারিদিক সাদা হয়ে আছে। মনে হচ্ছিল বাসাটা একটা দ্বীপ। চারিদিকে বরফের সমুদ্র।বিকালে পাশের পার্কটায় যেয়ে দেখি কয়েক ফুট বরফে তলিয়ে আছে চারিদিক।
আমার প্রতিবেশি একটা চাইনিজ মেয়ে বাইরে থেকে বাসায় ফিরছিল।
আমি বরফের ছবি তুলছিলাম।ও আমার বেশ কয়েকটা ছবি তুলে দিল।জানালো সকালে যখন বাইরে বের হয়েছিল, তখনো বরফ পরিষ্কার হয়নি।আজ উবার কল করা উচিত ছিল।ভীষণ কষ্ট হয়েছে। হাসতে হাসতে জানালো, কালই তো রোদ উঠবে। এই তুমুল বরফের মাঝে দাঁড়িয়ে রোদের গল্প মন্দ না।
ওকে বলতে ইচ্ছে করছিল, জানো কাল আমাদের দেশে বসন্তের প্রথমদিন।আর এখানে আমরা বরফে…তা তা থৈ থৈ..
বলা হলো না। বলা হয় না।
ও বাই বলে বাসায় চলে গেলো।
কত কিছু ভাবনায় ডুবে থাকি সারাক্ষণ । বলা হয় না।
আজ সারাদিন মনের জানালা দিয়ে কতকিছু দেখছি।
দেখছি অজস্র লাল গোলাপ। দেখছি কৃষ্ণচূড়ার দেশ।
“বসন্ত এসে গেছে” গানের সুর গুনগুন করি।
ইউটিউবে বসন্তের গান শুনতে শুনতে মনেহয়, কত কথা মনে হয়!
“সুখে আছে যারা, সুখে থাক্ তারা,
সুখের বসন্ত সুখে হোক সারা,
দুখিনী নারীর নয়নের নীর
সুখী জনে যেন দেখিতে না পায়।”
অনিমা রায় এর সাথে গলা মেলাই।
জীবনের সুখপাতা ছবিগুলো ফিরে ফিরে আসে।
পাহাড়সম দুঃখও পানির মত সহজ বয়ে যায়।
একটা পাখি জীবনের দিকে তাকিয়ে থাকি।
শুভ বসন্ত।
তুষারিত বসন্তের শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা।
আমরা সবাই যেনো ভালো থাকি।
অটোয়া, কানাডা

