লিবারেলের মার্ক কার্নি এবং আমাদের কিংস পার্টি

ছবি আ হোসেন

ফেডারেল পর্যায়ে জনমত জরিপগুলিতে  কনজারভেটিভ পার্টির সাথে লিবারেল পার্টির অনেক ব্যবধান দেখা যাচ্ছে।

জাস্টিন ট্রুডো লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেওয়ার পর এই জনমতের ক্ষেত্রে বেশ পরিবর্তন এসেছে।

- Advertisement -

দুই দলের মধ্যে ব্যবধান কমে আসছে।

কানাডার জনগন বুঝে গেছে মার্ক কার্নি লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছেন।

তাই জনগনের মধ্যে লিবারেল পার্টি সম্পর্কে দৃষ্টিভংগির গুনগত পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। লিবারেল পার্টি সম্পর্কে তাদের পজেটিভ মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে।

অধিকাংশের মধ্যে এই ধারনা বন্ধমূল হয়েছে যে, কানাডার বর্তমান শোচনীয় অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য এবং ডোনাল্ড ট্র‍্যাম্পের ক্রমাগত ট্যারিফ আরোপের হুমকি মোকাবিলা করার জন্য মার্ক কার্নি হচ্ছেন সঠিক এবং যোগ্য ব্যক্তি।

জনগন উপলদ্ধি করছে এই মূহুর্তে  কানাডার হাল এমন একজন ব্যক্তির হাতে যাওয়া উচিত যিনি অর্থনীতি বিষয়ে অভিজ্ঞ এবং অর্থনৈতিক ক্রাইসিস থেকে বেরিয়ে আসার পাশাপাশি ট্র‍্যাম্পকে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে  দক্ষতার পরিচয় দিবে।

মার্ক কার্নিই সেই ব্যক্তি যিনি কানাডা  এবং ইংল্যান্ড, উভয় দেশেরই ব্যাংক গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, মার্ক কার্নি লিবারেল পার্টির নেতা নির্বাচিত হলে জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে এবং কনজারভেটিভ পার্টির সাথে ব্যবধান কমে আসবে।

লিবারেল পার্টির রেজিষ্টার্ড ভোটারদের প্রতি আহ্বান থাকবে, মার্ক কার্নিকে আপনার মূল্যবান ভোটটি প্রদান করে জয়যুক্ত করুন।

 

কিংস পার্টি গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তাতে প্রথমেই নানা স্থানে বিভেদ, বিভাজন শুরু হয়ে গেছে।

মূল কারন, কর্তৃত্বের লড়াই। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি না। এই কিংস পার্টি ভবিষ্যতে ভাগ-বাঁটোয়া, হালুয়া-রুটির বিরাট প্ল্যাটফর্ম হবে। এর কেন্দ্রে না থাকতে পারলে ভাগ-বাঁটোয়ারার ন্যায্য হিসসা থেকে বঞ্চিত হতে হবে। তাই কামড়াকামড়ি লেগে গেছে।

তাছাড়াও, জুলাই-আগষ্ট আন্দোলনে বিভিন্ন দল,মতের ছাত্র-জনতা এক কাতারে মিলিত হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জিত হবার পর যে যার দল, মতের ভিন্ন ভিন্ন গন্তব্যে ফিরে গেছে।

আন্দোলন যে মূলত স্বতঃস্ফূর্ত গন-অভ্যুত্থান নয় বরং বেসামরিক লেবাসে সামরিক ক্যু ছিল, যার পেছনে আমেরিকা এবং আইএস এর যৌথ মদদ এবং পরিকল্পনা ছিল, জামাত-শিবির মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে, দেশপ্রেমমূলক গান গেয়ে, প্রগতিশীল শ্লোগান দিয়ে ছাত্র-জনতাকে প্রতারিত করে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেছিল ইত্যাদি বিষয়গুলি ছাত্র-জনতা অনেক পরে হলেও বুঝতে পেরেছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই যারা আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল তাদের অনেকেই এই কিংস পার্টির সাথে যুক্ত হতে চাইবেন না।

একই কারনে আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার পতন ইস্যুতে  বিভিন্ন দল,মত এবং পথের যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা এই কিংস পার্টি গঠনের ক্ষেত্রে হবে না।

কিংস পার্টিতে এখন শুধু একটি ক্ষুদ্র অংশই যুক্ত হতে চাইবে যারা আসলে ভবিষ্যত ভাগ-বাঁটোয়ারা এবং ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থাকার স্বপ্ন দেখছে। এই ক্ষুদ্র অংশের মধ্যে এখন শুরু হয়ে গেছে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

কিংস পার্টি আসলে শিবিরেরই একটি এক্সটেনশন ছাড়া আর কিছুই নয়। অনেক প্রগতিশীল ছাত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ছাত্ররা এই এক্সটেনশনের বিষয়টি না বুঝতে পেরে এই পাতা ফাঁদে পা দিবে।

প্রগতিশীল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি কিংস পার্টিতে স্থান পেলেও তারা খুব একটা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। মূল কর্তৃত্ব থাকবে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতেই। তারাই কিংস পার্টিকে লিড দিবে। ভাগ-বাঁটোয়ারা, ক্ষমতা সবই তারাই উপভোগ করবে। অন্যরা শুধু ব্যবহৃত হবে।

কিংস পার্টি হবে ড.ইউনুসের অন্তবর্তীকালীন সরকারের লাঠিয়াল বাহিনী। তাদের প্রধান কাজই হবে আওয়ামী লীগকে দমন করা।

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent