
বিগত সরকারের পতনের সময় আওয়ামী লীগ বিরোধীরা ফেসবুকে খুব মজা করে লেখেছিল,আজ অমুক জায়গায় টি-২০ খেলা হচ্ছে। তারা তখন লেখেছিল, আজ অমুক উকেট পড়েছে, তমুক উকেট পড়েছে।
আনসার সদস্যদের দমনের সময় তারা বলেছিল,আজ আনসারদের সাথে টি-২০ খেলা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির বাসভবন ঘেরাওয়ের সময় তারা লেখেছিল আজ প্রধান বিচারপতির সাথে টি-২০ খেলা হচ্ছে।প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতি পদত্যাগের পর তারা লেখেছিল,আজ ছয়টি উইকেট পড়েছে।
সমন্বয়করা যখন হাইকোর্টের ১২ জন বিচারপতি অপসারনের দাবীতে হাইকোর্ট ঘেরাও করেছিল তখন তারা লেখেছিল আজ হাইকোর্টে টি-২০ খেলা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতিকে অপসারনের জন্য যখন বংগভবন ঘেরাও করা হয়েছিল তখন তারা লেখেছিল আজ বংগভবনে টি-২০ খেলা হচ্ছে।
কিন্তু সেই দিন আর উইকেট পড়েনি।
যারা ক্রিকেট ভালো বুঝেন তারা নিশ্চয়ই জানেন ক্রিকেটে ১১ জন ব্যাটসম্যানের মধ্যে মাক্সিমাম ১০ ব্যাটসম্যানকে আউট করা যায়। ১১ নং ব্যাটসম্যান কিন্তু নট আউট থেকে যায়।
খেয়াল করলে দেখবেন, ক্রিজে এখনো কিন্তু দুইজন ব্যাটসম্যান টিকে আছেন। তারা পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচের মতো ঠুক ঠুক করে খেলে যাচ্ছেন। তারা সুনীল গাভাস্কারের মতো ঠুক ঠুক করে বল ঠেকিয়ে দুই দিনে মাত্র ১ রান নেওয়ার মতো খেলে যাচ্ছে।
তাদেরকে লেগ স্পিন দেওয়া হচ্ছে, অফ স্পিন দেওয়া হচ্ছে, ইয়োর্কার, ইন্ডিপার, গুগলি, আউট সুইং,ইন সুইং দেওয়া হচ্ছে কিন্তু উইকেট আর পড়ছে না। এরা মাটি কামড়ে খেলে যাচ্ছে। কয়েকটা কঠিন ইন্ডিপার তাদের মিডল স্ট্যাম্প বরাবর দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা ঠেকিয়ে দিয়েছে।
বরং এখন যেটা হয়েছে,মাঠে যে পাকিস্তানি আম্পায়ার ছিল আলিম দ্বার,তার হঠাৎ করে বুকে চাপ ব্যাথা অনুভূত হওয়ায় তিনি মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্স নিয়ে মাঠ ছাড়া হয়েছেন। এখন মাঠে নতুন আম্পায়ার এসেছে। আবার দেখা যাচ্ছে থার্ড আম্পায়ারও চেঞ্জ হয়ে গেছে।
ফলে পায়ে লাগলেই আলিম দ্বার যে এলবিডাব্লিউ দিবেন বলে ভেবে রেখেছিলেন সেটিও আর সম্ভব নয়।
পপিং ক্রিজে দুজন জান বাজি রেখে খেলে যাচ্ছেন।।
দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কে নট আউট থেকে যাবেন আর ১০ তম উইকেট পতনে কে পড়বেন।
এমনও হতে পারে দুই জনই নট আউট থেকে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে বিরোধী পক্ষকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিবেন।
পিলখানা হত্যাকান্ড
বিভিন্ন বিশ্লেষক বলার চেষ্টা করছেন, পিলখানা হত্যাকান্ড দিবসে রাওয়া ক্লাবে দেওয়া বক্তব্যের পর ড.ইউনুস ক্ষিপ্ত হয়ে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে পদত্যাগ করতে বলেছেন।
এই নিউজটি একাধিক বিশ্লেষক করেছেন।
কিন্তু খবরটি আমার কাছে শ্রেফ ভুয়া এবং প্রপাগাণ্ডা বলে মনে হয়।
ড.ইউনুস এমন কাজ অন্তত এই মূহুর্তে করবেন না।সেনাপ্রধানকে পদত্যাগ করতে বলার মধ্যে এই মূহুর্তে ড.ইউনুসের জন্য বিরাট ঝুঁকি আছে।
ড.ইউনুস কোন শক্তির উপর ভিত্তি করে সেনাপ্রধানকে পদত্যাগ করতে বলবেন?
তার পেছনে কি সেই শক্তি আছে?
ড.ইউনুসের পক্ষে দেশের মধ্যে কিছু শক্তি তাকে সমর্থন দিবে হয়ত কিন্তু সেনাপ্রধানকে পদত্যাগ করতে বলার পক্ষে সেই শক্তি কি ড.ইউনুসের জন্য পর্যাপ্ত?
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ড.ইউনুসের পক্ষে শক্তি কোথায়?
বাইডেন প্রশাসন থাকলে সেটি হয়ত সম্ভব ছিল। কারন ড.ইউনুসের প্রধান শক্তির উৎসই ছিল বাইডেন প্রশাসন। কিন্তু এখন তো বাইডেন ক্ষমতায় নেই। তাই ড.ইউনুসেরও খুব একটা ক্ষমতা নেই কিছু করার। তিনি এখন ঢাল তলোয়ার ছাড়া নিধিরাম সর্দার।
সেনাপ্রধান ওয়াকারকে এমন কথা বলে থাকলে বরং ড.ইউনুসের গদিই নড়বড়ে হয়ে উঠবে।
সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে একটি ক্ষুদ্র ফ্যাকশন ছাড়া অধিকাংশ জেনারেল এবং সেনা সদস্যরা ওয়াকার-উজ-জামানের একক কমান্ডেই চলবে।
সেক্ষেত্রে ড.ইউনুসের কি-ই বা করার ক্ষমতা আছে?
বরং ড.ইউনুসই সেনাপ্রধান এবং তার কমান্ডে পরিচালিত সেনাবাহিনীর সমর্থনে টিকে আছে?
এই সমর্থন প্রত্যাহার করলে ড.ইউনুসই থাকতে পারবেন না।
তাই যে খবরটি রটেছে তার কোন ভিত্তি আছে বলে মনে হয় না।
আমার কাছে অন্তত তাই মনে হয়েছে।
স্কারবোরো, কানাডা
