গরজটা ছিল ড.ইউনুস সরকারের

থাইল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাইডলাইনে বৈঠকে বসার গরজটা ছিল ডইউনুস সরকারের পক্ষ থেকে

থাইল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাইডলাইনে বৈঠকে বসার গরজটা ছিল ড.ইউনুস সরকারের পক্ষ থেকে।

ড.ইউনুসের পক্ষ থেকেই বিমসটেক সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদির সাথে যাতে সাইডলাইনে ড.ইউনুসের বৈঠক হয় তার জন্য অনেক আগেই ভারত সরকারকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল।এরজন্য প্রচুর দেন-দরবারও করা হয়েছিল।

- Advertisement -

নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠক করার জন্য ড.ইউনুসের মাথাব্যথা ছিল।

নরেন্দ্র মোদি শেষ পর্যন্ত সাইডলাইনে ড.ইউনুসের সাথে বৈঠক করেছেন।এটি কূটনীতিক শিষ্টাচার। তিনি বৈঠক  না করলেও পারতেন। কিন্তু একটি দেশের সরকার অনুরোধ জানিয়েছে আর সেই অনুরোধে সাড়া না দেওয়া একটি বড় প্রতিবেশী দেশের জন্য শোভন হতো না।

কিন্তু ইউনুস ভক্তরা দেখলাম এটিকে ড.ইউনুসের বিশাল বিজয়, বিশাল অর্জন বলে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে।এখানে ড.ইউনুস সরকারের কিসের বিজয় অর্জিত হয়েছে ঠিক বুঝলাম না! কি বিশাল অর্জন হয়েছে সেটিও ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না।

অনেকে দেখলাম ট্রলও করছে, একজন নোবেল লরিয়েটকে একজন চার বিক্রেতা চা পরিবেশন করছে।

বরং এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে  সারা বিশ্ব দেখলো ভারত সরকারকে ড.ইউনুসের অন্তবর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে অনেক  উস্কানিমূলক কথা-বার্তা বলার পরেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড.ইউনুসের সাথে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি ড.ইউনুসকে পুনরায় একই কথা বলেছেন, ভারত সরকার বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার চায় আর এরজন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন প্রয়োজন বলেও তারা ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

এখানে কি কোথাও ড.ইউনুসের অনির্বাচিত  অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে মেনে নেওয়া হয়েছে?

উত্তরটি হচ্ছে,বৈঠকের কোথাও এমন ইংগিত নেই বরং উল্টো ভারত বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার দেখতে চায় বলে তাদের ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এই ইচ্ছাটি শুধু ভারত সরকারের নয় বরং আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশে একটি অর্ন্তভুক্তিমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও একই কথা বার বার উচ্চারণ করেছে। এমনকি বাংলাদেশের সেনাপ্রধানও ডিসেম্বরের মধ্যে একটি  অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন। বারংবার তাগাদা দিচ্ছেন।

নরেন্দ্র মোদির পক্ষে ড.ইউনুসের সাথে বৈঠক করাটি সঠিক সিদ্ধান্ত। সারা বিশ্ব দেখলো, বাংলাদেশের ইউনুস সরকার ভারতের বিরুদ্ধে নানা provocative বক্তব্য দেওয়া সত্ত্বেও ভারত সরকার যথেষ্ট ধৈর্য্য এবং সহনশীলতা দেখিয়ে ড.ইউনুসের সাথে বৈঠক করেছে। বৈঠকে ভারত সরকারের যা বলার কথা ছিল সেই কথাগুলিই বলা হয়েছে।

ভারত সরকার সারা বিশ্বকে দেখিয়েছে, একটি দেশ তাদের সাথে কথা বলতে চেয়েছে , ভারত সরকার সেই কথা বলার সুযোগটি তাদের দিয়েছে। ভারতও এই বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বার্তাটি বাংলাদেশের সরকারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এখন আর কেউ ভারতের উপর কোন দোষ কিংবা দায় চাপাতে পারবে না।

বাংলাদেশে দীর্ঘ দিন অনির্বাচিত সরকার থাকার কারনে বাংলাদেশে কিছু একটা ঘটে গেলেও তার দায় এখন আর ভারতের উপর চাপানোর সুযোগ থাকবে না। কারন, সারা বিশ্ব দেখেছে এবং জেনেছে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যা কিছু করার তার সবগুলিই করা হয়েছে।

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent