
মানবিক করিডর থাকলে নিশ্চয়ই অমানবিক করিডরও আছে। তানাহলে মানবিক শব্দটি আসবে কেন?
শুধু করিডর বললেই তো হয়।
শুনলাম, ড.ইউনুসের অন্তবর্তীকালীন সরকার রাখাইদের জন্য শর্তসাপেক্ষে মানবিক করিডর দিতে নীতিগত ভাবে রাজি হয়েছে।
তার মানে যে পক্ষ বা পক্ষগুলি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে করিডর চেয়েছে সেই পক্ষ বা পক্ষগুলি বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া শর্তগুলি মেনে নিলে বাংলাদেশ সরাকার রাখাইনদেরকে মানবিক সহায়তার জন্য করিডর সুবিধা দিবে।
ড.ইউনুসের অন্তবর্তীকালীন সরকারের দেওয়া শর্তগুলি কি? জনগনের এই শর্তগুলি জানার অধিকার আছে। কারন, এই করিডরের জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হবে। দেশে নির্বাচিত সরকার নেই, সংসদ নেই। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল এবং জনগনের সম্পৃক্ততা জরুরী। এই সরকার অনির্বাচিত হওয়ায় কারো কাছে এই সরকারের কোন জবাবদিহীতা নেই। রাজনৈতিক দল এবং জনগনকেই এগিয়ে আসতে হবে।
মানবিক করিডর বলতে আমি যেটা বুঝি, যে করিডরের মাধ্যমে বেসামরিক সাহায্য অর্থাৎ ত্রান সামগ্রী, খাদ্য,বশ্র,ঔষধপত্র, চিকিৎসা সেবা ইত্যাদি আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে পৌঁছে দেওয়া।
কথা হচ্ছে, ড.ইউনুসের অন্তবর্তীকালীন সরকার যে শর্তগুলি দিয়েছেন সেই শর্তগুলি যদি করিডর মানবিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য দিয়ে থাকেন তবে তাতে কোন লুকোচুরি থাকার কথা নয়।।
তারা যদি শর্ত দিয়ে থাকেন যে, এই করিডরের মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র ত্রান সামগ্রী, খাদ্য-বশ্র,ঔষধপত্র, চিকিৎসা সেবা ইত্যাদি যাবে,কোন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম যেতে পারবে না, তাহলে প্রশ্ন থাকে, সেই ধরনের নির্ভেজাল, ইনোসেন্ট শর্ত হয়ে থাকলে তবে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে অসুবিধা কোথায়?
আসল কথা হচ্ছে, শর্তগুলি এত নির্ভেজাল আর ইনোসেন্ট না৷
অনুমান করতে পারি,ইউনুস সাহেব করিডরের বিনিময়ে ক্ষমতায় থাকার নিশ্চয়তা আদায়ের শর্ত দিয়েছেন। আমাকে এত দিন ক্ষমতায় রাখো, তাহলে আমি করিডর দিবো। শর্তটা অনেকটা এই ধরনের।
এর মধ্যে হয়ত আরও কিছু শর্ত থাকতে পারে। যেমন,বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যদি ড.ইউনুসের ক্ষমতায় থাকার ক্ষেত্রে বাঁধ সাধে সেক্ষেত্রে তারা সেনাবাহিনীকে খবদারী করবে। অর্থাৎ যে পক্ষ করিডর চেয়েছে সেই পক্ষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তরফ থেকে ইউনুসের বিরুদ্ধে আসা যে কোন ধরনের বাঁধা নিভৃত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরেকটি শর্ত থাকতে পারে বিগত সরকারের বিচার কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তারা কোন ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করবে না বরং এই বিচার সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।
তিন মাস পর আমেরিকার ট্যারিফ স্থগিতাদেশ উঠে গেলে বাংলাদেশের জন্য যেন তা শিথিল করা হয় সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে৷
যাইহোক, উপরের বিষয়গুলি আমার অনুমান মাত্র।আমার অনুমান ভুলও হতে পারে।
আরেকটি বিষয়। মায়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের ১৪ টি টাউন আরাকান আর্মির দখলে চলে গেছে। আর দুটি টাউন দখলে নেওয়া বাকী আছে।এই দুটি টাউন দখলে নিলেই রাখাইন পুরোপুরি আরাকান আর্মির দখলে চলে যাবে।
অন্য আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আরাকানিরা হচ্ছে বৌদ্ধ আর রোহিঙ্গারা মুসলিম। এদের মধ্যে দীর্ঘ দিনের বিরোধ রয়েছে। আরাকানিরা কখনই চাইবে না রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে নিজ ভূখণ্ডে ফেরত যাক।
আর এই করিডর দিয়ে মোটেও মানবিক সহায়তা যাবে না। করিডর দিয়ে যাবে সমরাশ্র আর তা দেওয়া হবে বিদ্রোহী আরাকান আর্মিদের হাতে।
ভাইলোগ, বাংলাদেশ পরাশক্তিদের নজরে পড়ে গেছে। সহজে মুক্তি নাই।
পাগলেও কিন্তু নিজের ভালোটা বুঝে।
কিন্তু বাংলাদেশের জনগন নিজের ভালোটা বুঝে না।
তাই এই জাতি নিয়ে ভেবে কোন লাভ নেই। যা ইচ্ছে তাই হোক।
স্কারবোরো, কানাডা
